সোমবার ২৭শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

তীব্র গরমে কক্সবাজারে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগী

তারেকুর রহমান   |   বুধবার, ১৮ মে ২০২২

তীব্র গরমে কক্সবাজারে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগী

গত এক সপ্তাহে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তীব্র গরমের সঙ্গে বেড়েছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

তাপদাহের কারণে অসুস্থ হয়ে অনেকেই ছুটছেন কক্সবাজারের বিভিন্ন হাসপাতালে। ১ সপ্তাহে প্রায় ৩০০ জন ডায়েরিয়া আক্রান্ত রোগী কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। বেডের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাদের ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের মেঝেতে। ডায়রিয়া রোগীর চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অন্য সময়ের তুলনায় তীব্র গরমে সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের চেয়ে বয়স্ক রোগী বেশি।

মঙ্গলবার বয়স্ক ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৪৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ জন রোগী ডায়রিয়ার চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন।

ইনানীর বাসিন্দা ফয়জুল হাকিম বলেন, ‘গত ২ দিন ধরে রোগী নিয়ে হাসপাতালে আছি। অতিরিক্ত গরমে বাড়ির ছোট ছেলে রিফাত ও আমার স্ত্রী সাবেকুন্নাহারের ডায়রিয়া হয়েছে। একসঙ্গে পরিবারের দুই সদস্যের ডায়রিয়া হওয়াতে অনেক কষ্ট পাচ্ছি। তাদের সেবা করে তুলতে প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

সদরের উত্তর ডিক্কুল এলাকার ফেরদৌস হাসান ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে গত ৪ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তিনি আজ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। ফেরদৌস হাসান বলেন, ‘কয়েকদিন যে গরম পড়তেছে তা সহ্যের বাইরে। গরমের তীব্রতায় ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। আজ মোটামুটি ভালো লাগছে তাই বাড়ি চলে যাচ্ছি। এই ক’দিনে দেখলাম প্রতিদিন অনেক ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছে।’

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শায়লা বলেন, ‘বিশুদ্ধ পানির অভাবে মুলত ডায়রিয়া রোগ বেড়েই চলছে। কক্সবাজারে উপকূলীয় অঞ্চলে অনেক গভীর থেকেও যে পানি পাওয়া যায় তাতে লবণের অস্তিত্ব থাকে। ফলে সেই পানি পেটে গেলে ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়েছে। অতিরিক্ত তাপদাহের কারণে পানিশূন্যতাসহ অনেকেই এ সময় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতিদিন শিশু ও বয়স্ক নারী-পুরুষ ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হচ্ছেন। বর্তমানে বয়স্ক ওয়ার্ডে ৪৫ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি আছে। আর শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে প্রায় ৪০ জন মতো। আর প্রতিদিন প্রায় ৩০ জন সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরছেন।’

তীব্র গরমে অনিরাপদ পানি পান না করে নিরাপদ পানি ব্যবহার করলে ডায়রিয়া রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে এমনটাই বলছেন ডা. শায়লা। লোকজন যদি ডায়রিয়া থেকে একদম দূরে থাকতে চায় তবে রান্না-বান্নাতেও বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের বিকল্প নেই বলে জানান এই মেডিক্যাল অফিসার।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের প্রধান আবহাওয়াবিদ আবদুল হামিদ মিয়া জানান, কক্সবাজারে প্রতিদিনই তাপমাত্রা ৩৩-৩৬ ডিগ্রি রেকর্ড করা হচ্ছে। সোমবার কক্সবাজারের তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। আজ মঙ্গলবার তা আরো বেড়েছে। তাপমাত্রা এখনো রেকর্ড করা হয়নি। তবে আজকের তাপমাত্রা ৩৬ এর কাছাকাছি হতে পারে।

তিনি জানান, কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে বৃষ্টিপাত হলেও এই গরমটা থাকবে। এই মাসের শেষে করে মৌসুমি বায়ু শুরু হতে পারে। মৌসুমি বায়ু শুরু হলে তখন গরম কমে যাবে।

Comments

comments

Posted ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৮ মে ২০২২

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com