• শিরোনাম

    কক্সবাজার-২(মহেশখালী-কুতুবদিয়া) *গণফ্রন্ট্রের প্রার্থী ড. আনসারুল করিম নির্বাচনে থাকছেন

    নিজ দলের নেতা-কর্মীর সমর্থন হারাতে পারেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী

    শহীদুল্লাহ কায়সার | ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

    নিজ দলের নেতা-কর্মীর সমর্থন হারাতে পারেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী

    মহেশখালী এবং কুতুবদিয়া এই দুই দ্বীপ উপজেলা নিয়ে গঠন করা হয় কক্সবাজার-২ সংসদীয় আসন। ২লাখ ৯৬ হাজার ৮১ ভোটার অধ্যুষিত এই আসন । জেলার অন্য ৩টি আসনের মতো এই আসনেও ঠাঁই হয়নি জোটভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর।
    আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের ‘নৌকা’ প্রতীকের প্রার্থী করা হয়েছে বর্তমান সংসদ-সদস্য আশেক উল্লাহ রফিককে। অন্যদিকে বি.এন.পির প্রভাবাধীন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী করা হলো বি.এন.পি মনোনীত সাবেক সংসদ-সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদকে। গতকাল ৭ ডিসেম্বর শুক্রবার বি.এন.পি সংগঠনের প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম চূড়ান্ত করে। ফলে উল্লিখিত দুই রাজনৈতিক নেতা যে দেশের দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দল মনোনীত প্রার্থী। তা নিয়ে আর কোন সংশয় রইলো না। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব মনে করেছেন বি.এন.পি অংশগ্রহণ করায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে প্রতিযোগিতামূলক। সাংগঠনিক ক্ষমতা ছাড়াও ভোটারদের এই আসনের ভোটারদের মাঝে জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা বৃহৎ দুই দলের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। গত ২ ডিসেম্বর বাছাইকালে জাতীয় পার্টি (জাপা) মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। এ কারণে জাপা মনোনীত কোন প্রার্থীকে নিরাপদ মনে করেনি আওয়ামী লীগ।
    অন্যদিকে, ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরীক জামায়াত চেয়েছিলো আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেয়া হোক। ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এই আসনে তৎকালীন চার দলীয় ঐক্যজোট প্রার্থী হিসেবে জামায়াত নেতা এ.এইচ.এম হামিদুর রহমান আজাদ বিজয়ী হয়েছিলেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অর্ধশতাধিক মামলা বিচারাধীন। এ কারণে জামায়াতের দাবিকে উপক্ষো করে বি.এন.পি নিজেদের দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়।
    আলমগীর মোঃ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, আশেক উল্লাহ রফিক ছাড়াও এবার কক্সবাজার-২ আসনে প্রতিদ্বন্দি¦তা থেকে না সরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন গণফ্রন্ট প্রার্থী অধ্যাপক ড. আনসারুল করিম।
    ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন তিনি। গতকাল ৭ ডিসেম্বর রাতে এই প্রতিবেদককে ড. আনসারুল করিম বলেন, “আমি ‘মাছ’ মার্কা নিয়ে নির্বাচন করবো।” কক্সবাজার জেলা আওয়ামলীগের নতুন কমিটি আমাকে যোগ্য মনে করেনি। এ কারণে জেলা কমিটিতে রাখা হয়নি। এখন যারা আওয়ামীলীগ করছে তারা বিএনপি ঘরানার আওয়ামী লীগ বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
    কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনটি পেতে মরিয়া বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জয়ী হতে পারেননি আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীরা। ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে ‘নৌকা’ প্রতীকে বিজয়ী হন বাকশাল মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহাক বি.এ।
    এরপর থেকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাথে বি.এন.পি মনোনীত প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের খেলায় জিতেছে বি.এন.পি। ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে বিএনপি জোট রক্ষার স্বার্থে জামায়াতকে আসনটি ছেড়ে দেয়। সেবার ভোটের ব্যবধান কমাতে সক্ষম হলেও জয়ী হতে পারেননি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. আনসারুল করিম।
    ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই উপজেলার ১ লাখ ১০ হাজার ৩৮৭ জন ভোটার ভোটদান করেন। ওই নির্বাচনে বাকশাল মনোনীত ‘নৌকা’ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহাক বি.এ ২৫ হাজার ৭২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপি প্রার্থী মোঃ রশিদ বি.এ ২০ হাজার ৫৬৩ ভোট পেয়ে হন তৃতীয়। পরের নির্বাচনে তৃতীয় অবস্থান থেকে বিজয়ীর আসনে বসেন বিএনপি প্রার্থী। ৭ম (১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ব্যতীত) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ৪৪ হাজার ৪৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। সেবার আওয়ামীলীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা পেয়েছিলেন ৩২ হাজার ৪৪৩ ভোট।
    ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগের তুলনায় অনেক উপরে চলে যায় বিএনপি। সংগঠনটির প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ১ লাখ ৩ হাজার ৫০৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী পান ৪৯ হাজার ১৯০ ভোট।
    ২০০৮ খ্রিস্টাব্দের অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পূর্বের নির্বাচনগুলোর তুলনায় ব্যবধান কমানো ছাড়া কিছুই করতে পারেননি আওয়ামীলীগের প্রার্থী ড. আনসারুল করিম। ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দি¦তা করেন জামায়াত নেতা এ.এইচ.এম হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি ১ লাখ ৩ হাজার ৯৭১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ¦ী আওয়ামী লীগ প্রার্থী অধ্যাপক ড. আনসারুল করিম পান ৮৬ হাজার ৯৪৪ ভোট।
    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. আনসারুল করিম গণফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ‘মাছ’ মার্কা নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দীতা হবে। এমনটিই মনে করেছেন উপজেলা দুইটির বাসিন্দারা।
    বিএনপির এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী একই পরিবারের। মহেশখালী উপজেলার রাজনীতিতে তাঁদের পরিবারের প্রভাব রয়েছে। তবে বিরোধীদের সংখ্যাও কম নয়। আশেক উল্লাহ রফিক খোদ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশাল একটি অংশের সমর্থন হারাতে হবে।
    অন্যদিকে বেশ কয়েক বছর ধরে আলমগীর মোঃ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের নিয়ন্ত্রণে নেই মহেশখালী এবং কুতুবদিয়া উপজেলা বিএনপির কমিটি। তাঁর অনুসারীদেরও ঠাঁই হয়নি কমিটিতে। যাঁরা রয়েছেন তাঁরা আলমগীর মোঃ মাহফুজ উল্লাহ্র কট্টর সমালোচক।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ