• শিরোনাম

    নীতি-আদর্শ ছাড়া কোনো নেতৃত্ব গড়ে উঠতে পারে না: শেখ হাসিনা

    দেশবিদেশ অনলাইন ডেস্ক | ০৪ জানুয়ারি ২০২০ | ৯:৩৫ অপরাহ্ণ

    নীতি-আদর্শ ছাড়া কোনো নেতৃত্ব গড়ে উঠতে পারে না: শেখ হাসিনা

    আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আদর্শ ছাড়া, নীতি ছাড়া, সততা ছাড়া কখনও কোনো নেতৃত্ব গড়ে উঠতে পারে না। আদর্শহীন কোনো নেতৃত্ব দেশকে কিছু দিতে পারে না। জাতিকে কিছু দিতে পারে না। সাময়িকভাবে অর্থ-সম্পদের মালিক হতে পারে। নামডাক হতে পারে। কিন্তু সেখানেই বিলীন হয়ে যায়। দেশের জন্য বা ইতিহাসে বেঁচে থাকার মতো কোনো কাজ করতে পারে না।

    শনিবার( ৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্রলীগের যে ঐতিহ্য, ছাত্রলীগের যে অবদান; এটি প্রতিটি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে মনে রাখা উচিত এবং সেটা মনে রেখেই ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসাবে তাদের আচার-আচরণ, কর্মকাণ্ড, তাদের রাজনীতি; সবকিছুই সেভাবেই করা উচিত। যেন এ সংগঠনটা একটা মর্যাদাপূর্ণ হয় এবং দেশ ও জাতির কাছে যেন তারা একটি আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করে চলতে পারে। ছাত্রলীগকে সেভাবেই চলতে হবে।’

    ৭৫’ পরবর্তী বাংলাদেশে ভিন্ন ধারার ছাত্র রাজনীতি শুরু করার জন্য অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী তৎকালীন সরকারগুলোর সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

    তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র, অর্থ তুলে দিয়ে তাদেরকে ব্যবহার করত লাঠিয়াল বাহিনী হিসাবে। তাদের ব্যবহার করত অবৈধভাবে ক্ষমতাকে বৈধ করার একটা হাতিয়ার হিসাবে। এভাবে বহু মেধাবী ছাত্র নেতার জীবন তারা নষ্ট করেছে। পাশাপাশি সাত খুনের আসামিকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধী যাদের বিচার শুরু হয়েছিল, সেই বিচার বন্ধ করে দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে এসে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। একটি সুষ্ঠু রাজনৈতিক ধারাকে বারবার নষ্ট করার প্রচেষ্টা তারা সবসময় নিয়েছে।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্ররা আমাদের ভবিষ্যৎ। তারাই ভবিষ্যৎ নাগরিক। স্বাধীন দেশ; ভবিষ্যতে স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনায় এই মেধাবী ছাত্রদের মধ্য থেকেই তো বেরিয়ে আসবে। যারা আগামী দিনে এ দেশকে পরিচালনা করবে। তাদেরকে যদি বিপথে পরিচালনা করা হয়, তাদেরকে যদি রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় তাহলে তারা কখনোই সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারে না, পারবে না।’

    ‘‘আদর্শ ছাড়া, নীতি ছাড়া, সততা ছাড়া কখনো কোনো নেতৃত্ব গড়ে উঠতে পারে না। কোনো নেতৃত্ব দেশকে কিছু দিতে পারে না। জাতিকে কিছু দিতে পারে না। মানুষের কল্যাণে কোনো কাজ করতে পারেন না। কোনো ধরনেরই কোনো সাফল্য তারা দেখাতে পারে না। সাময়িকভাবে অর্থ সম্পদের মালিক হতে পারে। নামডাক হতে পারে। কিন্তু সেখানেই বিলীন হয়ে যায়। দেশের জন্য বা ইতিহাসে বেঁছে থাকার মতো কোনো কাজ করতে পারে না।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতির পিতারও যাত্রা শুরু। স্কুল-জীবন থেকেই তিনি রাজনীতি করেছেন। তিনি একটি দেশ দিয়ে গেছেন। স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। দিতে পেরেছেন কেন? পেরেছেন একটিই কারণে। তার শক্তি ছিল সততার শক্তি, আদর্শের শক্তি, নীতির শক্তি। নীতির সঙ্গে কখনও তিনি আপস করেননি। কারও কাছে মাথা নত করেননি। যেটিকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে। সেই সত্য অর্জনের জন্য সর্বদা যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে তিনি প্রস্তুত ছিলেন।’

    ছাত্রলীগসহ দলীয় নেতাকর্মীদের জাতির পিতার অসমাপ্ত আত্মজীবনী কারাগারোর রোজনামচাসহ পাকিস্তান আমলে গোয়েন্দা রিপোর্ট নিয়ে প্রকাশিত বই সিক্রেটস ডকুমেন্টস’র বিভিন্ন প্রকাশিত খণ্ড পড়ার আহ্বান জানান।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি মনে করি, যারা রাজনৈতিক নেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, আকাঙ্ক্ষা রাখেন, তাদের প্রত্যেকেরই এ অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়া উচিত।কারাগারের রোজনামচা এটিও আমাদের প্রত্যেকটা নেতাকর্মীর পড়া দরকার।’

    জাতির পিতার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অর্থাৎ নিজের জীবনে কি হবে, না হবে, নিজে কী পাবেন, না পাবেন। নিজের জীবন কীভাবে প্রতিষ্ঠা পাবে, সেটি নিয়ে তার কোনো চিন্তা ছিল না। চিন্তা একটিই ছিল বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। এই স্বাধীনতা অর্জন করাই ছিল তার জীবনের সব থেকে বড় লক্ষ্য।’

    ‘কাজেই তাকে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হলো, তখন আমার দাদা কিন্তু প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তোমাকে আমি বিলেত পাঠিয়ে দেই, তুমি সেখান থেকে ব্যারিস্টারি পড়ে আসো। তিনি কিন্তু তাও যাননি। সেখানেও যাননি। কাজেই তার যে দেশের জন্য আত্মত্যাগ। কখনও অর্থ সম্পদের দিকে তাকাননি। প্রতি মুহূর্ত তিনি বাংলাদেশের জনগণের জন্য ভেবেছেন। জনগণের জন্য কাজ করেছেন এবং ডেভিড ফ্রস্টকে তিনি বলেছেন, তিনি বাংলার মানুষকে সব থেকে বেশি ভালোবাসেন।’

    ‘আমি আমার বাবাকে নিয়ে গর্ব বোধ করি। তিনি তার দেশের মানুষকেই ভালবেসেছিলেন। একটা মানুষ তার জীবনের কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে পারে, একটি জাতির জন্য, এটাই তার জীবনের অর্জন’ বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

    তাই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের তার অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচাসহ তার সংগ্রামী জীবনের উপর প্রকাশিত বিভিন্ন বই পড়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

    ছাত্রলীগকে একটা নীতি নিয়ে আদর্শ নিয়ে সংগঠন করা এবং যাতে এই সংগঠনের মধ্য দিয়ে আগামী দিনের নেতৃত্ব বেরিয়ে আসে সেভাবে সংগঠন করার আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, ‘৭৫’র পর যারা ভেবেছিল আওয়ামী লীগ আর কোনোদিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না। কিন্তু সেই আওয়ামী লীগ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করে তথা আমরা সরকার গঠন করেছি। প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে আমাদের নেতাকর্মীদের বিরাট অবদান রয়েছে। সে জন্য ছাত্রলীগকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

    ‘আমি এটিই চাই, ছাত্রলীগ একটা নীতি আদর্শ নিয়ে চলবে। জাতির পিতা যে লক্ষ্য নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন, ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ আমরা সেই বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ হিসেবেই গড়ে তুলব। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করেছি।’

    আমরা যে পারি, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পরেই কিন্তু সেটি প্রমাণ করেছি। আওয়ামী লীগ জাতির পিতার নেতৃত্বে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। আওয়ামী লীগই পারে বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে। আগামীদিনের নেতৃত্বে যেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম আসে। আর এ নীতি-আদর্শটাকে সংগঠনের মধ্য দিয়ে যেন চলে আসে, সেটি ছাত্রলীগকে মনে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, ছাত্রলীগের হাতে আমি কাগজ কলম তুলে দিয়েছিলাম। খালেদা জিয়া অস্ত্র তুলে দিয়েছিল, আমি দিয়েছিলাম কাগজ-কলম।’

    দুপুর আড়াইটার দিকে পায়রা উড়িয়ে, পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে মূল মঞ্চে প্রধান অতিথির আসন গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগ সভাপতিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যাচ ও উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়।এরপর ফুলেল শুভেচ্ছাসহ আওয়ামী লীগ সভাপতিকে ক্রেস্ট, বইসহ বিভিন্ন প্রীতি উপহার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা। এরপর সংগঠনের সাংস্কৃতি উপ-কমিটির পক্ষ থেকে দেশাত্মবোধক গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

    ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন খালেদ মোহাম্মদ আলী, তোফায়েল আহমেদ, ওবায়দুল কাদের, বাহালুল হক চুন্নু, শেখ শহিদুল ইসলাম, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন, আব্দুল মান্নান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, আবদুর রহমান, শাহে আলম, অসীম কুমার উকিল, মাইনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, ইকবালুর রহিম, এনামুল হক শামীম, ইসহাক আলী খান পান্না, বাহাদুর বেপারী, অজয় কর খোকন, লিয়াকত শিকদার, নজরুল ইসলাম বাবু, মাহমুদ হাসান রিপন, মাহফুজুল হাসান চৌধুরী রোটন, এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাইফুর রহমান, এস এম জাকির হোসাইন।

    বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের সভাপতিত্বে সংগঠনের সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খালেদ মোহাম্মদ আলী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং মঞ্চে উপস্থিত সাবেক ছাত্রনেতাদের পরিচয় করিয়ে দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুনর্মিলনীর অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

    দেশবিদেশ/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    মাতারবাড়ী ঘিরে মহাবন্দর

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ