রবিবার ২৯শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম
অবশেষে বাজারের প্রায় সব দোকানে মূল্য! বাজার পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

দেশি মুরগির নামে বিক্রি হচ্ছে পাকিস্তানি মুরগি

শহীদুল্লাহ্ কায়সার   |   বৃহস্পতিবার, ০৯ মে ২০১৯

দেশি মুরগির নামে বিক্রি হচ্ছে পাকিস্তানি মুরগি

দৈনিক আজকের দেশবিদেশে সংবাদ প্রকাশ আর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের মুখে অবশেষে শহরের বড় বাজারের প্রায় সব দোকানে টাঙিয়ে দেয়া হলো ভোজ্যপণ্যের মূল্য তালিকা। মূল্য তালিকা টাঙানো হলেও এখনো রয়ে গেছে শুভঙ্করের ফাঁকি। প্রতিটি দোকানে কয়েক’শ পণ্য বিক্রি হলেও মূল্য তালিকা দেয়া হয়েছে মাত্র ২০ থেকে ৩০টির। তাতেও রয়েছে মূল্যের ভিন্নতা।
রমজান মাসে বাজারের অবস্থানে সরজমিনে পরিদর্শন করতে গতকাল ৮ মে বিকেলে শহরের বড়বাজারে যান জেলাপ্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। এ সময় তিনি বড় বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে, রমজান মাসে ধর্মীয় বিষয় বিবেচনা করে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানান। জেলাপ্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয় রাতে দৈনিক আজকের দেশবিদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, বেশ কয়েকবছর ধরে শহরের মুরগির বাজারে গিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা। চলতি রমজান মাসেও যার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ক্রেতাদের চোখে ধুলো দিয়ে মুরগি বিক্রেতারা হাতিয়ে নিচ্ছেন দ্বিগুণ মূল্য। গতকাল বড় বাজারে গিয়েও যা লক্ষ্য করা গেলো।
বাজারের অধিকাংশ মুরগি বিক্রেতা দেশি মুরগির নামে বিক্রি করছেন পাকিস্তানের রঙিন মুরগি। কক্সবাজারের মানুষের কাছে যা পাকিস্তানি কক নামে পরিচিত। দেশিয় মুরগির মতো দেখতে একই রকম হওয়ায় ক্রেতাদের পক্ষে বুঝা মুুশকিল কোন্টি দেশি আর কোন্টি পাকিস্তানি কক। ক্রেতাদের এই দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছেন মুরগি বিক্রেতারা। দেশিয় মুরগির নামে ধরিয়ে দিচ্ছে পাকিস্তাতি রঙিন মুরগি। গতকাল বিকেলে বড় বাজারে গিয়ে জানা গেছে, সেখানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। পাকিস্তানি রঙিন মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। আর দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায়। দেশিয় মুরগীর বিক্রির কথা বলা হলেও বাজারের অধিকাংশ বিক্রেতা পাকিস্তানি কককেই দেশি মুরগি বলে ক্রেতাদের বুঝিয়ে দিচ্ছেন।
দেশিয় মুরগি আর পাকিস্তানি মুরগি দেখতে হওয়ায় বিক্রেতারা অনায়াসেই ক্রেতাদের পাকিস্তানি মুরগি ধরিয়ে দিতে পারছেন। এক্ষেত্রে মূল্যে কিছুটা ছাড়ও দিচ্ছেন। দেশিয় মুরগির নামে পাকিস্তানি কক বিক্রি করছেন কেজিতে ৪৫০ টাকায়। ক্রেতারাও খুশিমনে দেশি মুরগি মনে করে এই মুরগি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রতিবেদকের সামনেই একজন মুরগি বিক্রেতা এক মহিলা ক্রেতাকে ৪৫০ টাকা দরে দুই কেজি পাকিস্তানি কক বিক্রি করেছেন দেশি মুরগির নামে। মহিলাটিকে এই প্রতিবেদক জিজ্ঞেস করতেই তিনি বললেন, দুই কেজি দেশি মুরগি কিনলাম। এটিতো দেশি মুরগি নয়, পাকিস্তানি রঙিন মুরগি। তখন ওই ক্রেতা রাগান্বিত হয়ে মুরগি বিক্রেতার কাছে কৈফিয়ত চাইলে বিক্রেতা টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন। এ ব্যাপারে বাজারের একজন মুরগি বিক্রেতার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুরগি ব্যবসার সাথে জড়িত না থাকলে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে মুরগি না খেলে বুঝা মুশকিল। কোন্টি দেশি আর কোন্টি পাকিস্তানি মুরগি। বেশিরভাগ সময় এ নিয়ে ক্রেতাদের প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।

Comments

comments

Posted ১:৫২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ মে ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com