• শিরোনাম

    শর্তে অনড় রোহিঙ্গারা

    দ্বিতীয় দফায় ভেস্তে গেলো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া

    নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ | ২২ আগস্ট ২০১৯ | ১১:১৮ অপরাহ্ণ

    দ্বিতীয় দফায় ভেস্তে গেলো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া

    প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্বিতীয় দফায় ভেস্তে গেছে রোহিঙ্গাদের অনড় অবস্থানের কারনে। ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসনের জন্য ১ হাজার ৩৭ পরিবারের ৩ হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গাকে ফেরার অনুমোদন দিয়েছিল মিয়ানমার সরকার। সে লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার থেকে নির্বাচিত ১০৩৭ পরিবার প্রধানদের সাথে যৌথভাবে সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু করে রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন ও ইউএনএইচসিআর। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩৬১ পরিবার প্রধানের সাক্ষাৎকার নেওয়া হলেও একটি পরিবারও মিয়ানমারে ফিরে যেতে সম্মত হয়নি। ফলে সকল প্রস্তুতি থাকার পরও বৃহস্পতিবার নির্ধারিত দিনে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। রোহিঙ্গারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে ৫টি শর্ত পূরন না হলে তারা ফিরবে না।

    কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম বৃহস্পতিবার দুপুরে টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে (ক্যাম্প-২৬) প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের জানান।
    এসময় তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একজন রোহিঙ্গাও যেতে রাজী না হওয়ায় প্রত্যাবাসন শুরু করা যাচ্ছে না। তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন ১০৩৭ পরিবারের মধ্যে ৩৬১ পরিবারের সাক্ষাতকার নেওয়া হয়েছে। সেখানে কেউ রাজী না হলেও বাকী পরিবারের কেউ রাজী হয়ে যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। যাদের এখনো সাক্ষাতকার গ্রহন বাকি রয়েছে। ১০৩৭ পরিবারের সাক্ষাতকার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তাদের সাক্ষাতকার গ্রহন করা হবে। রোহিঙ্গারা আগের চেয়ে অনেক নির্ভয় হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন তারা এখন সাক্ষাতকার প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন। রোহিঙ্গারা বিশ্বাস করছে তাদেরকে আমরা জোরকরে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাব না। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন প্রত্যাবাসনের ব্যর্থতা বাংলাদেশের নয়। এটা মিয়ানমার সরকার ও রোহিঙ্গাদের দ্বিপাক্ষিক সমস্যা। এছাড়া এনজিও ও ক্যাম্পে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের প্রত্যাবাসন বিরোধী কর্মকান্ড নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন উত্তর দেননি।

    এসময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৩জন কর্মকর্তা, বাংলাদেশস্থ চীন দূতাবাসের দুইজন, মিয়ানমার দূতাবাসের একজন প্রতিনিধি ছাড়াও দূর্যোগ মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ন সচিব ও জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি। এসময় চীন দূতাবাসের কর্মকর্তা জিং থিয়ান হো সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।
    পরে ক্যাম্পের বদরুল ও ইব্রাহিম নামে দুইজন রোহিঙ্গা নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের কাছে প্রত্যাবাসনের জন্য তাদের শর্তগুলো তুলে ধরেন।

    শর্তগুলি হচ্ছে রোহিঙ্গা স্বীকৃতি দিয়ে নাগরিকত্ব প্রদান, ভিটে-বাড়ি ও জমি-জমা ফেরত, আকিয়াব জেলায় এডিবি ক্যাম্পে আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নিজ বাড়ীতে ফেরত, বুচিদং ও মংডু জেলায় বিভিন্ন কারাগারে বন্ধি রোহিঙ্গাদের মুক্তি, হত্যা-ধর্ষনের বিচার ও জাতিসংঘ রক্ষী মোতায়েন।
    প্রসঙ্গত প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছিল। টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছিল। প্রস্তুত রাখা হয়েছিল রোহিঙ্গাদের পরিবহনের জন্য ৫ টি বাস, ৩টি ট্রাক ও ১২টি মাইক্রোবাস। এর আগে গত নভেম্বর মাসে প্রথমবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছিল।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ