রবিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

সিনহা হত্যা

তৃতীয় দিনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন পরবর্তী ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর

  |   বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট ২০২১

তৃতীয় দিনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন পরবর্তী ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর

দেশবিদেশ প্রতিবেদক:

আমরা অত্যন্ত আশাবাদী, আমরা ন্যায়বিচার পাব -শারমিন শাহরিয়া
আশাকরি বিজ্ঞ আদালত ন্যায় বিচার করবেন -সিফাত
এজাহার এবং জবানবন্দিতে সাক্ষী সিফাতের বক্তব্যে গড়মিল রয়েছে -এড. রানা দাশ গুপ্ত

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। টানা তিনদিন সাক্ষ্যগ্রহণে মামলার বাদী শারমিন সাহরিয়া ফেরদৌস ও সাহেদুল ইসলাম সিফাতের সাক্ষ্য দিয়েছেন। অন্যান্য সাক্ষীদের আগামী ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৫ আগস্ট) দিনব্যাপী সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল এ আদেশ দেন।

বুধবার সকাল ১০ টা ৪০ মিনিটে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে সিনহার সঙ্গী সাহেদুল ইসলাম সিফাতের মূলতবী সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে দিনের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সাহেদুল ইসলাম সিফাতের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হয়। এর পুর্বে সকাল পৌণে ১০ টায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে ১৫ আসামীকে কড়া পুলিশ পাহারায় আদালতে আনা হয়। ওসি প্রদীপ এর আদালত কক্ষে মোবাইল ফোনে কথা বলার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার সকাল থেকে আদালত ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। আদালতে দায়িত্বে অবহেলার কারণে তিন পুলিশকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। এদিকে সিনহা হত্যার সুষ্টু বিচারের দাবীতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন সংগঠন।

রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী ও কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম জানান, ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট টানা তিনদিন সাক্ষ্যগ্রহণের পর মামলার বাদী অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ২নং সাক্ষী সাহেদুল ইসলাম সিফাতের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেন। বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর ৪দিন পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছে বিজ্ঞ আদালত।

সন্ধ্যায় আদালত থেকে বেরিয়ে মামলার সাক্ষী শাহেদুল ইসলাম সিফাত সাংবাদিকদের জানান, মেজর সিনহা পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে। আশাকরি বিজ্ঞ আদালত ন্যায় বিচার করবেন।

মামলার বাদী ও মেজর সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, মামলার বিষয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। মামলা দ্রুত শেষ হবে কি হবে না এটি সাক্ষীদের উপর নির্ভর করবে। এই মুহূর্তে কোন মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে খুব সুন্দর প্রক্রিয়ায় বিচার কার্যক্রম চলছে। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী, আমরা ন্যায়বিচার পাব।

আসামী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত জানান, মামলার এজাহার এবং জবানবন্দিতে সাক্ষী সাহেদুল ইসলাম সিফাতের বক্তব্যে গড়মিল রয়েছে। মামলার অভিযোগকারী ১নং সাক্ষী যে জবানবন্দী দিয়েছেন, ২নং সাক্ষী সিফাতের বর্ণনাও তার চাইতে ভিন্ন ছিলনা। এজাহার, অভিযোগ এবং সাক্ষীর জবানবন্দীর বিষয়ে আইনগত যুক্তিতর্ক হবে।

এর আগে গত ২৩ আগস্ট মামলায় সাক্ষ্যদানের ধার্য দিনের প্রথম দিনে আদালতে জবানবন্দি দেন মামলার বাদী ও সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। পরে দ্বিতীয় দিন বিকাল ৫ টা ২০ মিনিটে শেষ হয় ১৫ আসামীর আইনজীবীর জেরা। এরপর আদালতে সাক্ষ্য দেন ঘটনার সময় সিনহার সঙ্গে একই গাড়ীতে থাকা সঙ্গী সাহেদুল ইসলাম সিফাত। দ্বিতীয় দিনে সিফাতের সম্পূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়নি। এতে রাত ৮ টায় বিচার কার্যক্রম মূলতবী ঘোষণা করে তৃতীয়দিনে তা গ্রহণ করার আদেশ দেন আদালত। এরপর বুধবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে শুরু হয় আদালতের মুলতবি করা কার্যক্রম।

গত বছর ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এঘটনায় সে সময় সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামী করা হয় লিয়াকত আলীকে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় একটি এবং রামু থানায় আরেকটি মামলা করে।

সিনহা নিহতের ছয় দিন পর লিয়াকত আলী ও ওসি প্রদীপসহ সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার অভিযোগে টেকনাফ থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষী এবং শামলাপুর চেকপোস্টে ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনকারি আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের (এপিবিএন) তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর টেকনাফ থানার সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গত ২৪ জুন মামলার অন্য পলাতক আসামী টেকনাফ থানার সাবেক এএসআই সাগর দেব আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আসামীদের মধ্যে ওসি প্রদীপ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা ছাড়া অন্য ১২ জন আসামী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তদন্ত শেষে গত বছর ১৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা তৎকালীন র‌্যাব ১৫-এর সহকারি পুলিশ সুপার মো. খাইরুল ইসলাস ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

গত ২৭ জুন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচার মোহাম্মদ ইসমাইল মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

মামলার আসামীরা হলেন- বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সাবেক পরির্দশক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল-মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এপিবিএন এর তিন সদস্য এসআই মোহাম্মদ শাহজাহান, কনস্টেবল মোহাম্মদ রাজীব, মোহাম্মদ আব্দুল¬াহ, পুলিশের মামলার তিন সাক্ষী নুরুল আমিন, নেজাম উদ্দিন, মোহাম্মদ আয়াজ, টেকনাফ থানার সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও সাবেক এএসআই সাগর দেব। গত ২৭ জুন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচার মোহাম্মদ ইসমাইল মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

এডিবি/জেইউ।

Comments

comments

Posted ২:১১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

দশ বছর পর
দশ বছর পর

(1004 বার পঠিত)

(815 বার পঠিত)

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com