• শিরোনাম

    ভারতের পেঁয়াজ ৯০, মায়ানমারের পেঁয়াজ ৬৫ টাকায় বিক্রি

    প্রশাসনের চাপে ব্যবসায়ীদের কৌশল পরিবর্তন

    শহীদুল্লাহ্ কায়সার | ১৫ অক্টোবর ২০১৯ | ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

    প্রশাসনের চাপে ব্যবসায়ীদের কৌশল পরিবর্তন

    কক্সবাজার শহরের বাজারে কিছুতেই কমছে না পেঁয়াজের দাম। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানেও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। চাপে উল্টো কৌশল পরিবর্তন করেছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ করছেন অনেক কম পেঁয়াজ। টেকনাফ বন্দর থেকে মায়ানমারের পেঁয়াজও সরাসরি চট্টগ্রাম চলে যাচ্ছে।

    গতকাল ১৪ অক্টোবর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরের বড় বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। স্পষ্ট বলে দেয়া হয় ৬৫ টাকার বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করা যাবে না। প্রশাসনিক এই অভিযানে দাম কমা দূরে থাক। উল্টো হিতে বিপরীত হতে চলেছে। বিক্রেতারা পেঁয়াজ বিক্রি করতেই অনীহা প্রকাশ করছেন।

    গতকাল রাতে শহরের বড় বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পাইকারি বাজারের দামের সাথে খুচরো বাজারের দামের কোন মিল নেই। পাইকারি বাজারে যেখানে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ভারতের পেঁয়াজ। মায়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। সেখানে খুচরা বাজারে ভারতের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৯০ টাকা এবং মায়ানমারের নি¤œমানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকায়।
    কক্সবাজার শহরের পেঁয়াজের বড় আড়তদারদের সঙ্গে আলাপ করলে তাঁরা দাবি করেন, তাঁদের কারো গুদামেই পেঁয়াজ মজুত নেই। চট্টগ্রামে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এই জন্য গত কয়েকদিন ধরে ৩-৪ বস্তার (১ বস্তা = ৪০ কেজি) বেশি পেঁয়াজ চট্টগ্রাম থেকে আনছেন না। এই পেঁয়াজ খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। প্রশাসন যেভাবে চাপ দিচ্ছে, তাতে প্রশাসনের মান রক্ষার জন্য হলেও ক্ষতিতে ৬৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করবেন তাঁরা।
    শহরের এই ব্যবসায়ীরা বলছেন, খুচরা ব্যবসায়ীদের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাঁদের কোন হাত নেই। তাছাড়া টেকনাফ বন্দরে খালাস হওয়া মায়ানমারের পেঁয়াজ সরাসরি চট্টগ্রাম চলে যায়। এরপর সেখান থেকে কিনে কক্সবাজার আনতে হয়। ফলে চট্টগ্রামে ধার্য্যকৃত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে মায়ানমারের পেঁয়াজ কক্সবাজার শহরে বিক্রি করতে হয়। পণ্য পরিবহন, শ্রমিক খরচ বাদ দিয়ে প্রতি কেজিতে ১ টাকার বেশি লাভ করতে পারেন না তাঁরা। মায়ানমারের পেঁয়াজের গুণগত মান ভালো না। এই কারণে ভোক্তাদের কাছে এই পেঁয়াজের চাহিদাও কম বলেও জানান তাঁরা।

    কক্সবাজার শহরের পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মেসার্স কাসেম এন্ড সন্স, মেসার্স মোস্তফা বাণিজ্যালয়, মেসার্স হাজি নুরুল ইসলাম, ইমন স্টোর এবং মেসার্স রওশন আলী সওদাগর এন্ড সন্স উল্লেখযোগ্য। শহরের প্রায় সব দোকানদার উল্লিখিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পাইকারি দামে পেঁয়াজ কিনে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করেন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা এই প্রতিবেদককে বলেন, প্রশাসন থেকে তাঁদের বলা হয়েছে, যতো টাকাতেই পেঁয়াজ কেনা হোক। ৬৫ টাকার বেশি দরে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা যাবে না। এই কারণে ইতোমধ্যেই অনেক ব্যবসায়ী পেঁয়াজ বিক্রি ছেড়ে দিয়েছেন।

    গতকাল ১৪ অক্টোবর (সোমবার) রাতে উল্লিখিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারিদের সঙ্গে কথা বললে অভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যায়। তাঁদের বক্তব্য হচ্ছে, তাঁরা চট্টগ্রামের বাজার থেকে পেঁয়াজ কিনে শহরের বাজারে সরবরাহ করেন। ফলে পেঁয়াজের দাম উঠা-নামায় তাঁদের কোন হাত নেই। খুচরো বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাও তাঁদের হাতে ন্ইে।

    মেসার্স হাজি নুরুল ইসলাম এর মালিক নুরুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে পেঁয়াজ মজুত নেই। চট্টগ্রাম থেকে দৈনিক ১০-২০ বস্তা (১ বস্তা = ৪০ কেজি) পেঁয়াজ এনে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করি। আজ (১৪ অক্টোবর) ভারতের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭০ দরে বিক্রি করেছি। অথচ আজও আমাকে ৮০ টাকা দরে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ থেকে পেঁয়াজ কিনতে হলো।

    ইমন স্টোরের মালিক মোহাম্মদ ইদ্রিছ বলেন, আমার কাছে পেঁয়াজ মজুত নেই। শনিবারও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ৬৭ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করি। গত দুই দিন ধরে বিক্রি ছেড়ে দিয়েছি। ভারতে বন্যার কারণে এদেশে পেঁয়াজ আসা অনেক কমে গেছে। এই কারণে দাম বেড়ে গেছে।

    অন্য এক প্রশ্নের জবাবে এই পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা বলেন, তুরস্ক, ভুটান, মিশরের মতো দেশ থেকে এদেশে পেঁয়াজ আমদানি। বাস্তবতা হচ্ছে, পেঁয়াজ পঁচনশীল। এই কারণে দূর দেশ থেকে পেঁয়াজ এনে বাজারজাতকরণ ততোটা সহজ হবে না।

    কাসেম এন্ড সন্স এর ব্যবস্থাপক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, আমরা শহরের পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন না। শহরের হাজি ইদ্রিছ এবং ইমন ট্রেডার্স থেকে কিনে থাকি। এরপর ভোক্তাদের কাছে প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে ভারতের পেঁয়াজ বিক্রি করি।

    মেসার্স মোস্তফা বাণিজ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির মালিক টেকনাফ বন্দরে অবস্থান করছেন। এই প্রতিষ্ঠান ভারতের পেঁয়াজ বিক্রি করে না। মায়ানমারের পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে ৬৫ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি করে থাকে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ