• শিরোনাম

    পাঁচ লাখ রোহিঙ্গাকে বায়োমেট্টিক পরিচয়পত্র প্রদান

    বার্তা পরিবেশক | ০৯ আগস্ট ২০১৯ | ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ

    পাঁচ লাখ রোহিঙ্গাকে বায়োমেট্টিক পরিচয়পত্র প্রদান

    মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাঁচ লক্ষেরও বেশি শরণার্থী বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই-কমিশনার, ইউএনএইচসিআর কর্তৃক যৌথ ভাবে নিবন্ধিত হয়েছেন।
    তাদের বেশিরভাগের ক্ষেত্রে এটাই তাদের জীবনের প্রথম কোন পরিচয়পত্র প্রাপ্তি।
    এই কার্ডটি বায়োমেট্রিক তথ্য সম্বলিত এবং এটি নকল/জাল করা সম্ভব নয়। ১২ বছরের অধিক বয়সী যাচাই-কৃত সকল শরণার্থীকে এই কার্ডটি প্রদান করা হচ্ছে।
    সর্বাঙ্গীণ নিবন্ধন প্রক্রিয়া বাংলাদেশে অবস্থানরত শরণার্থী সম্পর্কিত তথ্যের যথাযথতা নিশ্চিত করে, যা জাতীয় কর্তৃপক্ষ এবং মানবিক সংস্থা সমূহকে শরণার্থী জনগোষ্ঠী এবং তাদের প্রয়োজনসমূহ সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রদান করবে। সঠিক তথ্যভা-ার কর্মরত সংস্থাসমূহকে তাদের কর্মসূচি পরিকল্পনা করতে এবং নারী ও শিশু কর্তৃক পরিচালিত পরিবার এবং প্রতিবন্ধীসহ সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় থাকা মানুষদের জন্য বিশেষ সহযোগিতা প্রদান করতে সক্ষম করবে।
    নিবন্ধনের সময় সংগৃহীত বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে ইউএনএইচসিআর গত সপ্তাহে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা স্থাপনায় প্রথমবারের মতো গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন টুল (এউঞ) উদ্বোধন করেছে । আঙ্গুলের ছাপ অথবা চোখের মণি’র স্ক্যান যাচাই করার মাধ্যমে এই পদ্ধতি সাহায্য বিতরণ ব্যাবস্থাকে ত্বরান্বিত করে । এটি নকল/জাল প্রতিরোধী এবং সাহায্য প্রদানের ক্ষেত্রে যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেটা নিশ্চিতের
    জন্য সংস্থাগুলো নব্যবহার করতে পারে । সাহায্য পাওয়ার ক্ষেত্রে কেউ যাতে বাদ না পড়ে সেটির নিশ্চয়তা দেয়া হয় এই পদ্ধতির মাধ্যমে । সামনের সপ্তাহগুলোতে এ পদ্ধতিকে আরও অন্যান্য স্থাপনায় প্রয়োগ করা হবে ।
    ইউএনএইচসিআর-বাংলাদেশ এর প্রতিনিধি স্টিভেন করলিস বলেন, “এটি আমাদের নিবন্ধন কর্মকা-ে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। এই কার্ডটি থাকায় নিবন্ধিত শরণার্থীরা আরও নিরাপদ বোধ করবেন এবং বাংলাদেশে অবস্থানকালে তাদের প্রয়োজনীয় সেবাসমূহ গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়াও, এই কার্ডে স্পষ্ট করে উল্লেখ রয়েছে যে তাঁদের মূল দেশ মিয়ানমার। তাঁরা যখন নিজের দেশে ফিরে যেতে চাইবে তখন এই কার্ডটি তাঁদের নিজের দেশে ফেরার অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে”।
    কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসনে ৯০০,০০০ এরও বেশি শরণার্থী বসবার করেন যাদের মধ্যে ৭৪০,০০০ শরণার্থী ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের পর মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছেন বলে ধারণা করা হয়।
    এই নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি ২০১৮ সালের জুন মাসে শুরু হয়। বর্তমানে শরণার্থীদের আবাসন এলাকায় স্থাপিত ৭ টি কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ৫,০০০ শরণার্থীকে নিবন্ধন করা হচ্ছে। ২০১৯ সালের শেষ তিন মাসের মধ্যে সকল শরণার্থীদের নিবন্ধন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ৫৫০ জনেরও বেশি কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।
    শরণার্থী নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় তাঁদের মৌলিক তথ্য সহ, পারিবারিক সংযোগ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নথিভুক্ত করা হয়। ইউএনএইচসিআর এর বায়োমেট্রিক পরিচয় ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (ইরড়সবঃৎরপ ওফবহঃরঃু গধহধমবসবহঃ ঝুংঃবস – ইওগঝ) বায়োমেট্রিক তথ্য, যেমন আঙ্গুলের ছাপ, চোখের মণি’র স্ক্যান-কৃত তথ্য সংরক্ষণ করে যা প্রত্যেক শরণার্থীর অনন্য পরিচয় নিশ্চিত করে।
    ইউএনএইচসিআর এবং বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষ নিয়মিত শরণার্থীদের সাথে সাক্ষাত করেন। কমিউনিটিতে নির্বাচিত নেতা/নেত্রি, ইমাম, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শিক্ষক সহ তাঁদের নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাত করে নিবন্ধনের উপযোগিতা ব্যাখ্যা করে এবং এ সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দেন। শরণার্থী স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে প্রতিষ্ঠিত টীম মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেন এবং তাঁদেরকে নিবন্ধন করতে উৎসাহিত করেন।
    রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশের এমন একটি অংশে বসবাস করছেন যা প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে।
    রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বাংলাদেশের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে ইউএনএইচসিআর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছে । জুলাই মাসের শেষ নাগাদ ইউএনএইচসিআর এবং বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে কর্মরত সহযোগী সংস্থাগুলো মোট ৩১৮ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সাহায্য পেয়েছে, যা ২০১৯ সালের জন্য প্রয়োজনীয় মোট ৯২০ মিনিয়ন ডলারের এক তৃতীয়াংশের সামান্য বেশি ।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ