শনিবার ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম
প্রয়োজন সরকারি পৃষ্টপোষকতা

পর্যটকদের হাত ছানি দিয়ে ডাকছে ধলঘাটার হাঁসের চর

  |   বুধবার, ২৫ আগস্ট ২০২১

পর্যটকদের হাত ছানি দিয়ে ডাকছে ধলঘাটার হাঁসের চর

আবু বক্কর ছিদ্দিক , মহেশখালী

দেশের একমাত্র পাহাড় বেষ্টিত সাগর কন্যা দ্বীপ উপজেলা কক্সবাজারের মহেশখালী । নানা বিচিত্রময় এ দ্বীপের সৌন্দর্য অপরিসীম । দ্বীপের মাঝ খানে রয়েছে ছোট বড় পাহাড় আর চতুর্পাশে সমুদ্র দেখলে যে কারো মন জোড়াবে সহজে । তার মাঝে মহেশখালী দ্বীপের আরেক উপদ্বীপ রয়েছে ধলঘাটা – মাতারবাড়ী , বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেষে এ উপদ্বীপের সর্ব দক্ষিণে প্রাকৃতিক ভাবে জেগে উঠা বিশাল একটি দ্বীপ , যা স্থানীয় অনেকেই এ দ্বীপকে শকের বসে বলে থাকেন ইন্দোনেশিয়ার বিখ্যাত বালি দ্বীপ । ধলঘাটা ইউনিয়নের দক্ষিণে বিশাল এ বালি চর এবং দ্বীপের নাম হচ্ছে হাসেঁর চর ।

স্থানীয়দের মতে এক সময় এ চরে বিভিন্ন প্রজাতীর অতিথি পাখি ও বুনো হাঁস গুলোর বিচরণ ছিল বলে এ চরের নাম রাখা হয়েছে হাসেঁর চর । এ হাসেঁর চরের চতুর্পাশে সমুদ্র এবং এ চরে রয়েছে ছোট বড় অসংখ্য ঝাউ গাছ আর প্যারাবন । এ দ্বীপে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতীর জীব-বিচিত্র , তার মধ্যে লাল কাকঁড়া অন্যতম । আর দ্বীপের প্যারাবনের ছোট বড় গাছ গাছালি গুলো সবুজে সমারোহ করে তুলেছে যা আরেক অন্য রকম সুন্দর্যে ভরপূর । ফলে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে ধলঘাটার এ হাসেঁর চরে । অন্য দিকে বঙ্গোপসাগরের বড় বড় ঢেউয়ের শো শো শব্দ যেন পর্যটকদের হাত ছানি দিয়ে ডাকছে । হাসেঁর চরের চতুর্পাশে প্রাকৃতিক সুন্দর্য ভরা অপরুপ সুন্দর্যের লীলা ভূমি এক পর্যটন এলাকা । স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে , বর্তমানে অনেকে এ হাসেঁর চরে বেড়াতে এসে তারা বিভিন্ন রকম ছবি তুলে পর্যটকের হায়েস মেটায় । স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত , সরকারী পৃষ্ট পোষকতা আর এখানে আসা পর্যটকরা নিরাপত্তা পেলে দৃষ্টিনন্দন পর্যটন এলাকা হবে এই হাঁসের চর । এবং হাজার হাজার পর্যটক আসবে এ হাসেঁর চরে । কিন্তু স্থানীয় কিছু অসাধু লোক রয়েছে তারা প্রতিনিয়ত এ চর থেকে ঝাউগাছ ও প্যারাবন কেটে উজাড় করে ফেলছে । এবং চরের পাশ্ববর্তী নির্মাণাধীন কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে ভরাটের জন্যও এ হাসেঁর চর থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ায় হুমকির মূখে পড়ছে এ দ্বীপ । ফলে এ বিশাল চরটি রক্ষণাবেক্ষণ না করলে একদিকে যেমন প্যারাবন শুন্য হবে অন্য দিকে বালি উত্তোলনের কারনে আবারো সাগর গর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে প্রাকৃতিক ভাবে জেগে উঠা এ হাসেঁর চরটি । এতে ব্যাপক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে বলে জানান পরিবেশকর্মীরা ।

ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন , প্রাকৃতিক ভাবে জেগে উঠা হাঁসের চরে বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থল রয়েছে । সুতরাং এই হাঁসের চর রক্ষা না হলে ধ্বংস হবে বহু প্রজাতিক জীব-বৈচিত্র্য । হাঁসের চরে লাল কাঁড়া , কচ্ছপ ও বিভিন্ন রকম পাখির বিচরণে মুগ্ধ করবে পর্যটকদের মন । ১২’শ একর আয়তনের এই বিশাল চরটি ধলঘাটার আওতাভুক্ত করার দাবী জানিয়ে চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন , চতুর্পাশে সাগর বেষ্টিত হাঁসের চরটি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পর্যটন এলাকা হিসেবে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখবে এই হাঁসের চর । ধলঘাটা ও মাতারবাডীতে বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক মেঘা প্রকল্পে দেশি বিদেশি হাজার হাজার শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা কাজ করছেন । ধলঘাটা হাঁসের চরে পর্যটন এলাকা হলে তখন সুন্দর্য আরো অনেক গুণ বেড়ে যাবে । পর্যটনের সম্ভাবনাময় হাঁসের চরে আর কোন প্রকল্প না করার জন্য দাবীও জানান তিনি । চর থেকে বালি উত্তোলন বন্ধ করা সহ প্যারাবন ধ্বংস না করে প্রাকৃতিক ভাবে জেগে উঠা হাঁসের চরে ইকোপার্ক তৈরি করা যেতে পারে বলেও জানান ।

ধলঘাটার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি করে হাঁসের চরকে পর্যটন এলাকা ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবী বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন , এতে চরের বিশাল প্যারাবন রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশের কোন ক্ষতি হবে না বলে মনে করেন চেয়ারম্যান কামরুল হাসান । অন্যদিকে পরিবেশবিদের মতে এ হাসেঁর চরটি সরকার রক্ষা না করলে পরিবেশ ও প্রতিবেশের উপরও ব্যাপক ক্ষতির আশংকা রয়েছে বলে জানান । প্রকৃতি ধ্বংস করে কোন টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে পরিবেশবিদরা বলেন , এ হাসেঁর চরে কোন ক্ষতিকারক প্রকল্প নির্মাণ না করে এদ্বীপে পর্যটন এলাকা করলে প্যারাবনও রক্ষা হবে কোন পরিবেশেরও ক্ষতি হবেনা । ফলে এ পর্যটন খাত থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্বও আয় করতে পারবে বলে মনে করেন দেশের পরিবেশবিদরা ।

এডিবি/জেইউ।

Comments

comments

Posted ১:২৭ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৫ আগস্ট ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com