বৃহস্পতিবার ১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

নাইক্ষ‍্যংছড়িতে ফুলঝাড়ুর আয়ে সমৃদ্ধ হচ্ছে অর্থনীতি

মো. ইফসান খান ইমন, নাইক্ষ্যংছড়ি   |   রবিবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২২

নাইক্ষ‍্যংছড়িতে ফুলঝাড়ুর আয়ে সমৃদ্ধ হচ্ছে অর্থনীতি

পাহাড়ের পাশ ঘেঁষে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় ফুলঝাড়ুর প্রধান কাঁচামাল ফুল ঝাড়ু গাছ। পার্বত্য বান্দরবানে ফুলঝাড়ু ব্যবসার একটি প্রাকৃতিক কারখানা। দিন দিন এ জেলার ফুলঝাড়ুর চাহিদা বাড়ছে দেশের অন্যান্য জেলাতে।

কারণ অন্যান্য ঝাড়ুর চেয়ে এখানের ফুল ঝাড়ুর কাঁচামালের গুণগতমান ভালো ও দেখতে সুন্দর, টিকে বেশি দিন ও দামেও কম। তাই দেশের অন্যান্য জেলার পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখান থেকেই ফুলঝাড়ু সংগ্রহ করে বেশি। পাহাড়ের এ ফুলঝাড়ু বিক্রি ওপর নির্ভর করে পাহাড়ের হাজারখানেক পরিবার, চলে হাজার মানুষের জীবন ও জীবিকা। এতে স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে এই ফুল ঝাড়ু।

নাইক্ষ্যংছড়ি বাজার এলাকার ও পুরাতন বাসস্টেশনের পাশে বিশাল খোলা মাঠ। সেখানেই জেলার বিভিন্ন উপজেলার স্থানীয় বাজার ও বিভিন্ন পাহাড়ি পল্লি থেকে সংগ্রহ করা ফুলঝাড়ু সারিবদ্ধভাবে শুকানোর প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। ১০-১৫ দিন শুকানো শেষেই এসব ফুলঝাড়ু পাইকারের মাধ্যমে পৌঁছে যাবে দেশের বিভিন্নপ্রান্তে।

নাইক্ষ্যংছড়ি পুরাতন স্টেশনের পাশেই ফুলঝাড়ুর আড়ত। আড়তদার মো. ইসলাম নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের মসজিদ গুনা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নাইক্ষ্যংছড়ি ফুলঝাড়ু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছেন ২ যুগেরও বেশি সময় ধরে। মূলত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন হতে মাঠ পর্যায়ে ফুলঝাড়ু সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াজাত অর্থাৎ শুকানোর পড় তা দেশের বিভিন্ন জেলাতে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেয়ার কাজটি তিনি করে থাকেন।

সম্প্রতি এ পেশার সঙ্গে পাহাড়িসহ বাঙালি জনগোষ্ঠীর লোকজনও জড়িয়ে পড়েছেন। সময়ের ব্যবধানে পাহাড়ের ফুলঝাড়ুতে সমৃদ্ধ হচ্ছে পাহাড়ের অর্থনীতি। সমতলের জেলাগুলোতে পাহাড়ের ফুলঝাড়ুর কদরও অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

এক হাত দুই হাত বদলে নাইক্ষ্যংছড়ির ফুলঝাড়ু রফতানি হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইলের মতো বড় বড় জেলা সদর ও উপজেলা শহরে।

পাহাড়ের স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বেশিরভাগ জনসাধারণ জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল। আর জুমচাষের ফসল ঘরে তোলার পর পৌষ মাস থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত ঝাড়ুফুল বিক্রি করেই তাদের বাড়তি উপার্জনের পথ খুলেছে।

সাধারণত ৭-১০টি ফুলে একটি আঁটি। আর এমন একটি আঁটি পাইকারি বাজারে বিক্রি হয় ১০-১২ টাকায়। এভাবেই ১০০ আঁটি ফুলঝাড়ু বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।

আড়তদার মো. ইউনুছ ও মো. ইসলাম বলেন, অনেকেই পাহাড় থেকে সংগ্রহের পর অধিক মুনাফার জন্য তা নিজেরাই খুচরা বাজারে সরাসরি বিক্রির জন্য নিয়ে আসে। আবার অনেক আড়তদার বা পাইকার তাদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা দিয়ে ফুলঝাড়ু কিনে থাকেন।

সাধারণত একজন মাঠপর্যায়ের সংগ্রাহক এক মৌসুমে পাহাড় থেকে সংগ্রহ করা ফুলঝাড়ু বিক্রি করে আয় করে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। তাদের মতে, পুঁজি দিয়ে কৃষিকাজের চেয়ে বিনা পুঁজিতে বছরে তিন মাস ফুলঝাড়ু সংগ্রহে অধিকতর লাভজনক। তবে আগের চেয়ে এর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে অনেক আড়তদার অগ্রিম টাকা দিয়ে থাকে ফুলঝাড়ু সংগ্রহের জন্য।

এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত জেলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের জন্য সরকারিভাবে ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে আগামীতে এ ব্যবসার প্রসারতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

জেলা ও উপজেলায় অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে এ ফুলঝাড়ু। উপজেলা হতে দেশের বিভিন্ন জেলাতে পাঠানোর জন্য একটি ফুলঝাড়ু প্রতি ব্রুমে সরকারিভাবে জমা দেওয়া লাগে ৩৫ পয়সা করে।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান (ফরেস্ট রেঞ্জ) বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে এ ঝাড়ু পরিবহন করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতে নেওয়া হচ্ছে। আর এ পরিবহনের অনুমতির জন্য সরকারিভাবে আমরা রাজস্ব গ্রহণ করে থাকি।

তিনি আরও বলেন, প্রতি ফুলঝাড়ুর ব্রুম প্রতি ৩৫ পয়সা করে রাজস্ব সরকারের ফান্ডে জমা হয়; যে হিসাবে প্রতিটি ট্রাকে আমরা ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত রাজস্ব সরকারের তহবিলে জমা দিচ্ছি। এতে অর্থনৈতিকভাবেও অবদান রাখছে পাহাড়ের ফুলঝাড়ু। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে।

Comments

comments

Posted ৭:৪৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২২

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com