বৃহস্পতিবার ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

তুমব্রু সীমান্তে বিজিপির শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষণ

দেশবিদেশ রিপোর্ট   |   বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

তুমব্রু সীমান্তে বিজিপির শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষণ

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বরাবর মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) গতকাল মঙ্গলবার ভোরে আকস্মিক ব্যাপক গুলি বর্ষণ করেছে। কক্সবাজারের উখিয়ার পাশর্^বর্তী উপজেলা নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় মিয়ানমার বাহিনীর ফাঁকা গুলি বর্ষণে সীমান্তে ভীতির সঞ্চার হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪ টা থেকে ৪ টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ২০ মিনিটে কমপক্ষে ২০০/৩০০ রাউন্ড গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে সীমান্তের লোকজন জানিয়েছেন। তবে বিজিবি সুত্রে জানা গেছে, বিজিপি ১২০/১২৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করেছে। সীমান্তে আকস্মিক কেন এবং কি উদ্দেশ্যে এরকম গুলি বর্ষণের ঘটনা তা বলা যাচ্ছেনা। তবে অনেকেই মনে করছেন, মিয়ানমার বাহিনী যে কোন প্রকারেই একটি ইস্যু খুঁজছে। একারনেই উস্কানিমূলক আচরণ করছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র উপ অধিনায়ক মেজর ইকবাল আহমদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান-‘ তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মঙ্গলবার ভোর বেলায় ১২০১২৫ রাউন্ড রাউন্ড গুলিবর্ষণ হয়েছে। কী কারণে এ গুলি বর্ষণ করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।’ তিনি বলেন, এ ঘটনার পর পরই তাৎক্ষনিক বিজিবি প্রতিবাদ জানিয়েছে। সেই সাথে আনুষ্টানিক প্রতিবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তুমব্রু শূণ্যরেখায় বসবাসকারি রোহিঙ্গা নেতা দীল মোহাম্মদ জানান-‘ আমরা যখন ঘুমে ছিলাম সেই ভোর সাড়ে ৪ টায় আকস্মিক তুমবুরু মাইক পাহাড়ের বিজিপি ক্যাম্প থেকেই প্রথম গুলি বর্ষণের শব্দ শুনতে পাই। এরপর দেখি সীমান্তের সবগুলো বিজিপি ক্যাম্প থেকে শুধু গুলি আর গুলির শব্দ।’
রোহিঙ্গা নেতা দীল মোহাম্মদ জানান, বিশ মিনিটে কমপক্ষে ২/৩শ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর ৪ টি স্থায়ী সহ ১৫ টি বিজিপি ক্যাম্প রয়েছে। সীমান্তের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মাত্র ৪/৫ কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে এসব বিজিপি সীমান্ত ক্যাম্প। ঠিক একই সময়েই গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। তিনি আরো বলেন, বিজিপি’র স্থায়ী ক্যাম্প গুলো থেকে ভারী অস্ত্রের গোলাও বর্ষণ করা হয়েছে।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সীমান্তের বিজিপি ক্যাম্প থেকে গুলি বর্ষণের সময় তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় রোহিঙ্গা শিবির সহ বাংলাদেশ সীমান্তের ঘরে ঘরেও আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
রাখাইনে ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী জাতিগত নিধন চালায়। সে সময়ে প্রাণ বাঁচাতে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার রোহিঙ্গা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নেন।

Comments

comments

Posted ১:৩০ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com