বুধবার ৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

নৌকায় এমন নিরব বিপ্লব কেন ?

  |   শুক্রবার, ১২ নভেম্বর ২০২১

নৌকায় এমন নিরব বিপ্লব কেন ?

তোফায়েল আহমদ:
“রাতের বেলায় সীল না মারলে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীরা ধরাশায়ী হবেন। গোপন কক্ষে ভোট হলে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীদের খঁুজেও পাওয়া যাবে না। সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিকাশ চেয়ারম্যান করার কোন সুযোগই হবে না। তদুপরি নৌকা প্রতিকের যেসব প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাদের এলাকায় জনপ্রিয়তা নেই—তারা ভোট পাবেন না।“ এতদিন এসব কথাবার্তা নিয়েই সরগরম ছিল চা দোকান থেকে হাটবাজারের আড্ডা খানায়।

বাস্তবে হলটা কি ? গতকাল কক্সবাজার জেলার ৩ টি উপজেলার ২১ টি ইউনিয়নে দ্বিতীয়ধাপের নির্বাচন অনুষ্টিত হয়েছে। সকাল থেকে মানুষ কাতারে কাতারে ঘর ছেড়ে গেছে ভোট কেন্দ্রে। পুরোদমে ২১ টি ইউনিয়নের ঘরশূণ্যই ছিল। নারী পুরুষ সবাই উৎসব মূখর পরিবেশেই কেন্দ্রের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। গতকাল যেন এক অবাক করা দৃশ্য ছিল ভোটের ইউনিয়নগুলোতে। কিভাবে যে এত বিপুল সংখ্যক নারী—পুরুষ ভোট কেন্দ্রে হাসিমুখে গিয়ে ভোট উৎসবে অংশ নিয়েছে তা সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।

মাত্র কয়েকদিন আগেও লোকজনের মুখে শুনা গেছে, কোন ইউনিয়নেই নৌকা প্রতিকের প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন কিনা সন্দেহ। কেননা নৌকা প্রতীকের চাইতে প্রতিটি ইউনিয়নে প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা ছিলেন প্রচারে এগিয়ে টাকা—পয়সার খরচে এগিয়ে, নিয়োজিত কর্মীবলে এগিয়ে। অথচ গতকাল দিনশেষে ফলাফল এসেছে উল্টো। যেখানে নৌকা প্রতিকের একজন প্রার্থীও জিতবেন কিনা তা নিয়ে ছিল অনেকের মুখে বলাবলি। কিন্তু এমন কি হল যে—মানুষ এভাবে নৌকা প্রতিকের প্রতি ঝঁুকে পড়েছেন ?

স্বল্প সময়ে বিভিন্ন ইউনিয়নে খেঁাজ নিয়ে জানা গেছে, নৌকা প্রতিকের প্রতি এমন ঢালাও সমর্থনের নেপথ্যে নারী ভোটারের এক নিরব ভুমিকা কাজ করেছে। পুরুষরা ঘরের বাইরে যান। তাদের কথাবাতার্ চাওর হয় কিন্তু নারীদের আলাপ—আলোচনা থাকে ঘরেই সীমাবদ্ধ। একটি ইউনিয়নের এক বাস্তব গল্পের কথায় জানা গেছে, স্বামী নৌকা প্রতিকের প্রতিপক্ষের সমর্থক। রাতের বেলায় স্বামী গিয়ে স্ত্রীকে বলেন—ধর তোমার জন্য আমার প্রার্থী এক হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। আমাকেও দিয়েছেন এক হাজার টাকা। এ টাকা নাও। তুমি কাল কেন্দ্রে গিয়ে অমুক প্রতীকে সীলটা দিও।

স্বামীর এমন প্রস্তাবে স্ত্রী হলেন তেলেবেগুনে গরম। স্ত্রী বললেন, আমার জন্য দেওয়া টাকাটা তুমি ওনাকে (প্রার্থী) ফেরৎ দিয়ে আস। আমি ওনাকে ভোট দেব না। আমি নৌকা প্রতিকেই ভোট দেব। ক্ষীপ্ত হলেন স্বামী। স্বামী বললেন—এটা হবে না। স্ত্রী বললেন, এটা না হলে আমি তোমার সংসারই করব না। আমি বাপের বাড়ী যেতেও রাজি, তবুও আমি নৌকা ছাড়া ভোট দেব না।
স্ত্রী এবার বললেন, তুমি শুন—এই যে করোনার এতদিনের দুভোর্গ—দুর্যোগ গেছে, ঈদ—কুরবানের সময় পার করেছি। সব সময় শেখ হাসিনা ঘরে ঘরে চাল পাঠিয়েছে, টাকা দিয়েছে, আরো দিয়েছে রাস্তা—ঘাট সহ নানা উন্নয়ন। তাই আমি শেখ হাসিনার নৌকায় ভোট দিয়ে ্ঋণ শোধ করব। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত হল স্বামী নৌকা প্রতিকের বিপরিতে আর স্ত্রী গেলেন নৌকায় সীল দিতে। বাস্তবে বলতে গেলে নৌকা প্রতিকের নিরব বিপ্লব ঘটেছে কেন্দ্রে কেন্দ্রে এভাবেই।

এটি মূখ্যত কারণ হলেও সাথে যোগ হয়েছে, প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্টান, নির্বাচন কমিশনের ভোটের দিন সকাল বেলায় ভোট কেন্দ্রে্র ব্যালট পৌঁছানো সর্বোপরি সরকারি দল এবং ক্ষমতাসীন লোকজনদের কোথাও হস্তক্ষেপ করতে না দেওয়া। এসব কারণে মানুষের কাছে নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু ভোটের প্রতি আস্থাও ফিরে এসেছে।
প্রসঙ্গত গতকাল কক্সবাজারের তিনটি উপজেলার ২১ টি ইউনিয়ন নির্বাচনে বেসরকারিভাবে ১১ জন নৌকা প্রতিকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তদুপরি আওয়ামী লীগের আরো কয়েকজন নেতা যারা কিনা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছেন সেই রকম আরো কয়েকজন এগিয়ে রয়েছেন।

এডিবি/জেইউ।

 

Comments

comments

Posted ১২:০২ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১২ নভেম্বর ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com