• শিরোনাম

    দুর্নীতির কারণে উন্নয়নের ক্ষতি বরদাশত করা হবে না: প্রধানমন্ত্রী

    দেশবিদেশ অনলাইন ডেস্ক | ১৩ জুলাই ২০১৯ | ৮:৪৭ অপরাহ্ণ

    দুর্নীতির কারণে উন্নয়নের ক্ষতি বরদাশত করা হবে না: প্রধানমন্ত্রী

    দুর্নীতির কারণে উন্নয়নের ক্ষতি বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থা প্রধানদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের উন্নয়ন যেন কোনোভাবে দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে সকলকে আরও ভালভাবে নজর রাখতে হবে। একেবারে নিম্নস্তর পর্যন্ত যারা কাজ করে তাদেরকে এ ব্যাপারে সচেতন করতে আপনাদেরই নির্দেশনা দিতে হবে।’

    শনিবার (১৩ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শাপলা হলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান-২০১৯ এ প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে স্ব স্ব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পক্ষে সিনিয়র সচিব ও সচিবরা ২০১৯-২০ অর্থবছরের কর্মসম্পাদন চুক্তিতে সই করে প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই চুক্তিপত্র তুলে দেন।

    দুর্নীতি প্রতিরোধ নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সারাদিন খেটেখুটে এতো কাজ করি, এখন যদি দুর্নীতির কারণে সব নষ্ট হয়ে যায়, এটা সত্যি খুব দুঃখজনক। দুর্নীতির ক্ষেত্রে আমি বলবো, কেউ ঘুষ নিলেই শুধু সে অপরাধী হবে তা না, যে দেবে সেও অপরাধী। কাজেই যে দেবে সেও অপরাধী, যে নেবে সেও অপরাধী।’

    জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ সারা বিশ্বব্যাপী একটা সমস্যা। তারপরও বাংলাদেশে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি এবং সেটাও আমাদের ধরে রাখতে হবে। সাথে সাথে আমাদের উন্নয়নটা যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় দুর্নীতির কারণে সে বিষয়টাও সকলকে আরও ভালভাবে দেখতে হবে। মানুষের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে, সেদিকে লক্ষ রেখেই কাজ করতে হবে।

    বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির মাধ্যমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। এরই অংশ হিসাবে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির বাস্তবায়নে সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ ১০টি মন্ত্রণালয়/বিভাগকে সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়। সার্বিক মূল্যায়নে বিদ্যুৎ বিভাগ প্রথম স্থান অর্জন করে। আর জাতীয় শুদ্ধাচার চর্চার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগকে পুরষ্কার দেওয়া হয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা অত্যন্ত সময়োপযোগী ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কোন মন্ত্রণালয় কার কি কাজ বা এখানে শুধু সরকার প্রধানের সাথেই নয় তাদের নিজস্ব মন্ত্রণালয়ের সাথে বিভিন্ন বিভাগ এবং একেবারে নিম্ন পর্যায় পর্যন্ত কাজটা কি হবে, তার একটা দিক নির্দেশনা কিন্তু সকলে পাচ্ছেন। কর্মসম্পাদন চুক্তির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমিকভাবে একেবারে বিভিন্ন স্তর পর্যন্ত চলে যাওয়াতে আজকে তার চমৎকার ফলাফল পাচ্ছি এবং দেশটা দ্রুত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

    সরকারি কাজে লাল ফিতার দৌরাত্ম নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই লাল ফিতার দৌরাত্মটা যাতে কমে যায় তার পদক্ষেপও আমরা নিয়েছি এবং সেটা আরও গতিশীল করতে হবে আমাদের। কারণ এখন তো ডিজিটাল যুগ। তার সঙ্গে তাল মিলে আমাদের চলতে হবে।

    শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যখন নেন, স্বাভাবিকভাবে সেই মন্ত্রণালয়ের কি কি কাজ বা কিভাবে কোন কাজটা করলে দেশটা আরও উন্নত হতে পারে বা দ্রুত কাজগুলো বাস্তবায়ন করে দেশকে আরও এগিয়ে নিতে পারি, সেইটা আপনাদের চিন্তা করতে হবে, ভাবতে হবে। এটা একটা বিরাট দায়িত্ব। এই দায়িত্বটা আপনারা যথাযথভাবে পালন করবেন।

    মুজিব বর্ষ উদযাপনের কথা তুলে শেখ হাসিনা বলেন, এরই মধ্যে বাংলাদেশে একটা ভিক্ষুকও থাকবে না। একটা মানুষ গৃহহারা থাকবে না। একটা মানুষ না খেয়ে কষ্ট পাবে না। অন্তত মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করার চেষ্টা করা হবে। এখনই সবাই খুব স্বচ্ছল হবে তা না। কিন্তু তাদের জীবনের যে ন্যূনতম চাহিদা সেটা যেনো পূরণ করতে পারি, সেই লক্ষ্যটা সামনে রেখেই আমাদের সমস্ত পরিকল্পনা এবং সমস্ত কাজ করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়কারী মো. আবুল কামাল আজাদ। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    মাতারবাড়ী ঘিরে মহাবন্দর

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ