• শিরোনাম

    অনুপ্রবেশের এক বছর, উত্তাল রোহিঙ্গা শিবির

    নিরাপদ প্রত্যাবাসন, ধর্ষণ ও গণহত্যার বিচার দাবী 

    রফিক উদ্দিন বাবুল, শফিক আজাদ, নুরুল করিম রাসেল, উখিয়া ও টেকনাফ   | ২৬ আগস্ট ২০১৮ | ২:১৭ পূর্বাহ্ণ

    নিরাপদ প্রত্যাবাসন, ধর্ষণ ও গণহত্যার বিচার দাবী 

    মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক জান্তা, বিজিপি, নাটালা ও রাখাইন উগ্রবাদীর হাতে জাতিগত নিধনের ধারবাহিকতায় ধর্ষণ ও গণহত্যার বিচারের দাবীতে উখিয়ায় আশ্রিত রোহিঙ্গারা বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে। শনিবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১১টা পর্যন্ত উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী ও মধুরছড়া, লম্বাশিয়া, ময়নারঘোনাসহ বিভিন্ন ক্যাম্পে এক সঙ্গে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে রোহিঙ্গারা। এতে স্বস্ব ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতারা তাদের বক্তব্যে ধর্ষণ ও গণহত্যার বিচারের পাশাপাশি নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবী তুলেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে বিক্ষোভের একপর্যায়ে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে চলে আসলে আইনশৃংখলাবাহিনীর বাধার মূখে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের ভিতরে ঢুকে যায়। কুতুপালং ২নং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ বিক্ষোভ সমাবেশে বলেন,‘মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী মগররা আমাদের ওপর নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ ও বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে।
    বাধ্য হয়ে আমাদের প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে হয়েছে। কিন্তু, এক বছর পার হয়ে গেলেও আন্তর্জাতিক মহল এখনও পর্যন্ত প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কোনও ধরনের সুরাহা করতে পারেনি। আমরা আমাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফেরত যেতে যেতে চাই। এজন্য আমাদের নিরাপদ পরিবেশ, নাগরিকত্ব ও একটি রাষ্ট্রের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। কুতুপালং ১নং ক্যাম্পে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন,‘রোহিঙ্গা নির্যাতনের এক বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু, আমাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। এজন্য আন্তর্জাতিক মহলকে নাড়া দিতে উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে আজকের এই বিক্ষোভ সমাবেশ। একই ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা মাওলানা শামসুল আলম বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করেছি।
    আমরা আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য এই আন্দোলন। আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই।’ কুতুপালং ক্যাম্পে বিক্ষোভ সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মাওলানা শামশুল আলম, সিরাজুল মোস্তফা, রফিক উদ্দিন, মাওলানা মনজুর প্রমূখ। বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের লালু মাঝি বলেন,‘আমাদের এই বিক্ষোভ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। আমরা আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এই বিক্ষোভ সমাবেশ করছি। আজ  এক বছর পার হলেও আমরা সুষ্ঠু বিচার নিয়ে সন্দিহান। আমরা বিচার চাই, মিয়ানমারের শাস্তি চাই।’ রোহিঙ্গা নেতা ডাঃ জাফর আলম বলেন, গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী, বিজিপি, নাটালা  ও রাখাইন উগ্রবাদীদের হাতে অন্তত ২৪ হাজার রোহিঙ্গা নারী,পুরুষ,শিশু নিহত হয়েছে।
    এসময় ধর্ষণের শিকার আরো ১৮ হাজার রোহিঙ্গা নারী। ওই দমন-পীড়নের মুখে এখন পর্যন্ত সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে নতুন, পুরাতন মিলে উখিয়া ও টেকনাফে ১১ লাখ ১৮হাজার ৫৫৭জন রোহিঙ্গা রয়েছে। উখিয়ার থানার (ওসি) মোঃ আবুল খায়ের বলেন, সকালে হঠাৎ করেই রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে  রাস্তায় নামার চেষ্টা করলে পুলিশের বাধার মূখে তারা ক্যাম্পের ভেতরেই শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এতে কোনও ধরণের অপ্রীতিকার ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। 
    উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিরাপদ প্রত্যাবাসন, ধর্ষণ, গণহত্যা ও নির্যাতনের দাবীতে কুতুপালং ও বালুখালীতে রোহিঙ্গারা ২ ঘন্টা ব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। তবে এতে রোহিঙ্গারা কোন প্রকার উষ্কানীমূলক কথাবার্তা বলেনি।
    এদিকে রোহিঙ্গা জেনুসাইড (গণহত্যা) স্মরণদিবস (২৫ আগষ্ট) দা ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশন (রোহিঙ্গা মুক্ত কর মোরচা) আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা আরো বলেন, ২০১৭ সালের এই দিনটিতে গ্রামে নিরক্ষর নগ্নবিদ কতিপয় রোহিঙ্গা যুবকদের গঠিত আরকান রোহিঙ্গা সালবেশন আর্মি (আরসা) উত্তর রাখাইনের ৩০ টি সেনা ক্যাম্পে হামলা চালানোর বানোয়াট অজুহাতে মিয়ানমার সেনা পুলিশ ও স্বশস্ত্র উগ্রপন্থী রাখাইন জনগোষ্ঠি রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির উল্লেখযোগ্য অংশে হামলা শুরু করে। সামরিক জান্তার নৃশংস বর্বরতা ও হত্যাযজ্ঞ থেকে প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা এদেশে পালিয়ে আসে। রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, ১৯৭৮ সাল থেকে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের উপর সহিংসতা শুরু করে।
    মিয়ানমার সামরিক জান্তা কর্তৃক বিতাড়িত লাখ লাখ রোহিঙ্গার অস্থিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে নিজেদের জন্মস্থান, পৈত্রিক ভূমি মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবী জানান। বালুখালী ডি ৫ ব্লকের মাঠে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, আরকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিচ এন্ড হিউম্যান রাইটসের সভাপতি মাষ্টার নুরুল আলম। বক্তব্য রাখেন, ক্যাম্প মাঝি মৌঃ ইমাম হোসেন, বশির আহমদ মাঝি, মৌঃ আবদুল্লাহ, হেডমাঝি ছৈয়দ হোছেন, সাদেক মাঝি ও হেডমাঝি জাহেদ হোসেন। এর আগে শূক্রবার রাতে আয়োজক কমিটি ক্যাম্পে মাইকিং করে সভায় সমস্ত রোহিঙ্গাদের উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানান। সকাল ৮ টা থেকে দলে দলে রোহিঙ্গারা সভাস্থলে যেতে শুরু করলে রোহিঙ্গাদের এ প্রতিবাদ সমাবেশ মহাসমাবেশে পরিণত হয়।
    সকাল ১০ টার দিকে মাথায় লাল কাপড় বেঁধে ও লাল পতাকা একটি বিশাল র‌্যালী বালুখালী ক্যাম্প থেকে বের হয়ে সড়ক পথে থাইংখালীর দিকে রাওনা হতে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, রোহিঙ্গারা নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবীতে সভা সমাবেশ করেছে। এখানে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, গত বছরের ২৫ আগষ্ট রোহিঙ্গাদের উপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে তারই প্রতিবাদে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
    টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে গনহত্যা দিবস ও দোয়া মাহফিল
    টেকনাফ অফিস জানান
    রাখাইন রাজ্যে গতবছরের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর সেদেশের সেনাবাহিনী কর্তৃক হত্যা, ধর্ষন, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের এক বছর পূর্ণ হওয়ায় গনহত্যা দিবস হিসেবে পালন করছে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা। এ উপলক্ষে ২৫ আগস্ট শনিবার সকাল থেকে টেকনাফের রইক্ষ্যং পুটিবনিয়া, হ্নীলার আলীখালী, লেদা, নয়াপাড়া, শালবন, জাদিমোরা, দমদমিয়ায় ও বাহারছড়ার শামলাপুর বস্তিতে রোহিঙ্গারা মিছিল-সমাবেশ করেছে। বিক্ষোভ মিছিলে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নরনারী অংশ গ্রহন করেছেন। পরে তারা দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে তাদের কর্মসুচী শেষ করে। এসময় রোহিঙ্গাদের হাতে থাকা প্লেকার্ডে তারা শত শত নারীকে ধর্ষন, ৩০০ গ্রাম নিশ্চিহ্ন, ৩৪ হাজার শিশু এতিম, ৮ লাখের বেশী রোহিঙ্গা আরকান রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ও ১০ হাজারের বেশী রোহিঙ্গাকে হত্যার বিবরন তুলে ধরেন। সকালে পুটিবনিয়া এবং শালবনে রোহিঙ্গাদের বিরাট বিক্ষোভ মিছিল তাদের ক্যাম্প আভ্যন্তরীণ সড়ক সমুহ প্রদক্ষিণ করে। নয়াপাড়া শালবন ক্যাম্পের প্রায় ১০ হাজারের বেশী রোহিঙ্গা মিছিল সহকারে নয়াপাড়া রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পে গিয়ে সেখানকার রোহিঙ্গাদের সাথে মিলিত হয়। মিছিলের পূর্বে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শালবন প্রধান মসজিদে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে রোহিঙ্গা নেতা জাকারিয়া বক্তব্য রাখেন। পরে বিকাল সাড়ে ৩টায় শালবন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
    এতে বক্তব্য রাখেন হাফেজ সানাউল্লাহ, মাষ্টার ফায়সাল, মৌলভী মো. রফিকুল্লাহ, জকরিয়া। এসময় বক্তারা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতার নেত্রী সম্বোধন করে ধন্যবাদ জানান এবং এদেশের সেনা, বিজিবি, পুলিশ, আনচার ও উখিয়া টেকনাফের মানুষের প্রতি ও ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যের জন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার জন্য রোহিঙ্গাদের প্রতি আহবাণ জানান। বক্তারা মিয়ানমার সরকারের বিচার, স্বদেশে ফিরার পরিবেশসহ বিভিন্ন দাবী উত্তাপন করেন। এসময় নাগরিকত্বসহ দাবী দাওয়া মেনে তারা স্বদেশে ফিরতে চাই বলেও বক্তব্য রাখেন। সমাগত রোহিঙ্গারা হাততুলে বিভিন্ন শ্লোগানে পুরো ক্যাম্প মুখরিত করে তুলে। এসময় মো. লালু নামে শালবন ক্যাম্পের এক রোহিঙ্গা জানান, ইতিমধ্যে ৩ বার রোহিঙ্গারা শরণাথী হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বারবার দাবী মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু নতুন করে নির্যাতন শুরু করে। গেল আগস্টেও একিভাবে বর্বর নির্যাতন চালায়। এইবারও আমরা স্বদেশে ফিরতে চাই। তবে পূর্ণ নাগরিকত্ব দিতে হবে। আর রোহিঙ্গা হিসাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। একি ক্যাম্পের যুবক মো. আলী জানান, আমাদের খুব বেশী নির্যাতন করেছে। নির্যাতন সইতে না পেরে আমরা পালিয়ে আসি। তবে দেশের জন্য আমাদের প্রাণ কাঁদে। আমরা দেশে ফিরতে চাই।
    তবে আমাদের নেতারা যে দাবী দিয়েছে তার সাথে আমরা একমত। সেই দাবী মানতে হবে। উল্লেখ্য, মিয়ানমারে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা উখিয়া-টেকনাফের ৩০টি অস্থায়ী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। গত বছর ২৫ আগস্ট দেশটির রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরুর পর ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এসব শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলেও এভাবে অনিশ্চিত ভাসমান অবস্থায় দীর্ঘদিন থাকতে চান না তারা। আরসা নামক একটি সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যদের সেনা ছাউনিতে হামলার ঘটনার অজুহাতে গত বছর ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু করে মিয়ানমার বাহিনী। দেশটির সেনা, বিজিপি ও উগ্রবাদী রাখাইন যুবকরা গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দিয়ে রোহিঙ্গা নর-নারী, শিশুর ওপর বর্বরোচিত নৃশংসতা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে বানের পানির মতো বাংলাদেশের দিকে ছুটতে থাকে রোহিঙ্গারা। বর্তমানে নতুন-পুরনো মিলে উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ১১ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৭ জন রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া জানান, অনুমতি সাপেক্ষে রোহিঙ্গারা প্রতিবাদ সমাবেশ ও শোক পালন করেছে। অনাকাংখিত যে কোন ঘটনা এড়াতে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
    দেশবিদেশ /২৬ আগস্ট ২০১৮/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ