• শিরোনাম

    ফিলিপাইনের টাল আগ্নেয়গিরি থেকে লাভাস্রোত, ‘বিপজ্জনক অগ্নুৎপাতের’ শঙ্কা

    দেশবিদেশ অনলাইন ডেস্ক | ১৩ জানুয়ারি ২০২০ | ৮:০৯ অপরাহ্ণ

    ফিলিপাইনের টাল আগ্নেয়গিরি থেকে লাভাস্রোত, ‘বিপজ্জনক অগ্নুৎপাতের’ শঙ্কা

    ফিলিপাইনের টাল আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা উদগীরণ শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ‘কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের’ মধ্যেই ‘বিপজ্জনক অগ্ন্যুৎপাতের’ শঙ্কা রয়েছে। ‘আগ্নেয়গিরি সুনামি’ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় ছাই ছড়িয়ে পড়ায় বাসিন্দাদের মুখোশ পরার পরামর্শ দিয়েছে।

    স্থানীয় সময় সোমবার সকালের দিকে টাল আগ্নেয়গিরি থেকে দুর্বল লাভা উদগীরণ শুরু হয়। আগ্নেয়গিরিটি রাজধানী ম্যানিলা থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। আগ্নেয়গিরি থেকে লাভাস্রোত বের হওয়ার পর ম্যানিলার দক্ষিণের এলাকা থেকে আট হাজার লোককে আপাতত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের ধারণা, পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে অন্তত দুই লাখ লোককে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কারণ, অদূর ভবিষ্যতে আগ্নেয়গিরি থেকে আরো প্রবলভাবে লাভাস্রোত বেরতে পারে। ফিলিপাইন্সের ইনস্টিটিউট অব ভলক্যানোলজি ও সিসমোলজি রবিবার রাত জুড়ে আগ্নেয়গিরির ভিতর ৭৫টি আগ্নেয় ভূকম্প নথিভুক্ত করেছে।

    আগ্নেয়গিরি থেকে প্রথমে ছাই, পাথর এবং তারপর লাভাস্রোত বেরতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে কাছাকাছি থাকা গ্রামগুলো থেকে গ্রামবাসীদের বিশেষ ত্রাণ শিবিরে নিয়ে আসার কাজ শুরু হয়ে যায়। বালিট শহরের মেয়র উইলসন মারালিট বলেছেন, আমাদের সমস্যা হল, বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তারা ফিরে এসে গরু, শুয়োরগুলোকে নিরাপদ এলাকায় যেতে চাইছেন। তাদের বারবার বলা হচ্ছে, যে কোনো সময় আগ্নেয়গিরি আরো প্রবলভাবে অগ্নুৎপাত শুরু করবে। সেটা হলে তাদের প্রাণ বাঁচানো কঠিন হবে।

    ম্যানিলার দক্ষিণের এলাকা পুরো ছাই ও কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। সেই কালো ধোঁয়া চারপাশে ছড়াচ্ছে। ছাই ও ধোঁয়া প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার ওপরে উঠে গিয়েছে। এরপরই বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বিমান বন্দরের রানওয়েতেও ছাই এসে পড়েছিল। পরে সে সব পরিষ্কার করে আংশিকভাবে বিমান চলাচল শুরু হয়েছে।

    দেশটির পরিবহন মন্ত্রী প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন, জনস্বার্থ ও সুরক্ষার জন্য যা করা দরকার, তারা যেন সেটাই করেন। সোমবার সব স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। ম্যানিলাততেও লোককে বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে। টাল লেক ও তার আশপাশের এলাকা যে কোনো সময় আগ্নেয় সুনামির কবলে পড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।

    টাল দেশটির দ্বিতীয় সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। কিন্তু ১৯৭৭ সালের পর থেকে সেখানে কোনো অগ্নুৎপাত হয়নি। ১৯১১ সালে অবশ্য এই আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে এক হাজার তিনশ ৩৫ জন মারা গিয়েছিলেন। দেশটিতে টাল ছাড়াও প্রায় দুই ডজন জীবন্ত আগ্নেয়গিরি আছে।

    দেশবিদেশ/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ