• শিরোনাম

    আদালতের হাজতখানায়ও ইয়াবা কারবারীদের বিশেষ কদর: রমরমা দুর্নীতি

    পুলিশ ব্যারাকে সাবেক এমপি বদির ভাই শুকুর

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৯ জুন ২০১৯ | ১:১৮ পূর্বাহ্ণ

    পুলিশ ব্যারাকে সাবেক এমপি বদির ভাই শুকুর

    কক্সবাজার কারাগারে আটক আত্মসমর্পণ করা ১০২ ইয়াবা কারবারির অন্যতম এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৩নং তালিকাভুক্ত ইয়াবা ডন সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদির ছোট ভাই আবদুস শুকুর গতকাল মঙ্গলবার কক্সবাজার আদালতের পুলিশ ব্যারাকে আলাপে (বামে) মত্ত তালিকাভুক্ত কারবারি হায়দার আলী ও অপর একজনের সাথে।

    কক্সবাজারে ইয়াবা কারবারিদের নিয়ে কেবল জেলা কারাগারে নয়, আদালত হাজতখানায়ও চলছে রমরমা বাণিজ্য। বিশেষ করে কক্সবাজারে আটক আতœসমর্পণ করা ১০২ জন ইয়াবা কারবারিদের নিয়েই পুলিশ ও কারারক্ষীরা বাণিজ্যে নেমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা কারাগারে কারবারিদের থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে পদে পদে যেমনি দুর্নীতি চলছে তেমনি আদালতের হাজতখানা কেন্দ্রিক দুর্নীতির চিত্র আরো ভয়াবহ বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
    অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজারের আদালত হাজাতে আনা হাজতি আসামীদের নিয়ে পুলিশ সদস্যরা নানা দুর্নীতিতে জড়িত রয়েছে। হাজতখানা থেকে বের করে স্বজনদের সাথে আলাপের সুযোগে আদায় করা হয় বিপুর অংকের টাকা। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ আসামী যথা আতœসমর্পণ করা ১০২ জন ইয়াবা কারবারির মত দুর্ধর্ষ আসামীদের নিয়ে এরকম অবৈধ সুযোগ সুবিধা দিতে গিয়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনারও শংকা করা হচ্ছে। যেমন জঙ্গি আপহরণের মত ঘটনারও নজির রয়েছে এখানে।
    কক্সবাজারের আদালত হাজতখানায় প্রতিদিন গড়ে অর্ধ শতাধিক হাজতি আসামী জেলা কারাগার থেকে চলমান মামলায় উপস্থিতির জন্য আনা হয়। এসব হাজতি আসামীদের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক থাকেন ইয়াবা কারবারি। আবার হাজতি কারবারিদেরও সাথে থাকেন আতœসমর্পণ করা ১০২ জনের বড় বড় গডফাদারগণ। বিভিন্ন আদালতের পরোয়ানা নিয়ে তাদের করাগার থেকে আনা হয় আদালতে। আতœসমর্পণ করা ১০২ জন ইয়াবা কারবারিদের নিয়ে যাতে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির কোন ব্যত্যয় না ঘটে সেজন্য কারাগারে ও আদালতের হাজত খানায় বিশেষ নজরদারির তাগিদ থাকা সত্বেও এসবের কোন তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না।
    গতকাল মঙ্গলবার জেলা কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় ৩ নম্বরে থাকা ইয়াবা ডন টেকনাফের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির ছোট ভাই আবদুস শুকুর। ইয়াবা ডন শুকুরকে আদালতের হাজতখানায় আনার পর থেকেই টেকনাফ সীমান্তের ইয়াবা কারবারিরা তার সাথে সাক্ষাৎ করতে মরিয়া হয়ে পড়ে। আর এমন সুযোগও হাতছাড়া করতে রাজি নয় কক্সবাজার আদালতের হাজতখানার দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।
    গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায় ইয়াবা ডন আবদুস শুকুরকে হাজতখানা থেকে বের করে পার্শ্বের্¦র পুলিশ ব্যরাকে নিয়ে যেতে। ব্যরাকের একটি বিছানায় বসে লাল গেঞ্জি পরিহিত হাতকড়া লাগানো ইয়াবা ডন আবদুস শুকুর আলাপে বসেন তারই ফুফা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তারিকাভুক্ত অপর কারবারি হায়দার আলী ও অপর একজনের সাথে। তালিকা ভুক্ত কারবারি হায়দার আলীর পুত্র কামরুল হাসান রাশেদও একজন তালিকাভুক্ত কারবারি। আতœসমর্পণ করা ১০২ কারবারির সাথে কামরুর হাসান রাশেদও রয়েছেন।
    কক্সবাজারের হাজতখানা থেকে এরকম প্রায় হাজতি আসামীদের বের করে নিরাপদ স্থানে আতœীয়স্বজন সহ নানা জনের সাথে আলাপের সুযোগ করে দেয়া হয়। এসব বিষয়ে কক্সবাজারের আদালতে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক মোরশেদ পারভেজ তালুকদার বলেন-‘ আমি নতুন যোগদান করেছি এখানে। তদুপরি মঙ্গলবার প্রায় পুরোদিনই আমি ব্যস্ত ছিলাম। তাই এদিকে তেমন নজর দিতে পারিনি। আগামীতে ব্যাপারটি আমি গুরুত্ব দিয়ে দেখব।’

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ