• শিরোনাম

    বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধন

    দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলবে, আমার আত্মীয় হলেও ছাড় নয় : প্রধানমন্ত্রী

    দেশবিদেশ অনলাইন ডেস্ক | ০৩ অক্টোবর ২০১৯ | ১:১৩ পূর্বাহ্ণ

    দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলবে, আমার আত্মীয় হলেও ছাড় নয় : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা অভিযান শুরু করেছি। অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা ব্যবস্থা নেব, সে যেই হোক না কেন। এখানে দল, মত, আত্মীয়, পরিবার বলে কিছু নেই। কাউকে ছাড় নয়। যারাই এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। গতকাল রাজধানীর প্যান-প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর বাণিজ্যিক সম্প্রচার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চলতি বাজেটে ১৭৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নেওয়া বা বাস্তবায়ন করার সময় মাঝে মাঝে দেখি যে, উইপোকা খেয়ে ফেলে। এখন এই উইপোকাগুলো ধরা আর সেগুলোকে বিনাশ করার চেষ্টা করছি। আর জনগণের কষ্টার্জিত প্রতিটি টাকা যেন সঠিকভাবে দেশের উন্নয়নে ব্যবহার হয়, তার জন্য আমরা প্রচেষ্টা নিয়েছি। তিনি বলেন, আমার হারানোর কিছু নেই; আমি বাবা-মা, ভাই সব হারিয়েছি। মানুষ একটার শোক সইতে পারে না, আমরা দুই বোন একই দিনে সব হারিয়েছি। সেই বেদনা, শোক বুকে নিয়েও আমার ফিরে আসা। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, দেশে এসে দায়িত্ব নেওয়ার পর একটাই কর্তব্য মনে করি, সেটা হচ্ছে আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন; এদেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চেয়েছেন; দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছেন। সেই দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোটাই হচ্ছে আমার একমাত্র কর্তব্য। নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য চালানোর পাশাপাশি দেশের উন্নয়নের গল্পগুলো জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সম্প্রচার মাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা আমাদের বিরুদ্ধে বলেন, বিরোধিতা করেন, আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু মিথ্যা অপপ্রচার যেন না হয় এ ব্যাপারে দয়া করে সতর্ক থাকবেন। কেননা মিথ্যা অপপ্রচার দেশের মানুষের ভিতর সন্দেহ ও সংঘাত সৃষ্টি করে। সেটা যেন না হয়। শেখ হাসিনা বলেন, কিছু না হোক, গত ১০ বছরে কিছু কাজ তো করেছি। এটা তো অস্বীকার করতে পারবেন না। সেটাও একটু প্রচার করবেন, এটা আমরা চাই। কেননা আপনি তখনই কাজ করে সফলতা পাবেন, যখন মানুষের ভিতর তা নিয়ে একটা আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠবে। তাই এমন কিছু করবেন না যে আমাদের দেশের মানুষ এত কিছু পাওয়ার পরেও আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, দিশাহারা হয়ে যায়। কাজেই যতটুকু ভালো কাজ করেছি ততটুকুর প্রচার আমি দাবি করছি। সম্প্রচার মাধ্যম কর্তৃপক্ষ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে আমি সত্যিই খুব আনন্দিত যে, আমাদের সব টিভি চ্যানেল কর্তৃপক্ষ বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রচার শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আজকে আমরা একই সঙ্গে সেই সম্প্রচার উদ্বোধন করছি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের টেলিভিশন সম্প্রচারের ক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগ হলো। একটি নতুন অগ্রযাত্রা শুরু হলো। বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়া করে এতদিন সম্প্রচার কাজ চালানোর বদলে এখন থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার করায় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর অনেক অর্থ সাশ্রয় হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। রসিকতা করে তিনি বলেন, এখন সেই টাকা কী করবেন, সেটা নিয়েও আমার প্রশ্ন আছে। কিছু টাকা দান-টান করে দিয়েন গরিব মানুষের জন্য। কারণ অনেক টাকাই আপনাদের বেঁচে যাচ্ছে। এ ছাড়া টাকা অর্জন করা, পাঠানোসহ নানা ঝামেলাও ছিল। কবে আবার কে কোন মামলায় পড়ে যান সেটাও চিন্তা ছিল! সেই দুশ্চিন্তাটাও কিন্তু দূর হয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে সম্প্রচারের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক সম্প্রচারের পথে অনেক বাধাই দূর হয়ে যাবে। এতদিন পরনির্ভরশীল হয়ে থাকা লাগত, এখন আর তা লাগবে না। অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকা লাগবে না। আমরা এখন নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর একটা সুযোগ পেলাম, আত্মমর্যাদা নিয়ে চলার একটা সুযোগ পেলাম,’ চ্যানেল মালিকদের বলেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে এতগুলো টেলিভিশন চ্যানেল থাকবে, সেগুলো দেখার সক্ষমতাও তো দেশের মানুষের থাকতে হবে। সেজন্য কাজ করে যাচ্ছে সরকার। দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণেও দেশে তৈরি হচ্ছে আভাস দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, একটা স্যাটেলাইটের নির্দিষ্ট সময় থাকে ১৫ বছর। এর মধ্যে আরেকটা আমাদের আনতে হবে। এর মধ্যে পাঁচ বছর হয়ে গেছে। দ্বিতীয়টা তৈরি করা শুরু করেছি, সময় থাকতে নিয়ে আসব। সেটা আমরা একটু বড় আকারে করতে চাই। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার সন্তান এবং তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের কৃতিত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল। আমি বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী, ডিজিটাল শব্দটি আমি জানতাম না। এটা আমাকে দিয়েছিল সজীব ওয়াজেদ জয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াবে। কারও কাছে হাত পেতে চলবে না। আজকে আমাদের বাজেটের সব অর্থ আমাদের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে আসে। আর বিদেশি কিছু ঋণ সহযোগিতা থাকে সেটা ১০ থেকে ১৪ শতাংশের বেশি নয়। এই নিজস্ব অর্থে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর যে সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি তা আমাদের ধরে রাখতে হবে। দেশব্যাপী ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় তার সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে, মানুষের কর্মসংস্থান হবে, উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। কাজেই এই রপ্তানিকে আমরা বহুমুখী করতে চাই। কোনো একটা পণ্যের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চাই না। ’৯৬ সালে সরকারে আসার পর বেসরকারি খাতে টেলিভিশন উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, তখন অনেকেই এত অভিজ্ঞ ছিল না; অতটা সাড়াও পায়নি। কিন্তু যারা চেয়েছিল তাদের সবাইকেই টেলিভিশন দিই।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    মাতারবাড়ী ঘিরে মহাবন্দর

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ