রবিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

প্রয়োজন সরকারি পৃষ্টপোষকতা

পর্যটকদের হাত ছানি দিয়ে ডাকছে ধলঘাটার হাঁসের চর

  |   বুধবার, ২৫ আগস্ট ২০২১

পর্যটকদের হাত ছানি দিয়ে ডাকছে ধলঘাটার হাঁসের চর

আবু বক্কর ছিদ্দিক , মহেশখালী

দেশের একমাত্র পাহাড় বেষ্টিত সাগর কন্যা দ্বীপ উপজেলা কক্সবাজারের মহেশখালী । নানা বিচিত্রময় এ দ্বীপের সৌন্দর্য অপরিসীম । দ্বীপের মাঝ খানে রয়েছে ছোট বড় পাহাড় আর চতুর্পাশে সমুদ্র দেখলে যে কারো মন জোড়াবে সহজে । তার মাঝে মহেশখালী দ্বীপের আরেক উপদ্বীপ রয়েছে ধলঘাটা – মাতারবাড়ী , বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেষে এ উপদ্বীপের সর্ব দক্ষিণে প্রাকৃতিক ভাবে জেগে উঠা বিশাল একটি দ্বীপ , যা স্থানীয় অনেকেই এ দ্বীপকে শকের বসে বলে থাকেন ইন্দোনেশিয়ার বিখ্যাত বালি দ্বীপ । ধলঘাটা ইউনিয়নের দক্ষিণে বিশাল এ বালি চর এবং দ্বীপের নাম হচ্ছে হাসেঁর চর ।

স্থানীয়দের মতে এক সময় এ চরে বিভিন্ন প্রজাতীর অতিথি পাখি ও বুনো হাঁস গুলোর বিচরণ ছিল বলে এ চরের নাম রাখা হয়েছে হাসেঁর চর । এ হাসেঁর চরের চতুর্পাশে সমুদ্র এবং এ চরে রয়েছে ছোট বড় অসংখ্য ঝাউ গাছ আর প্যারাবন । এ দ্বীপে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতীর জীব-বিচিত্র , তার মধ্যে লাল কাকঁড়া অন্যতম । আর দ্বীপের প্যারাবনের ছোট বড় গাছ গাছালি গুলো সবুজে সমারোহ করে তুলেছে যা আরেক অন্য রকম সুন্দর্যে ভরপূর । ফলে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে ধলঘাটার এ হাসেঁর চরে । অন্য দিকে বঙ্গোপসাগরের বড় বড় ঢেউয়ের শো শো শব্দ যেন পর্যটকদের হাত ছানি দিয়ে ডাকছে । হাসেঁর চরের চতুর্পাশে প্রাকৃতিক সুন্দর্য ভরা অপরুপ সুন্দর্যের লীলা ভূমি এক পর্যটন এলাকা । স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে , বর্তমানে অনেকে এ হাসেঁর চরে বেড়াতে এসে তারা বিভিন্ন রকম ছবি তুলে পর্যটকের হায়েস মেটায় । স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত , সরকারী পৃষ্ট পোষকতা আর এখানে আসা পর্যটকরা নিরাপত্তা পেলে দৃষ্টিনন্দন পর্যটন এলাকা হবে এই হাঁসের চর । এবং হাজার হাজার পর্যটক আসবে এ হাসেঁর চরে । কিন্তু স্থানীয় কিছু অসাধু লোক রয়েছে তারা প্রতিনিয়ত এ চর থেকে ঝাউগাছ ও প্যারাবন কেটে উজাড় করে ফেলছে । এবং চরের পাশ্ববর্তী নির্মাণাধীন কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে ভরাটের জন্যও এ হাসেঁর চর থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ায় হুমকির মূখে পড়ছে এ দ্বীপ । ফলে এ বিশাল চরটি রক্ষণাবেক্ষণ না করলে একদিকে যেমন প্যারাবন শুন্য হবে অন্য দিকে বালি উত্তোলনের কারনে আবারো সাগর গর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে প্রাকৃতিক ভাবে জেগে উঠা এ হাসেঁর চরটি । এতে ব্যাপক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে বলে জানান পরিবেশকর্মীরা ।

ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন , প্রাকৃতিক ভাবে জেগে উঠা হাঁসের চরে বিভিন্ন প্রাণীর আবাসস্থল রয়েছে । সুতরাং এই হাঁসের চর রক্ষা না হলে ধ্বংস হবে বহু প্রজাতিক জীব-বৈচিত্র্য । হাঁসের চরে লাল কাঁড়া , কচ্ছপ ও বিভিন্ন রকম পাখির বিচরণে মুগ্ধ করবে পর্যটকদের মন । ১২’শ একর আয়তনের এই বিশাল চরটি ধলঘাটার আওতাভুক্ত করার দাবী জানিয়ে চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন , চতুর্পাশে সাগর বেষ্টিত হাঁসের চরটি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পর্যটন এলাকা হিসেবে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখবে এই হাঁসের চর । ধলঘাটা ও মাতারবাডীতে বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক মেঘা প্রকল্পে দেশি বিদেশি হাজার হাজার শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা কাজ করছেন । ধলঘাটা হাঁসের চরে পর্যটন এলাকা হলে তখন সুন্দর্য আরো অনেক গুণ বেড়ে যাবে । পর্যটনের সম্ভাবনাময় হাঁসের চরে আর কোন প্রকল্প না করার জন্য দাবীও জানান তিনি । চর থেকে বালি উত্তোলন বন্ধ করা সহ প্যারাবন ধ্বংস না করে প্রাকৃতিক ভাবে জেগে উঠা হাঁসের চরে ইকোপার্ক তৈরি করা যেতে পারে বলেও জানান ।

ধলঘাটার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি করে হাঁসের চরকে পর্যটন এলাকা ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবী বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন , এতে চরের বিশাল প্যারাবন রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশের কোন ক্ষতি হবে না বলে মনে করেন চেয়ারম্যান কামরুল হাসান । অন্যদিকে পরিবেশবিদের মতে এ হাসেঁর চরটি সরকার রক্ষা না করলে পরিবেশ ও প্রতিবেশের উপরও ব্যাপক ক্ষতির আশংকা রয়েছে বলে জানান । প্রকৃতি ধ্বংস করে কোন টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে পরিবেশবিদরা বলেন , এ হাসেঁর চরে কোন ক্ষতিকারক প্রকল্প নির্মাণ না করে এদ্বীপে পর্যটন এলাকা করলে প্যারাবনও রক্ষা হবে কোন পরিবেশেরও ক্ষতি হবেনা । ফলে এ পর্যটন খাত থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্বও আয় করতে পারবে বলে মনে করেন দেশের পরিবেশবিদরা ।

এডিবি/জেইউ।

Comments

comments

Posted ১:২৭ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৫ আগস্ট ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com