• শিরোনাম

    মিয়ানমার প্রতিনিধ দলের সাথে রোহিঙ্গাদের বৈঠক

    নাগরিকত্ব নিরাপত্তা জাতিসত্তার স্বীকৃতির আশ^াস মিলেনি

    নিজস্ব প্রতিবেদক/উখিয়া প্রতিনিধি | ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

    নাগরিকত্ব নিরাপত্তা জাতিসত্তার স্বীকৃতির আশ^াস মিলেনি

    কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধির সাথে রোহিঙ্গাদের দ্বিতীয় দফা বৈঠক। আলোচনা চলাকালে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, রোহিঙ্গা জাতিসত্তার স্বীকৃতি, নিরাপত্তা এবং ভিটে মাটি ফিরিয়ে দেয়া সহ তাদের দাবী উত্থাপন করলেও এসব দাবী পূরণে কোন আশ^াস মিলেনি। বৃহস্পপতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চার ঘণ্টাব্যাপী রোহিঙ্গাদের সাথে এই আলোচনা শেষ করে মিয়ানমার প্রতিনিধি দল আলোচনা শেষ করে মিয়ানমার প্রতিনিধি দল বিকেলে কক্সবাজার ত্যাগ করেন। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং মধুরছড়া ক্যাম্প ফোর এক্সটেনশন এ রোহিঙ্গাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক এই মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে প্রতিনিধি দলের নেতা মিয়ানমার সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মহা পরিচালক চেন আইয়ে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংএ জানান- রোহিঙ্গাদের সাথে এটি কোন রাজনৈতিক সংলাপ নয়, রোহিঙ্গাদের রাখাইনের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে, তাদেরকে এনভিসি কার্ড (ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড) দিয়ে ফেরত নেয়া হবে। তিনি জানান- রাখাইনের বাস্তুচ্যুত মুসলমানরা তাদের কিছু দাবী দিয়েছে। এসব দাবী সমূহ মিয়ানমার সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানানো হবে। আমরা শুধু রাখাইনের পরিস্থিতি যে উন্নত করেছি তা বাস্তুচ্যুতদের জানিয়েছি।

    ব্রিফিংকালে মিয়ানমার প্রতিনিধিদের প্রধান রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কোন মন্তব্য করেনি। মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের আলোচনায় হতাশা ব্যক্ত করেছে আলোচনায় অংশ নেয়া রোহিঙ্গারা। তারা জানিয়েছেন নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, জাতিসত্তার স্বীকৃতি ছাড়া তারা কোন মতেই স্বদেশে ফিরতে রাজি নয়। তারা জানান মিয়ানমারের নাগরিকত্ব সহ বিভিন্ন প্রমাণ উত্থাপন করার পরও মিয়ানমার প্রতিনিধি দল তাতে কোন সাড়া দেননি। তাই এসব আলোচনা ভাওতাবাজি ছাড়া আর কোন কিছু নয় বলে তারা মন্তব্য করেছেন। বুধবার ও বৃহস্পতিবার ২ দিন উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক্সটেনশন-৪ ক্যাম্পে রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতাদের সঙ্গে মিয়ানমার ও আসিয়ান প্রতিনিধিদলের সংলাপ হয়। সংলাপে ৪১ জন রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা ও ৬ জন কমিউনিটি নারী নেত্রী অংশ নিয়েছেন।

    মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অর্থনীতিক বিভাগের মহা পরিচালক চ্যান অ্যায়ের নেতৃত্বে ৯ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলে দেশটির পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, শ্রম ও অভিবাসন এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ রয়েছেন। একইভাবে ৭ সদস্যের আসিয়ান প্রতিনিধিদলে রয়েছেন আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ রয়েছেন।
    বৈঠকে অংশ নেয়া রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা মুহিব উল্লাহ জানিয়েছেন ‘মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলটি সেই পুরনো কথা গুলো বারবার বলছেন। এনভিসি কার্ড নিয়ে আমরা কোনোভাবেই মিয়ানমারে ফিরব না। এ কথা বলার পরও দীর্ঘদিন পরে এসে সেই পুরনো কথা নতুন করে শুরু করছে মিয়ানমার। সংলাপে নতুনত্ব বলতে কিছুই নেই।
    রোহিঙ্গা নেতা মাষ্টার সিরাজ আহমদ বলেছেন: ‘এটি মিয়ানমারের নাটক। আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান মামলাকে ভিন্নখাতে নিতে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলাকে কৌশল হিসাবে নিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানো ছাড়া আমি কিছুই দেখছি নাথ।
    আরেক রোহিঙ্গা নেতা ডা: জোবায়ের আহমদ বলেছেন ‘বৈঠকে আমরা বারবার অনুরোধ করেছি যে আমাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দেয়া হোক। কিন্তু, মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলটি বিষয়টি এড়িয়ে যান। এতে করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোন সুরাহা দেখছি না। রোহিঙ্গা নারী নেত্রী জামালিদা বেগম বলেন ‘‘রাখাইনে মুসলিম রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের বিষয়টি কিছুতেই বিশ্বাস করাতে পারছি না মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলকে। তারা রাখাইনে সহিংস কোন ঘটনা শুনতে রাজি নয়। বলছে তোমরা (রোহিঙ্গারা) প্রথমে ‘এনভিসিথ কার্ড নাও পরে পূর্ণ নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে। কিন্তু, ‘এনভিসিথ কার্ডের মধ্যে নানা শর্ত জুড়ে দেয়া হচ্ছে।
    কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন অতিরিক্ত সচিব শামশুদ্দোজা জানিয়েছেন, ‘মিয়ানমারের ৯ সদস্য বিশিষ্ট ও আসিয়ানের ৭ সদস্যের প্রতিনিধিদলটি দুই দিনের সফরে কক্সবাজারে এসেছেন। প্রথম দিনে উখিয়ার কুতুপালং এক্সটেনশন-৪ ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সংলাপ শেষ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে একই স্থানে পুনরায় সংলাপ শুরুর হয়ে ২ টার দিকে শেষ হয়।
    এর আগে বুধবার সকালে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অর্থনীতিক বিভাগের মহা পরিচালক চ্যান অ্যায়ের নেতৃত্বে ৯ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলে মায়ানমারের পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, শ্রম ও অভিবাসন এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌছেন। এসময় ৭ সদস্যের আসিয়ান প্রতিনিধিদলে রয়েছেন আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ রয়েছেন।

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৭ জুলাই মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে’র নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর করেন। এসময় আসিয়ানের প্রতিনিধিদলটিও সঙ্গে ছিলেন। সে সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে রোহিঙ্গাদের যৌথ সংলাপে অংশ নেয়। এছাড়াও ২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল মিয়ানমারের সমাজকল্যান মন্ত্রী উইন মিয়াট আয়ে’র নেতৃত্বে আরো একটি প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলতে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসেছিলেন। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সংলাপ (ডায়ালগ) করতে দুইদিনের সফরে তৃতীয়বারের মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলটি কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংস ঘটনায় প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গা। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বাংলাদেশ মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। একই বছর ৬ জুন নেপিদুতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থা গুলোর মধ্যে সমঝোতার চুক্তি হয়। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দফা ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসনের দিন ধার্য্য করে ৩৪৫৫ রোহিঙ্গা নাগরিকের তালিকা পাঠায় মিয়ানমার সরকার। কিন্তু, কোন রোহিঙ্গা মিয়ানমারের ফিরতে রাজি না হওয়ায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থেমে যায়।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ