• শিরোনাম

    নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৩৫ হাজার রোহিঙ্গাকে

    প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকিতে দেড় লাখের অধিক রোহিঙ্গা

    শফিক আজাদ,উখিয়া | ১০ জুলাই ২০১৮ | ১০:১৯ অপরাহ্ণ

    প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকিতে দেড় লাখের অধিক রোহিঙ্গা

    মিয়ানমার সেনা,বিজিপি ও রাখাইন উগ্রবাদীর হাতে বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়ে এদেশে পালিয়ে এসে উখিয়া-টেকনাফের বিশাল বনভূমির জায়গায় বসতি নির্মাণ করে আশ্রয় নেওয়া ৭ লাখের অধিক রোহিঙ্গার মধ্যে পাহাড়ের উপরে, নিচে এবং ঢালুতে অবস্থান নেওয়ায় প্রায় ২লাখ রোহিঙ্গা ঝুকিতে রয়েছে। এসব রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে ইতিমধ্যে ৩৫হাজার রোহিঙ্গাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিলেও দেড় লাখের অধিক রোহিঙ্গা কম বেশি রয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকিতে। তবে বাকী দেড় লাখ রোহিঙ্গাদের আপাতত সরানোর পরিকল্পনা নেই উল্লেখ্য করে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম বলেন, ‘চলতি বর্ষা মৌসুমে আমরা দুই লাখ রোহিঙ্গাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করেছিলাম।

    এরমধ্যে মারাত্মক ঝুঁকিতে ছিল ৩৫ হাজার রোহিঙ্গা। আমরা মূলত এই ৩৫ হাজার রোহিঙ্গাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছি। অন্যান্যদের অবস্থা বুঝে পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়া হবে। দুর্যোগ বেশি না হলে বাকি রোহিঙ্গাদের তেমন কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’ কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দিপু বলেন, ‘ঝুঁকিতে থাকা রোহিঙ্গাদের সরানোর নামে নতুন করে বেশ কিছু পাহাড় কেটেছে প্রশাসন। রোহিঙ্গাদের এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে সরিয়ে নিয়ে এ কেমন ঝুঁকিমুক্ত করতে চাইছে প্রশাসন? নতুন বসতি তৈরির অজুহাতে এনজিওগুলো যেভাবে পাহাড় কেটে মরুভূমিতে পরিণত করছে, তাতে মনে হয় বনভূমি সংরক্ষণের কেউ এখানে নেই।

    যেভাবে পাহাড় কেটে সাবাড় করা হচ্ছে, এতে এনজিওগুলোর স্বার্থসিদ্ধি হলেও এলাকার মানুষের জন্য ভয়াবহ পরিণতির দিন ঘনিয়ে আসছে। এ থেকে তখন কেউ রেহাই পাবে না। তাই এনজিগুলোর এসব অপকর্ম ঠেকাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আলী কবির বলেন, ‘বসতি নির্মাণের জন্য এ পর্যন্ত সাড়ে ৫ হাজার একর বনভূমি রোহিঙ্গাদের দখলে চলে গেছে। কোনও ধরনের পরিকল্পনা ছাড়াই এটা করা হয়েছে। এজন্য বন বিভাগের কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। আর এখন নতুন করে যেসব পাহাড় কাটা হচ্ছে, সঠিক পরিকল্পনা না নিলে বর্ষা মৌসুমে সেগুলোও ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    উখিয়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রোহিঙ্গা অধ্যূষিত পালংখালীর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা এসে আশ্রয় নেওয়ার সময় পাহাড় অথবা বন সম্পদের তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। কিন্তু রোহিঙ্গাদের সেবা দেওয়ার নামে যেসব এনজিও উখিয়ায় এসেছে তারা নির্বিচারে পাহাড় কেটে সমতল করে ফেলেছে। ধ্বস করেছে গাছ-গাছালি ও বন্যপ্রাণী। যার ফলে রোহিঙ্গারা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গা বসতি গুলো সরিয়ে নেওয়া না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংখা করেন তিনি। উল্লেখ্য যে, গত বছরের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ৭ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে।

    এর আগে পালিয়ে আসা চার লাখসহ কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে ছোট-বড় ২০টি ক্যাম্পে প্রায় ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, সাড়ে পাঁচ হাজার একর বনভূমিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো গড়ে ওঠার কথা বলা হলেও বাস্তবে ১০ হাজার একরেরও বেশি বনভূমিতে রোহিঙ্গারা অবস্থান করছেন। তারা বসতি গড়ে তুলতে নতুন নতুন বনভূমি দখল করে গাছ কেটে পাহাড় ন্যাড়া করে ফেলছেন। দেশবিদেশ /১০ জুলাই ২০১৮/ নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ