• শিরোনাম

    বিপদের সময় যে যুবলীগ নেতা খাবারের থালা নিয়ে হাত বাড়িয়েছিল তাকেই হত্যা করেছে রোহিঙ্গারা

    ‘পাল্টে গেছে রোহিঙ্গা মানবতা’

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৩ আগস্ট ২০১৯ | ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

    ‘পাল্টে গেছে রোহিঙ্গা মানবতা’

    যে মানবিক ছেলেটি ২০১৭ সালের আগস্ট পরবর্তী টেকনাফ সীমান্তে রোহিঙ্গাদের নিজ হাতে ঘরে রান্না করা খাবার তুলে দিয়েছিলেন, দুই বছরের মাথায় সেই রোহিঙ্গারাই অস্ত্র হাতে মানবিক গুণাবলীসম্পন্ন ছেলেটিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সংগঠিত কক্সবাজারের টেকনাফের যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যাকান্ডের ঘটনায় গোটা সীমান্তে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই হত্যাকান্ডের পর সীমান্ত জনপদের লোকজন বলছেন, ‘রোহিঙ্গা মানবতা এখন পাল্টে গেছে।’

    টেকনাফ সীমান্তের হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা এলাকার বিশিষ্ট জমিদার আব্দুল মোনাফ কোম্পানি তার ছয় পুত্রকে নিয়ে ২০১৭ সালের আগস্ট পরবর্তী রোহিঙ্গা ঢলে মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। জমিদার মোনাফ কোম্পানি তার বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি জুড়ে নিজেরাই আশ্রয় শিবির তৈরী করে হাজার হাজার হতভাগা নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারী পুরুষকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। মোনাফ কোম্পানির সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন ছিলেন ওমর ফারুক।

    জাদিমুরা এলাকার বাসিন্দারা জানান, ২০১৭ সালের আগস্ট পরবর্তী সময়ে ওমর ফারুক তার নিজ হাতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের খাবার দিয়েছেন, বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। তার পৈত্রিকা সম্পত্তিতে রোহিঙ্গাদের ঝুঁপড়ি তৈরী করে দিয়ে ঠাঁই দিয়েছিলেন। এমনকি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দেশী বিদেশী সাহায্য পৌঁছার আগে তিনি প্রতিদিন তার বাড়িতে খাবার রান্না করে রোহিঙ্গাদের কাছে পৌঁছে দিতেন। শেষ পর্যন্ত সেই রোহিঙ্গারাই তাকে হত্যা করেছে নির্মম ভাবে।

    স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বাশার বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ওমর ফারুকের বাবার কমপক্ষে ৮/১০ কানি জমি রয়েছে, যেখানে রোহিঙ্গারা বসতি স্থাপন করেছে। সেখানে তার একটি ইট ভাটাও ছিল। যেটিতে রোহিঙ্গাদের বসবাসের কারনে এখন বন্ধ রয়েছে। এক কথায় রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে বেশি মানবতা দেখিয়েছিলেন জাদিমুরার এই জমিদার পরিবারটি। শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা সেই খাতিরও দেখেননি।’

    শুক্রবার দুপুরে নিজ বাড়িতে ওমর ফারুকের বাবা মোনাফ কোম্পানি বিলাপ করতে করতে বলেন‘ হায় পুত, আমাদের রেখে তুই কোথায় চলে গেলি ? তুই না থাকলে গরীব অসহায় দের কে মানবতা দেখাবে ?’ এভাবে করে চিৎকার করতে করতে তিনি মাঠিতে লুঠিয়ে পড়েন।
    কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, রোহিঙ্গাদের আমরা অনেক মানবতা দেখিয়েছি। তারা এখন উল্টো স্থানীয়দের উপর আক্রমণ করছে। রোহিঙ্গারা আমাদের সেই মানবতার কোন মূল্যই দিচ্ছেনা। রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া দরকার। তা না হলে ভবিষ্যতে সংকট আরো ঘনিভূত হবে।’

    এদিকে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে ওমর ফারুক হত্যার বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে ‘রোহিঙ্গা ভিশন’ নামে একটি অনলাইন টেলিভিশন। রোহিঙ্গাদের পরিচালিত ওই টেলিভিশন থেকে সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করতে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশীরা এখন ক্ষিপ্ত হয়ে রোহিঙ্গাদের উপর হামলা শুরু করেছে। এ ধরনের অপপ্রচারের মাধ্যমে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমটি রোহিঙ্গাদের উস্কে দেয়ার চেষ্ট করছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ