• শিরোনাম

    কক্সবাজারে জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    নেপালের জলবিদ্যুৎ আমদানিতে আগ্রহী বাংলাদেশ

    দীপক শর্মা দীপু/ শহীদুল্লাহ্ কায়সার | ২১ জুন ২০১৯ | ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

    নেপালের জলবিদ্যুৎ আমদানিতে আগ্রহী বাংলাদেশ

    নেপালের কাছ থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ নেপালের কাছ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার ব্যাপারে আগ্রহী। এ জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়ে গেছে।
    ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে উভয় দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির আলোকেই এখন উভয় দেশের মধ্যে আলোচনা চলমান। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও উৎসাহিত করার ব্যাপারে উভয় দেশ নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে। পাশাপাশি বিষয়টি স্বল্পতম সময়ে সম্পন্ন করার জন্য গঠন করেছে কয়েকটি টিম। উভয় দেশের অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে গঠিত জয়েন্ট টেকনিক্যাল টিমও কাজ শুরু করে দিয়েছে। বাংলাদেশ আমদানিকারক হলেও ভারতের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য এই বিষয়ে একটি ত্রি-দেশীয় চুক্তি স্বাক্ষর করতে আগ্রহী বাংলাদেশ ও নেপাল।
    বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত বাংলাদেশ নেপাল- জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ ও জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটির ২য় সভা গতকাল ২০ বিকেলে কক্সবাজার শহরের একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সিনিয়র সচিক (বিদ্যুৎ বিভাগ) ড. আহমদ কায়কাউস। অন্যদিকে নেপালের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সেদেশের বিদ্যুৎ, পানি সম্পদ ও সেচ সচিব দিনেশ কুমার ঘিমি।
    সভায় নেপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অর্থায়ন ও যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিতকরণ, উভয় দেশের মধ্যে পাওয়ার ট্রেডিং পন্থা নির্ধারণ, ক্রস বর্ডৃার ইন্টারকানেকশনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের সম্ভাব্যতা যাচাই, নবায়নযোগ্য জ¦ালানি সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের বিষয় নিয়ে নির্ধারিত আলোচনা করা হয়। উভয় দেশের বিদ্যুৎ সচিবগণ সভা শেষে কার্যবিবরণীতে স্বাক্ষর করেন।
    সভাশেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বাংলাদেশের সিনিয়র সচিব (বিদ্যুৎ বিভাগ) সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ-নেপাল যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। উভয় দেশের পররাষ্ট্র সচিবগণ কমিটির কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, আমরা একটি পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করতে চাই। যাতে বিষয়টি সহজ হয়। বিদ্যুৎ আমদানিতে এদেশের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
    নেপালের বিদ্যুৎ, পানি সম্পদ ও সেচ সচিব দিনেশ কুমার ঘিমি বলেন, ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
    নবায়নযোগ্য জ¦ালানিখাতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার ভা-ারকে কাজে লাগাতে চায় নেপাল। এ জন্য আগামি ছয়মাসের মধ্যে নেপালের পোখরায় জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির আরো একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই এই বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
    গতকালের সভার আগে সকালে জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির সভা শেষে বাংলাদেশের যুগ্ম সচিব (বিদ্যুৎ বিভাগ) শেখ ফজলুল আমীন এবং নেপালের বিদ্যুৎ, পনি সম্পদ ও সেচ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব প্রবীণ রাজ আরিয়াল নিজ নিজ দেশের পক্ষে সভার কার্যবিবরণীতে স্বাক্ষর করেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-নেপাল জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ ও জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটির ১ম সভা ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নেপালের রাজধানী কাঠমুন্ডুতে অনুষ্ঠিত হয়।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ