বৃহস্পতিবার ১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

পরকীয়ার জেরে শাশুড়িকে হত্যা করে রাশেদা?

তারেকুর রহমান   |   সোমবার, ১৮ জুলাই ২০২২

পরকীয়ার জেরে শাশুড়িকে হত্যা করে রাশেদা?

কক্সবাজারের রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ির হাজীপাড়ায় ৩ বছর আগে নিজের ভাইঝিকে পুত্রবধূ করে ঘরে তোলেন মমতাজ বেগম। সুখে-দুঃখে চলছিল ৩ সদস্যের সংসার। কিন্তু পুত্রবধূর পরকীয়ার বলি হয়ে শাশুড়ি ৬ টুকরো লাশ হবেন তা কেউ জানতো না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক গণ্যমান্য ব্যক্তি জানান, মাস দুয়েক আগে শাশুড়িকে বিষপানে হত্যার চেষ্টা করেছিল পুত্রবধূ রাশেদা বেগম। পরে গোপন শালিসে এর মীমাংসা করা হয়।

কয়েকজন প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিয়ের পর কিছু দিন যেতে না যেতে রাশেদা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। দিনরাত পুত্রবধূর কানে মোবাইল শাশুড়ির দৃষ্টিকটু লাগে। বাড়ির কাজকর্ম না করে সবসময় মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকায় শাশুড়ি তাকে বাধা দেয়। কার সঙ্গে কথা বলে জিজ্ঞাসা করে। এতে শাশুড়ির প্রতি ক্ষিপ্ত হয় রাশেদা। সেই ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে বউ-শাশুড়ির মাঝে মনোমালিন্য চলে আসছিল।

পরকীয়ার কারণে রাশেদা জন্মনিরোধ ঔষুধ খেয়ে বাচ্চা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন স্বামী আলমগীর।

মমতাজ বেগমের ছেলে আলমগীর জীবিকার তাগিদে কক্সবাজার শহরে কলাতলীতে আবাসিক হোটেল বয়ের কাজ করেন। শনিবার (১৬ জুলাই) নাইট ডিউটি থাকায় সন্ধ্যার আগেই বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাতে শাশুড়ির সঙ্গে ঝগড়া করে রাশেদা। একপর্যায়ে শাশুড়িকে হত্যার পর দুই হাত, দুই পা, মাথা বিচ্ছিন্ন করে বাড়ির টিউবওয়েলের পাশে মাটিচাপা দেয়।

আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘রোববার (১৭ জুলাই) দুপুরে বাড়িতে এসে মাকে খোঁজ করলে রাশেদা বলে— মা মেয়ের বাসায় বেড়াতে গেছে। আমি বোনকে ফোন দিলে মা সেখানে যাননি বলে জানায়। পরে টিউবওয়েলে পা ধুতে গিয়ে মাটি খোঁড়ার চিহ্ন দেখে আমার মন ছটফট করছিল। সেখানে মাটির নিচে মায়ের শাড়ির অংশ দেখতে পাই। পরে প্রতিবেশী ও পুলিশকে খবর দিয়ে সেই স্থান খুঁড়ে মায়ের ৬ টুকরো মরদেহের অংশ বের করে।’

পুত্রবধূ রাশেদা বেগম ঘটনার বিষয়টি সাংবাদিকদের স্বীকার করে বলেন, ‘আমাকে দা নিয়ে কোপাতে এসেছিল শাশুড়ি। এ সময় জানতে চাইলাম,  আমাকে কেন মারতে আসছেন? তিনি কথা না শুনে দা নিয়ে আমার দিকে তেড়ে আসলে আমি দা ধরে ফেলি। পরে বাকবিতণ্ডায় আমার দায়ের কোপ শাশুড়ির গায়ে লেগে যায়। এতে তার মৃত্যু হয়। পরে আমি ভয় পেয়েছিলাম। সেজন্য মরদেহ বস্তায় ভরার চেষ্টা করি। কিন্তু বস্তায় মরদেহ না আঁটায় আমি টুকরো টুকরো করে বস্তায় ভরে টিউবওয়েলের পাশে পুঁতে ফেলি।’

ওইদিন বিকেলে বাড়ির আঙিনা থেকে শাশুড়ির ৬ টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে রামু থানা পুলিশ। রামু থানার ওসি তদন্ত অরূপ কুমার চৌধুরী ঘটনাস্থলে ছিলেন। তিনি জানান, ‘বউ-শাশুড়ির পারিবারিক কলহের জেরে শাশুড়ি মমতাজ বেগমকে হত্যা করে বাড়ির আঙিনার টিউবওয়েলের পাশে মাটি চাপা দেয় রাশেদা বেগম। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করি।’

শাশুড়িকে হত্যার পর দিন রোববার (১৭ জুলাই) রোজা রেখেছিল রাশেদা। পুলিশ তাকে আটকের পর সন্ধ্যায় থানায় ইফতার করেন। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল হোসাইন বলেন, শাশুড়িকে হত্যার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন রাশেদা। এ ব্যাপারে রামু থানায় মামলা হয়েছে।

Comments

comments

Posted ৬:২১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৮ জুলাই ২০২২

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com