সোমবার ১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

দেরি হওয়ার আগেই চোখ খুলুন, সু চি’কে জাতিসংঘের দূত

দেশবিদেশ অনলাইন ডেস্ক   |   বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

দেরি হওয়ার আগেই চোখ খুলুন, সু চি’কে জাতিসংঘের দূত

মিয়ানমারের বেসামরিক নেতা অং সান সু চি। ছবি-ডেইলি স্টার

রোহিঙ্গা ইস্যুতে খুব বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই মিয়ানমারের বেসামরিক নেতা অং সান সু চি’কে চোখ খুলে দেখতে অনুরোধ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াং হি লি। গতকাল মঙ্গলবার মানবাধিকার কাউন্সিলকে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানাতে গিয়ে এ অনুরোধ করেন তিনি। এ সময় যেসব রোহিঙ্গা দেশে ফিরতে চায়, সু চি তাদের সুযোগ করে দেবেন এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন ইয়াং হি লি।

সু চিকে উদ্দেশ্য করে জাতিসংঘের দূত বলেন, ‘আমি স্টেট কাউন্সেলরকে জিজ্ঞাসা করতে চাই যে, আজ মিয়ানমারে যা হচ্ছে, তার জন্যই কি তিনি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক মিয়ানমার পাওয়ার জন্য তার নিরলস লড়াইয়ে দশকজুড়ে আকাঙ্ক্ষী ছিলেন? আমি ম্যাডাম স্টেট কাউন্সেলরকে আপনার চোখ খুলতে অনুরোধ করছি, শুনুন, আপনার হৃদয় দিয়ে অনুভব করুন এবং দেরি হওয়ার আগে দয়া করে আপনার নৈতিক কাজটি করুন।’

মিয়ানমারের পরিস্থিতি চরম উদ্বেগের উল্লেখ করে লি বলেন, ‘নির্বাচনের প্রায় চার বছর পর তিনি এবং অন্যরা মিয়ানমারের যে গণতন্ত্রের আশা করেছিলেন তা সেখানে বিদ্যমান নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নিন্দা সত্ত্বেও মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নিপীড়নের ব্যবস্থা ভেঙে ফেলার জন্য কিছুই করেনি। এ ছাড়া রাখাইনে যে রোহিঙ্গারা আছে তারা একইভাবে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বসবাস করছে। ঠিক ২০১৭ সালের আগস্টে যেমনটি ঘটেছিল।’

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব এবং স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি মিয়ানমার প্রত্যাখ্যান করেছে জানিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার দূত বলেন, ‘নিয়মিত সহিংসতার মুখোমুখি হয়ে রোহিঙ্গারা অবাধে চলাচল করতে পারছে না এবং খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জীবিকা এবং পরিষেবাগুলিও তারা খুব কম পাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে সামরিক বাহিনী রাখাইন রাজ্যের বেসামরিক অঞ্চলে হেলিকপ্টার গানশিপ, ভারী আর্টিলারি এবং ল্যান্ড মাইন ব্যবহার করছে। রাখাইনে পুরুষদের মারাত্মক নির্যাতন করা হয়েছে এবং রাখাইন গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’

এ ব্যাপারে তদন্তকারীরা বলেন, সেনা পদক্ষেপের বিষয়ে অং সান সু চি’র কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তবে মিয়ানমারের পার্লামেন্টে ৬০ শতাংশ আসন নিয়ন্ত্রণকারী একটি দলের প্রধান হিসেবে তিনি এমন একটি সরকারকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যেসব আইন পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে বলেও জানান ওই দূত।

লি আরও বলেন, ‘প্রত্যাবাসন সফল হওয়ার জন্য যা প্রয়োজন তা করেছে বলে দাবি করেছে মিয়ানমার এবং যেকোনো বিলম্বের জন্য তারা বাংলাদেশকে দোষ দিচ্ছে। তবে আমার কাছে থাকা তথ্য এর বিপরীতটি সত্য বলে আমাকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে।’

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দ্বারা হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের শিকার হয়ে রাখাইনের বাসিন্দারা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসের হিসেব অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট ২০১৭ সালে মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর দ্বারা শুরু হওয়া গণহত্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রায় ৬ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ৭ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এ মুহূর্তে কক্সবাজারে সব মিলিয়ে অন্তত ১১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে।

দেশবিদেশ /নেছার

Comments

comments

Posted ৯:৪১ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com