• শিরোনাম

    আজ বুদ্ধপূর্ণিমা: জঙ্গি হামলার আশংকা

    নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে কক্সবাজারের বৌদ্ধবিহার

    | ১৮ মে ২০১৯ | ১:৫০ পূর্বাহ্ণ

    নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে কক্সবাজারের বৌদ্ধবিহার

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    আজ ১৮ মে শনিবার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধপূর্ণিমা। নানা পূর্জা অর্চনা আর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য্যরে মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপন করবেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়। আর এদিকে জঙ্গি হামলার আশংকায় বৌদ্ধমন্দিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ৩ স্তরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে কক্সবাজারের ১২৯ টি বৌদ্ধবিহার। নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে র‌্যাব, পুলিশ, আনসার। সার্বক্ষনিক সাদা পোশাকধারী আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সিসিটিভি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রনে থাকবে বৌদ্ধবিহারসমূহ।
    পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেন জানান , জঙ্গি হামলাসহ যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রামুর ২৭টিসহ ১২৯টি বৌদ্ধ বিহারে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জেলার প্রায় ১২৯ বৌদ্ধ বিহারগুলো ৬৫০জন পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি বিহারে পুলিশ, আনসার, কমিউনিটি পুলিশ ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনের সমন্বয়ে নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি আনসার, র‌্যাব এবং সাদা পোশাকেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন দায়িত্ব পালন করবেন বলে যোগ করেন এসপি মাসুদ।
    দিনটি যথাযোগ্য ধর্মী মর্যাদায় উদযাপনে বৌদ্ধ বিহারগুলোতে বুদ্ধপূজা, জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, অষ্ট-পঞ্চশীল গ্রহণ, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কারদান, হাসপাতালে রোগীদের খাদ্যদান, শান্তি শোভাযাত্রা, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, আলোকসজ্জ্বা, ধর্ম দেশনা শ্রবণ, দেশ এবং বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত প্রার্থনা দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন রাখা করা হয়েছে। বিশেষ করে বৌদ্ধ পুরাকীর্তির শহরখ্যাত সম্রাট অশোক নির্মিত রামুর রাংকূট বনাশ্রম বৌদ্ধ বিহার, রামু কেন্দ্রীয় মহাসীমা বিহার, রামু মেত্রী বিহারসহ উপজেলার ২৭টি বৌদ্ধ বিহারে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
    কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহা বিহারের সহকারী পরিচালক প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, বুদ্ধপূর্ণিমার দিনে জঙ্গি হামলার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটু ভয়-ভীতি কাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং নিরাপদ পরিবেশে বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপিত হবে। তবুও অমরা অনেক সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছি। প্রতিটি বিহারের নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রশাসনও বেশ তৎপর রয়েছে।
    তিনি আরও বলেন, হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী কক্সবাজার সদরে ১৪টি, রামুতে ২৭টি, উখিয়ায় ৪১টি, টেকনাফে ১৭টি, চকরিয়ায় ২১টি,পেকুয়ায় ১টি, মহেশখালীতে ৮টিসহ মোট ১২৯টি বৌদ্ধ বিহার রয়েছে। প্রতিটি বিহারেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
    কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ২০১২ সালের রামুর বৌদ্ধ বিহারে হামলা এরপরে যোগ হয় রোহিঙ্গা সমস্যা। বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে উখিয়া টেকনাফে। তাই নানা কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কক্সবাজারের এখন ব্যাপক পরিচিত। তাই এবারের বুদ্ধপূর্ণিমায় যে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা মোকাবিলায় পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষভাবে কাজ করছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ৩০ থেকে ৪০টি বিহার সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। আশা করছি, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণভাবে এ উৎসব উদযাপন করতে পারবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ