বুধবার ২৯শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

পর্যটকের আধিক্যে পরিবেশের ক্ষতি

তারেকুর রহমান   |   বুধবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২১

পর্যটকের আধিক্যে পরিবেশের ক্ষতি

টানা ৩ দিনের ছুটিতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে ছুটে আসেন প্রায় ৫ লক্ষাধিক ভ্রমণপিপাসু। এতে পর্যটনখাতে লাভবানের পাশাপাশি পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিও সাধন হয়েছে। সাগরলতা পদদলিত, লাল কাঁকড়ার বিচরণে বাধা ও অতিথি পাখি ভিড়তে পারেনি সমুদ্র কিনারায়।

সমুদ্র সৈকতে প্রকৃতির রাজ্যে এমন পরিবর্তন নেতিবাচকভাবে দেখছেন পরিবেশবিদরা। তারা বলছেন, এসব প্রাণ-প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য রক্ষার দিকে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি জরুরি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাগর লতার উপরে বসে ছবি তুলছেন পর্যটকরা। কেউ সাগরলতার উপর দিয়ে হাঁটছেন আবার কোন কোন চটপটি দোকানি সাগর লতার উপর চেয়ার-টেবিল বসিয়ে কেনাবেচা করছে।

পরিবেশবিদদের মতে, সমুদ্র সৈকতে মাটির ক্ষয়রোধ ও শুকনো উড়ন্ত বালুরাশি আটকে বালিয়াড়ি তৈরির মূল কারিগর হচ্ছে সাগরলতা। বালিয়াড়িকে সাগরের রক্ষাকবচও বলা হয়। কারণ ঝড়-তুফান, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের সময় উপকূলকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করে এসব বালিয়াড়ি। কিন্তু সৈকতে পর্যটকের আধিক্যে সাগরলতা পদদলিত হয়ে বালিয়াড়ি তৈরিতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

দিনাজপুর থেকে আগত মোস্তফা-সাইমা দম্পতি বলেন, ‘অনেক শখ করে প্রথমবার কক্সবাজার আসলাম। বিভিন্ন মাধ্যমে সৈকতের সৌন্দর্য দেখে স্বামীকে উদ্বুদ্ধ করে এসেছি। বিশেষ করে, লাল কাঁকড়ার ঝাঁক দেখার জন্য এখানে এসেছিলাম। কিন্তু কোথাও খোঁজে পাইনি। স্থানীয়দের কাছে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম শহর থেকে অনেক দক্ষিণে ইনানীর পরে যেতে হবে। কিন্তু এতদূর তো যাওয়া সম্ভব না।’

চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে সপরিবারে আসা শিক্ষক আবদুল কাদের বলেন, ‘বাড়ি চট্টগ্রাম হলেও প্রতিবছর কক্সবাজার আসি। পর্যটন মৌসুম ছাড়াও বেশ কয়েকবার এখানে আসার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য সময়ের চেয়ে পর্যটকে ভরপুর মৌসুমে সমুদ্র সৈকতে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় তৈরি হয়। বিভিন্ন স্থানে ডাবের খোসা, বিস্কুট-চানাচুরের পরিত্যক্ত প্যাকেট ও কলার খোসার মতো ময়লা-আবর্জনা দেখে খারাপ লাগে।’

কক্সবাজার পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আয়াছুর রহমান বলেন, সৈকতে মানুষের অবাধ বিচরণের কারণে সেখানকার প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য এখন হুমকির মুখে। এক সময় সৈকতজুড়ে দেখা যেত লাল কাঁকড়ার দৌড়ঝাঁপ। কিন্তু সেই দৃশ্য এখন আমরা হারাতে বসেছি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার শাখার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ‘অতিরিক্ত পর্যটকের কারণে সৈকতে প্লাস্টিকের বর্জ্য বেড়ে যায়। বিস্কুট, চিপস, বিভিন্ন নাস্তার প্যাকেট ও পানীয় পরিত্যক্ত বোতল যত্রতত্র পড়ে থাকে। ময়লা-আবর্জনা অপসারণ সম্ভব না হওয়ার কারণে সৈকতের পরিবেশ দূষণ হয়।

‘এ ছাড়া হোটেলের মলমূত্রাদি সমুদ্রের পানির সাথে মিশে যায়। সে পানিতে পর্যটকরা গোসল করে ফলে নানা ধরণের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়। পর্যটক বেশি থাকায় সৈকত এলাকায় শৌচাগার নিয়েও বিরাট সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অনেকেই শৌচাগার কিংবা টয়লেট না পেয়ে খোলা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ করে। এতে পর্যটকের আধিক্যে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়।’

Comments

comments

Posted ১:১৩ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com