• শিরোনাম

    পালংখালীর জয়নাল মেম্বার নারী অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৮ জুলাই ২০১৯ | ১:২৯ পূর্বাহ্ণ

    পালংখালীর জয়নাল মেম্বার নারী অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

    অবশেষে ধরা পড়েছেন উখিয়া সীমান্তের এক বড় মাপের ইয়াবা কারবারি যুবদল নেতা জয়নাল উদ্দিন (২৯) প্রকাশ জয়নাল মেম্বার। তাও হোটেলে পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন একেবারে এক নারী, অস্ত্র ও ইয়াবার চালান নিয়েই।
    কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ তাকে আজ শনিবার কক্সবাজার সাগর পাড়ের কলাতলি এলাকার একটি কটেজ থেকে গ্রেপ্তার করেন। তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমার সীমান্তে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।পুলিশের অভিযানে জয়নাল মেম্বারের নিকট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি দেশীয় বন্দুক, ২ রাউন্ড কার্তুজ, ২০০ পিস ইয়াবা ও এক তরুণী এনজিও কর্মী। আটক হওয়া তরুণী রোহিঙ্গা শিবিরের এক এনজিওতে চাকরি করছেন। জিন্নাতুনন্নেছা নামের ওই এনজিও তরুণী কর্মী বগুড়ার বাসিন্দা। ওই তরুণী জয়নাল মেম্বারের বান্ধবী এবং তার বিরুদ্ধেও রোহিঙ্গা শিবির ভিত্তিক ইয়াবা কারবারের অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর জয়নাল মেম্বার ও তার এনজিও বান্ধবীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ইয়াবার ২টি মামলায় শনিবারই আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে।
    গ্রেপ্তার হওয়া জয়নাল মেম্বার কক্সবাজার জেলা ডিবি পুলিশের এক সময়ের সোর্স হিসেবে নাম লিখিয়ে শুরু করেছিলেন ইয়াবা কারবার। সেই কারবারি পরবর্তীতে উখিয়া থানা পুলিশের সবচেয়ে বেশী নির্ভরশীল ইয়াবা সোর্স হিসেবে পরিচিত লাভ করেন। ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে তার ইয়াবা কারবার। চারিদিকে তিনিই এবার নিয়োগ দিতে শুরু করেছেন ইয়াবা কারবারের সোর্স।

    কয়েকটি রোহিঙ্গা শিবিরের ইয়াবার বাজারও নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। গত এক দশকেরও বেশী সময় ধরে তিনি লাগাতার কারবার করে আসলেও উখিয়া থানা পুলিশের কাছে তিনি অধরাই থেকে গেছেন।
    জয়নাল উদ্দিন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের একজন মেম্বার। মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন পালংখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তাজনিরমার খোলা এলাকার জয়নাল আবেদীন প্রকাশ ইয়াবা জয়নাল মেম্বার কেবল একজন ইয়াবা ডন নন। তিনি এলাকায় একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবেও এক নামে পরিচিত।

    বিএনপির অঙ্গসংগঠন উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক তিনি (ইয়াবা জয়নাল)। স্থানীয় বিএনপি রাজনীতির মাঠে তিনি একজন বড় মাপের অর্থ যোগানদাতা।
    অভিযোগ রয়েছে, যুবদল নেতা ইয়াবা জয়নাল তার কারবার সামাল দিতে কৌশলে স্থানীয় তৃণমূল আওয়ামী লীগের কর্মীদের ব্যবহার করে থাকেন। আর পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগ কর্মীদের সহযোগিতায় আয় করা টাকাই আবার তিনি ব্যয় করেন আওয়ামী লীগ রাজনীতি ধ্বংসের কাজে।
    আরো অভিযোগ রয়েছে, যুবদল নেতা মেম্বার জয়নাল আবেদীনের দুটি সশস্ত্র গ্রুপও রয়েছে। একটি রোহিঙ্গা শিবিরে এবং অপরটি স্থানীয় গ্রামে তাদের প্রত্যেকের কাছেই রয়েছে অবৈধ অস্ত্রশস্ত্র। অবৈধ অস্ত্রধারীদের নিয়েই তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন।
    এলাকার মানুষের অভিযোগ হচ্ছে, উখিয়া থানার একজন বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়-সরকার বিরোধী একটি রাজনৈতিক দলের এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়েও জয়নাল মেম্বার গত দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে চালানে ইয়াবার কারবার চালিয়ে গেছেন। উখিয়া থানা পুলিশ এ যাবৎ এই ইয়াবা তার ধারে কাছেও যেতে পারেনি।

    ইয়াবা জয়নালের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হচ্ছে- ২০১৭ সালে উদ্ধার করা দশ লাখ ইয়াবার যে চালানটি নিয়ে দেশব্যাপী পুলিশের বিরুদ্ধে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সেই চালানের একটি অংশ তিনি নিজেই বিক্রি করেছেন। তিনি স্থানীয় কয়েকটি রোহিঙ্গা শিবিরের ইয়াবা কারবারের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
    এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেছেন, জয়নালের ইয়াবা কারবারের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি এতদিন তার কাছে জানা ছিল না। এবার তার ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ