রবিবার ১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

প্রকল্প এলাকায় বিতরণ হলো অধিগ্রহণের চেক ৩০ হাজার টাকার জমির দাম এখন ৭৪ লাখ টাকা

তারেকুর রহমান   |   বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১

প্রকল্প এলাকায় বিতরণ হলো অধিগ্রহণের চেক ৩০ হাজার টাকার জমির দাম এখন ৭৪ লাখ টাকা

কপাল যদি ভালো হয়, সুখ কেড়ে নেয় কে! পৃথিবীতে কেউ ঠেকাতে পারে না কারো উন্নতি বা সৌভাগ্য। উন্নতির পর্যায়ক্রম হিসেবে যদি ছাগল কিনে গরুতে উপনীত হয় তখন বিরাট উন্নতি হিসেবে খুশি হয় মধ্যবিত্ত পর্যায়ের মানুষ। যদি কপাল আরেকটু ভালো হয়ে গরু থেকে মহিষ হয় তখন তো বাঁধ হারা খুশি বিরাজ করে। কিন্তু সেই কপাল যদি অতিরিক্ত ভালো হয়ে ৩০ হাজার টাকার জমি (প্রতি গন্ডায়) ৭৪ লাখ টাকায় দাম পাওয়া যায় তাহলে কী আর বলার।
এখন থেকে ৩০ বছর আগে কক্সবাজার শহরের বিমানবন্দর এলাকার ফসলি জমির দাম ছিল প্রতি গন্ডা ৩০ হাজার টাকা, ভিটে বাড়ির জমি ৩৬ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমানে সেই জমির দাম প্রতি গন্ডায় ৭২ থেকে ৭৪ লাখ টাকা। বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তাবায়নে সেই জমিগুলোর তিনগুণ দাম পেয়ে খুশিতে আত্মহারা জমির মালিকরা।
বুধবার (১৬ জুন) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একদিনে সর্বোচ্চ রেকর্ডে ১১১ কোটি ২৫ হাজার ৮০২ টাকা অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন টার্মিনাল ভবনে চেক বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম (উপসচিব)(এর পৃরষ্ঠা ২, কলাম ১)
প্রকল্প এলাকায় বিতরণ
বলেন, ‘কক্সবাজারের এই বিমানবন্দরকে দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে রূপান্তর করা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন। সেই চিন্তায় বিমানবন্দর এলাকার আশেপাশের ৩২৩ একর জমি তিনগুণ মূল্যে প্রথম পর্যায়ে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উন্নয়নের কাজে সরকারকে আপনাদের এই সহযোগিতা সত্যিই প্রশংসনীয়।’
চেক হাতে পেয়ে খুশি আব্দুল শুক্কুর সিআইপি। তিনি বলেন, ‘একটু দেরি হলেও কোনো ঝামেলা ছাড়া ক্ষতিপূরণের চেক হাতে পেয়েছি। খুবই ভালো লাগছে। এমন সুন্দর ব্যবস্থার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।’
চেক হাতে পেয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের। তিনি বলেন, ‘মূলত জেলা প্রশাসনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই ক্ষতিপূরণের চেক পেলাম। সর্বোচ্চ সহযোগিতার জন্য আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, এই প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭৬ কোটি টাকা। এর আগে বিভিন্ন ধাপে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ভ্যাট ও টেক্স বাদ দিয়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকার কিছু কম চেক বিতরণ করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘গত ৫ বছরে ১১১ কোটি ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা সরকারি ব্যাংকে পড়ে থাকায় লাভসহ ক্ষতিগ্রস্থরা এখন হাতে পাচ্ছেন। একটু দেরি হলেও নিজেদের অধিকারটা সঠিকভাবে পাচ্ছেন তারা। মামলা-মোকদ্দমা নিষ্পত্তি করে ক্ষতিপূরণের টাকা পেলেন ভূমি মালিকরা।
মো. মামুনুর রশীদ আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য- যার প্রাপ্য তার কাছে গিয়ে সরাসরি দেয়া। আমরা ঠিক সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। এখানে বাইরের কেউ যেন সুবিধা নিতে না পারে সে জন্য আমরা সচেতন রয়েছি। প্রকল্প এলাকায় এসে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে নিজেদের অধিকার তথা প্রাপ্য মিটিয়ে দিলাম। আমাদের এই ধারাবাহিকতা যেন অব্যাহত থাকে, সে জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’
যারা জমি দিয়ে, শ্রম দিয়ে ও নানাভাবে সরকারকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের ধন্যবাদ জানান জেলা প্রশাসক। বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে এ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য কেউ কোনো প্রকার টাকা দাবি করে থাকলে তা সরাসরি জেলা প্রশাসককে অবহিত করার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আমিন আল পারভেজ বলেন, ‘বাইরের কোনো মধ্যস্বত্বভোগী আমাদের অফিসের নাম ব্যবহার করে কারো অধিকারে ভাগ বসাতে পারেনি। যার যার ক্ষতিপূরণ তারা নিজ হাতে বুঝে পেয়েছেন।’
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আবছার, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল, প্রেসক্লাব সভাপতি আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুল ইসলাম প্রমুখ।
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা এ উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছেন। এমন উন্নয়ন কাজে জায়গা দিয়ে আপনারা শুধু কক্সবাজার নয়, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা প্রতিষ্ঠায় দৃষ্টান্ত রেখেছেন।
প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু তাহের বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পিত প্রকল্প বাস্তবায়নে এভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে চেক প্রদান প্রশংসা করার মতো। এ সমস্ত চেক সাধারণত অফিস কিংবা ব্যক্তিগতভাবে ডেকে দেয়া হয়। তাই না করে কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়া ভূমি মালিকদের ক্ষতিপূরণ চেক হাতে হাতে পৌঁছে দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রশংসার দাবিদার।’
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনগুণ ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেশের উন্নয়নের জন্য বিমানবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেউ যেন দালাল চক্র দ্বারা প্রতারিত না হয়, সেদিকে প্রধানমন্ত্রীর নজরদারি রয়েছে। একসময়ের অনুন্নত জায়গা এখন কোটি কোটি টাকায় অধিগ্রহণ হচ্ছে। একটু দেরিতে হলেও সবার মুখে আজ আনন্দের ছাপ। এতো দামে ভূমি অধিগ্রহণ এটা অবশ্য কক্সবাজারবাসীর জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার।’
এসময় ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএও) শামীম হোসেন, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মাহমুদুল করিম মাদু, পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহেনা আক্তার পাখি প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের উন্নীত করার প্রকল্পের জন্য ২২ একর জমি অধিগ্রহণ এবং এই খাতে ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। বর্তমানে রানওয়ের কাজ চলমান রয়েছে।

Comments

comments

Posted ৩:৫১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com