শুক্রবার ২৭শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

পর্যটকদের টানছে পাটোয়ারটেক সৈকত

তারেকুর রহমান   |   বৃহস্পতিবার, ১২ মে ২০২২

পর্যটকদের টানছে পাটোয়ারটেক সৈকত

কক্সবাজার বেড়াতে এসে মেরিনড্রাইভ, ইনানী দেখতে যান না এমন পর্যটক খুব কমই আছেন। ইনানী সৈকতের অদূরে তারকা মানের হোটেল রয়েল টিউলিপের দক্ষিণ পাশে পাটোয়ারটেক পাথর রাণী বিচ। এ বিচকে লোকজন মিনি সেন্টমমার্টিন বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। পাথর ও নীল জলে দেখতে সেন্টমার্টিনের মতো এ বিচ। এখন সেন্টমার্টিনের সাধ মেটাতে পাটোয়ারটেকে দিন দিন ভিড় করছেন শত শত পর্যটক।

কক্সবাজার-টেকনাফ উপকূলী এলাকার ঠিক মধ্যভাগে মেরিনড্রাইভ সংলগ্ন এ বিচ। এটি উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নে অবস্থিত।

এ বিচের পশ্চিমে সাগর, পূর্বে উঁচু উঁচু পাহাড়। এই দুইয়ের মাঝখানে সরু মেরিনড্রাইভ। মেরিনড্রাইভের আশেপাশে পানের বরজ, সুপারি বাগান ও নানান জাতের ক্ষেতের সৌন্দর্য পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দিচ্ছে। সাগর-পাহাড় আর মেরিনড্রাইভের গভীর মিতালীতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা হারিয়ে যান অন্য ভুবনে।

বুধবার (১১ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কক্সবাজার প্রধান সমুদ্রসৈকতের মতো পাটোয়ারটেক বিচেও কিটকট চেয়ারে বসে, পানিতে সাঁতার কেটে এবং ছবি তোলে আনন্দে মাতোয়ারা পর্যটকরা। ইনানী সৈকতের মতো পানিতে পাথর, সেই পাথরে ঢেউয়ের আছড়ে পড়ার সৌন্দর্যে মেতেছেন তারা।

বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় গত ১ এপ্রিল থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। জাহাজ চলাচল শুরু হবে আগামী নভেম্বরে। সেন্টমার্টিন যেতে না পারায় পাটোয়ারটেক সৈকতে গিয়ে সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য, আমেজ ও সাধ খুঁজে বেড়াচ্ছেন পর্যটকসহ স্থানীয়রা।

জয়পুরহাট থেকে সপরিবারে কক্সবাজার বেড়াতে আসা মিয়া সামিদ বলেন, ‘প্রতিবছর পারিবারিক ভ্রমণে কক্সবাজার আসলেও এই জায়গায় নতুন এলাম। কক্সবাজার শহরে ২দিন থাকার পর ভ্রমণের শেষদিন এখানে এলাম। শুনেছি এই বিচ দেখতে সেন্টমার্টিনের মতো। পানি আর পাথরের মিল দেখে মনে হয় যেন, এটি সেন্টমার্টিন। এবং মেরিনড্রাইভ আর পাহাড়ের পাশে হওয়ায় বিচটি আলাদা সুন্দর।’

বগুড়ার দম্পতি ফয়সাল মিঞা ও রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘লোকের মুখে শুনে সেন্টমার্টিনের সাধ নিতে এলাম পাটোয়ারটেক। এখানকার পাথরগুলো খুব সুন্দর। তবে সেন্টমার্টিনের পানির মতো পাটোয়ারটেকের পানি এতো স্বচ্ছ ও সুন্দর না। তারপরও মেরিনড্রাইভ দেখে দেখে এখানে এসে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সাধটা নিলাম। ভালো লাগছে।’

তবে সেন্টমার্টিনের কেয়া বনের সৌন্দর্য এখানে নেই। সেন্টমার্টিন থেকে এখানার আলাদা সৌন্দর্য উঁচু পাহাড়, সবুজ বাগান আর মেরিনড্রাইভ।

তবে এখানে মেরিনড্রাইভ সংলগ্ন যে খাবার রেস্টুরেন্টগুলো আছে সেখানে খাবারের দাম তিনগুণের চেয়ে বেশি দাম নেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সী ফুড দেখিয়ে কক্সবাজার শহরের চেয়ে অতিরিক্ত দাম রাখা হয় বলে অভিযোগ তুলে পর্যটকরা।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, ‘অনুমোদিত মূল্য তালিকার বাইরে যে সমস্ত রেস্টুরেন্ট অতিরিক্ত খাবারের দাম রাখছে তাদের ব্যাপারে আমরা খবর নিচ্ছি। অতিরিক্ত দাম রেখে পর্যটক হয়রানির প্রমাণ পাওয়া গেলে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শুধু তা নয়, পর্যটকের সাথে সাথে এখানে বাড়ছে যত্রতত্র অসংখ্য দোকানপাট। পাটোয়ারটেক সৈকতের আশেপাশে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জায়গা-জমি কিনে দেয়াল দিয়ে ঘিরে রাখায় এর সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। দোকানের বর্জ্য- প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, ময়লা-আবর্জনা সৈকতে ফেলায় সৌন্দর্য হারাচ্ছে পাটোয়ারটেক সৈকত। কোনো ব্যবস্থা না নিলে এসমস্ত বর্জ্যে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে অচিরেই।

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, ‘পাটোয়ারটেক সৈকতে দিন দিন পর্যটক বাড়ছে। তবে পর্যটক বাড়ায় সেখানে প্রতিযোগিতামূলক যত্রতত্র দোকানপাট গড়ে তুলা হচ্ছে। সেই দোকানগুলোর বর্জ্য সৈকতে ফেলা হচ্ছে যা সাগরের পানির সাথে তলিয়ে যাচ্ছে। ভ্রমণে আসা পর্যটকেরা অপচনশীল প্লাস্টিকের বর্জ্য, যেমন মিনারেল ওয়াটারের বোতল, চিপসের প্যাকেট, কোমল পানীয়র ক্যান-বোতল, সিগারেটের ফিল্টার, পলিথিন ফেলছেন সৈকতে। সেখানে ময়লা–আবর্জনা ফেলার জন্য সেখানে কোনো ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও সন্ধ্যার পর থেকে রেস্টুরেন্টের সামনে করা আলোকসজ্জা এবং সৈকত আলোকিত থাকায় ডিম পাড়তে পারছে না গভীর সমুদ্র থেকে ছুটে আসা মা কচ্ছপ। এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।’

Comments

comments

Posted ১:৫৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১২ মে ২০২২

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com