শনিবার ২৯শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

দুগ্ধপোষ্য শিশু ও স্বামীকে জিন্মি করে নারী পর্যটককে গণধর্ষণ

দেশবিদেশ রিপোর্ট   |   শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১

দুগ্ধপোষ্য শিশু ও স্বামীকে জিন্মি করে নারী পর্যটককে গণধর্ষণ

রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে কক্সবাজার বেড়াতে এসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক নারী। কক্সবাজার সৈকতের চিহ্নিত সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারির দল ওই পর্যটক নারীর বুক থেকে দুগ্ধপোষ্য ৮ মাসের শিশু সন্তানকে কেড়ে নিয়ে স্বামী কে সহ জিম্মি করে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারের সৈকতে ভ্রমণে গিয়ে পর্যটক নারী গণধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় চলছে। এ ব্যাপাওে হোটেল জিয়া গেষ্ট ইন এর ম্যানেজার রিয়াজুদ্দিন ছোটনকে ঘটনসার সাথে জড়িত থাকার দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে গতরাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় পর্যটক নারী ধর্ষণের ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। থানার ওসি মুনীর উল গীয়াস জানান, ধর্ষিতা নারী পর্যটকের স্বামী মামুন মিয়া বাদী (সংবাদদাতা) হয়ে দায়ের করা মামলায় ৪ জন আসামীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা যথাক্রমে আরিফুল ইসলাম আশিক, বাবু, ইসরাফিল ও রিয়াজ উদ্দিন ছোটন। মামলায় আরো ২/৩ জন অজ্ঞাতনামা রয়েছে। মামলাটি তদন্ত করবে ট্যুরিষ্ট পুলিশ।

অভিযোগ উঠেছে, অবরুদ্ধ হোটেল কক্ষ থেকে ছাড়া পেয়ে ধর্ষিতা পর্যটক নারী ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়েও কোন সহযোগিতা পাননি। বরং পুলিশের তরফে তাকে (পর্যটক নারী) থানায় গিয়ে জিডি করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পর্যটক নারীর অভিযোগ হচ্ছে-তিনি যখন ৯৯৯ নম্বরে কল করেন তখন তাকে সরাসরি কক্সবাজার সদর মডেল থানার সাথে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়। মডেল থানা থেকে তাকে থানায় গিয়ে জিডি করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে গতকাল সন্ধ্যায় এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুনির উল গীয়াস বলেন-‘৯৯৯ থেকে আমার থানায় কেউ ফোন দেননি। যেটা বলা হচ্ছে এটা সঠিক নয়।’ ওই নারী জানান, পরে সড়কের ধারে টাঙ্গানো বিলবোর্ড থেকে র‍্যাব-১৫ এর নম্বর নিয়ে ফোন দিয়ে র‍্যাবের সহযোগিতায় ওই পর্যটক নারী জেলা সদর হাসপাতালে ভর্ত্তি হন।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রফিকুল ইসলাম পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন-‘ সাগর পাড়ে বেড়াতে এসে এত বড় একটি ষ্পর্শকাতর ঘটনা ঘটে যাবার পর পুলিশের নিস্ক্রিয়তার সুযোগ কোনভাবেই থাকে না। ঘটনা জানার পর পরই জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং হাসপাতালে গিয়ে ভিকটিম পর্যটক নারীর সাথে কথা বলেছেন।’ তিনি বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ওই নারী ফোন দেওয়ার কথা বললেও ৯৯৯ থেকে থানা পুলিশের কাছে ফোন দেওয়া হয়নি। এমনকি তদন্ত করেও ৯৯৯ নম্বওে ওই নারীর ফোন করার কোন রেকর্ড পাওয়া যায়নি।

র‍্যাব-১৫ এর পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে জিয়া গেষ্ট ইন নামের হোটেলটির ম্যানেজার রিয়াজুদ্দিন ছোটনকে আটক করা হয়েছে। সেই সাথে ঘটনার সাথে জড়িত ছিনতাইকারি সিন্ডিকেট প্রধান আরিফুল ইসলাম আশিক ও আবদুল জব্বার জয় নামের দুই দুর্বত্তকে শনাক্ত করা হয়েছে।  তাদের শনাক্ত করা হয়েছে ওই হোটেলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে। আরেকজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তারা সবাই শহরের বাহারছড়া মহল্লার বাসিন্দা। আশিক চার মাস আগে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। তিনি ছিনতাই, মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি।

গতকাল বৃহস্পতিবার কক্সবাজার র‍্যাব-১৫-এর সিপিসি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান ওই নারীর বরাত দিয়ে বলেন, গত মঙ্গলবার ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে স্বামী-সন্তানসহ কক্সবাজার বেড়াতে আসেন তারা (ওই নারী পর্যটক)। তারা শহরের হলিডে মোড়ের একটি হোটেলে কক্ষ ভাড়া নিয়ে ওঠেন।

ওই হোটেল থেকে তারা বিকেলে যান লাবনী পয়েন্টের সৈকতে। সেখানে অপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগা নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সন্ধ্যার পর পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে ছিনতাইকারির দল তার বুক থেকে আট মাসের সন্তানকে ছিনিয়ে নেয় এবং তার স্বামীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। এ সময় আরেকটি অটোরিকশায় ওই নারীকে তুলে নেয় তিন যুবক।

এরপর পর্যটন গলফ মাঠের পেছনে সানি বীচ এলাকার ঝাউবীথির একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে তিনজন। পরবর্তীতে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় জিয়া গেস্ট ইন নামে একটি হোটেলে। সেখানে আরেক দফা তাকে ওই তিন যুবক ‘সংঘবদ্ধ’ ধর্ষণ করে বলে ওই নারীর অভিযোগ। ঘটনা কাউকে জানালে সন্তান ও স্বামীকে হত্যা করা হবে বলেও তিন যুবক তাকে হুমকি দিয়ে হোটেল কক্ষে তালা লাগিয়ে দিয়ে তারা সটকে পড়ে।

ওই নারী আরো জানান, জিয়া গেস্ট ইনের তৃতীয় তলার জানালা দিয়ে এক যুবকের সহায়তায় কক্ষের দরজা খোলেন তিনি। তারপর হোটেল ম্যানেজার ছোটনের কাছে রাখা মোবাইল নিয়ে তার স্বামীকে ফোন দিয়ে তারা একত্রিত হন। পরবর্তীতে নারী ফোন দেন ৯৯৯-এ। পুলিশ তাকে থানায় সাধারণ ডায়রি করার পরামর্শ দেয়। পরে র‍্যাবকে ফোন দিলে দ্রুত র‍্যাব সদস্যরা এসে তাদের উদ্ধার করে।

তবে হোটেল জিয়া গেষ্ট ইন এর স্বত্বাধিকারি হাবিবুর রহমান গতকাল দাবি করেছেন, পর্যটক নারী ও আশিক স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রুধবার রাত-৯ টা ৪ মিনিটের সময় হোটেলের ২০১ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নেয়। প্রায় ঘন্টা খানেক পর তারা আবার হোটেলের বাইরে চলে যায়।  এরপরই হোটেলে ওই নারী র‍্যাব সদস্য সহ আসেন।

মেজর মেহেদী হাসান বলেন, ধর্ষিতা নারী পর্যটককে র‍্যাবের নারী সদস্যদের সহযোগিতায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে হাসপাতালে সদর মডেল থানার পুলিশ গিয়ে ঘটনার সাথে যুক্ত হন বলে জানান ওই নারী পর্যটক।

খেঁাজ নিয়ে জানা গেছে, হোটেল জিয়া গেষ্ট ইন এর ম্যানেজার রিয়াজুদ্দিন ছোটন হচ্ছে সৈকতের ছিনতাইকারি দলনেতা আরিফুল ইসলাম আশিকের ঘনিষ্ট বন্ধু। প্রায় সময় আশিক উক্ত হোটেলে যাওয়া আসা করতেন। হোটেলটির বয় মাঈনুদ্দিন জানান-‘আশিক ও তার দলবল নিয়ে প্রায়শ হোটেলে যাতায়াত করতেন। ম্যানেজার ছোটনের সাথে ছিল তার সখ্য।’ র‍্যাব সুত্রে জানা গেছে, আটক হোটেল ম্যানেজার ছোটনের মোবাইল কললিষ্টেও ছিনতাইকারি আশিক সহ আরো বেশ কয়েকজনের নম্বর রয়েছে এবং তাদের সাথে যোগাযোগেরও প্রমাণ মিলেছে।

সৈকতের একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, শহরের বাহারছড়া মহল্লার মোহাম্মদ করিমের সন্তান আশিক একজন চিহ্নিত ছিনতাইকারি। তার নেতৃত্বে সৈকতে ২০/২৫ জনের সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারির দল রয়েছে। সৈকতজুড়ে বেপরোয়া হয়ে পড়েছে ছিনতাইকারির দল। তারা প্রতিদিন সন্ধ্যার পর সাগর পাড়ের ঝাইবিথির আড়ালে মাদকের আড্ডা বসায়। পরে কয়েক দলে ভাগ হয়ে পর্যটক ছিনতাইয়ে নেমে পড়ে। মাঝে মধ্যে ধরা পড়ে জেলে যায়।

সর্বশেষ চার মাস আগে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ভরা পর্যটন মৌসুমের সুযোগে আশিক আবারো তার দলবল নিয়ে নেমে পড়েছে পর্যটক শিকারের কাজে। সৈকতে প্রতিদিন তারা টার্গেট করে পর্যটকদের সাথে ঝগড়া বিবাদ বঁাধিয়ে একের পর এক এধরণের ঘটনা ঘটায়। গেল সপ্তাহেও সুগন্ধা পয়েন্টে ছুরিকাঘাত কওে পর্যটকের সর্বস্ব ছিনতাই করা হয়। তবে ঘটনার দুইদিনের মাথায় ছিনতাই করা মালামাল সহ ২ ছিনতআকিারি কে আটক করে ট্যুরিষ্ট পুলিশ।

 

Comments

comments

Posted ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com