• শিরোনাম

    কক্সবাজারে তোলপাড়

    বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দোসর আতাউল্লাহ খান প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪ অক্টোবর ২০১৯ | ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

    বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দোসর আতাউল্লাহ খান প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী

    জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বঘোষিত খুনী মেজর ডালিম ও কর্ণেল ফারুক যার গ্রামের বাড়িতে আতিথেয়তা গ্রহণ করেছিলেন সেই আতাউল্লাহ খান ওরফে আতা খান হয়েছেন ভারতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী। আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী এমন পরিবারের একজন ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হয়ে ভারত সফরে যাওয়ার খবরে কক্সবাজারে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, একাত্তরের শহীদ ও বীরাঙ্গণাদের সহ আওয়ামী লীগ সম্পর্কে কটাক্ষ করে জামায়াত-শিবিরের পাঞ্জেরী শিল্পী গোষ্টি নিয়ে যে ব্যক্তি একের পর এক নাটিকা রচনা করেছেন এবার এমন স্বাধীনতা বিরোধী ব্যক্তি হলেন বঙ্গবন্ধু কন্যার সফর সঙ্গী। অথচ গতকাল বৃহষ্পতিবার সকালে ভারত রওয়ানা হওয়া পর্যন্ত সময়েও কক্সবাজারের কেউ জানতেন না এমন ঘটনাটি।

    প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী আতাউল্লাহ খান নামের ওই ব্যক্তি কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের বাসিন্দা। কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের ঠাকুরতলা গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত মৌলভী মকবুল আহমদের পুত্র আতাউল্লাহ খান সহ তারা ৫ ভাই সবাই জামায়াত-শিবির ও ফ্রিডম পার্টির সক্রিয় নেতা-কর্মী। প্রয়াত মৌলভী মকবুল আহমদ ছিলেন মুসলিম লীগের স্থানীয় নেতা এবং ১৯৭৮ সালে তিনি জামায়াতে যোগ দেন। গতকাল দিনব্যাপি পুলিশ ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে নিশ্চিত হয়েছে যে-খান পরিবারের পুরোটাই বর্তমান সরকার বিরোধী একটি চক্র।

    কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন রাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন-‘ মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের এরকম একজন সন্তান কিভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভারতে সফরসঙ্গী হলেন তা নিয়ে এলাকার লোকজনের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।’ এমনকি সেই আতাউল্লাহ খানের পরিবারের অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হওয়া আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মীরা গতকাল বৃহষ্পতিবার এমন খবর শুনে হতবাক হয়ে পড়েছেন।
    পুলিশ সুপার আরো বলেন, কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপেরই একজন বাসিন্দা প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হয়ে ভারত সফরের বিষয়ে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কেউই কিছু জানতেন না। গতকাল ভোরে তিনি খবরটি পেয়ে মহেশখালী দ্বীপের এই বাসিন্দার খবরা-খবর নিতে গিয়ে জানতে পারেন পুরো পরিবারটিই হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী। এমনকি আতাউল্লাহ খান নিজের পরিচয় লুকানোর জন্য আতা খান হিসাবেও পরিচিত হন।

    সেই আতাউল্লাহ খান ওরফে আতা খান সম্পর্কে গোপন খোঁজ নিয়ে পুলিশ জানতে পারে যে, রাজধানী ঢাকার লালবাগে তিনি শিবিরের দায়িত্ব নিয়েও কাজ করেছেন। ১৯৯৬ সালে আতাউল্লাহ খানের ভাই মৌলভী শফিক উল্লাহ খান মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে ফ্রিডম পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন। এই শফিক উল্লাহ খান এক সময় মহেশখালী দ্বীপে সাংবাদিকতার নামে অনেক অপকর্ম করেও বেড়িয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর পরের বছর বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর ডালিম এবং কর্ণেল ফারুক আতাউল্লাহ খান ও তার ভাই শফিকুল্লাহ খানের আমস্ত্রণে মহেশখালী দ্বীপে তাদের গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।

    খান বাড়িতে বসেই কক্সবাজার ও মহেশখালীতে দলের কমিটিও গঠণ করেছিলেন। প্রয়াত মৌলভী মকবুল আহমদ নামের শেষে খান লিখতেন না। অথচ তারই ৫ সন্তান সবাই নামে খান জুড়িয়ে দিয়েছেন। খান বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পদার্পনের পর থেকেই ওরা ৫ ভাইয়ের দাপটে দ্বীপবাসীর হয়েছিল ত্রাহি অবস্থা। মৌলভী শফিক উল্লাহ খান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দল ফ্রিডম পার্টির প্রার্থী হয়ে ১৯৯৬ সালে মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে সাংসদ প্রার্থী হতে পারায় তার দাপটেরও যেন কোন সীমা ছিলনা।
    মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর গতকাল সারাদিন আতাউল্লাহ খানের খোঁজ খবর নিয়ে জানিয়েছেন, ১৯৯৩ সালে মহেশখালী উপজেলা পরিষদ চত্বরে শিবিরের এক সভায় আতাউল্লাহ খান আওয়ামী লীগ ও জাতির জনক সর্ম্পকে আপত্তিকর বক্তব্য রেখেছিলেন। এছাড়াও আতাউল্লাহ খান রচিত পাঞ্জেরী শিল্পী গোষ্ঠির পরিবেশনায় অনুষ্টানে মঞ্চস্থ করা একটি নাটিকায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও বীরাঙ্গণাদের নিয়ে কটুক্তি করা হয়।

    জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় মহাজোটের শরিক দল আজাদী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন বলে বলা হয়েছে। কিন্তু কক্সবাজারে এ ব্যক্তির পরিচয় রয়েছে ভিন্নরুপে। মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান বলেন-‘ এতদিন শুনে আসছি স্বাধীনতা বিরোধী চক্র আমাদের দলে অনুপ্রবেশ করেছে। আর এখন দেখি ফ্রিডম পার্টি এবং জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারগণ খোদ বঙ্গবন্ধু কন্যার সফরসঙ্গী হিসাবেই অনুপ্রবেশ করার সুযোগ পেয়েছে। আমাদের আর বলার কি থাকে ?’

    মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের এমপি আশেক উল্লাহ রফিক বলেন- ‘আতাউল্লাহ খান জামায়াত-শিবিরের শিল্পী গোষ্ঠি পাঞ্জেরীর কেন্দ্রীয় পরিচালক। তিনি প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগ, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রটনা চালিয়েই কাজ করেন।’ এমপি আশেক উল্লাহ রফিক আরো বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই আতাউল্লাহ খান রাতারাতি তার মুখোশ বদলে গায়ে মুজিব কোর্ট নিয়ে অতীতের কর্মকান্ড মুছে ফেলার কাজে রয়েছেন।
    মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার পাশা চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়া সাবেক শিবির ক্যাডার আতাউল্লাহ খান, তার ভাই ফ্রিডম পার্টির ক্যাডার শফিকুল্লাহ খান, স্থানীয় জামায়াত নেতা শাকের উল্লাহ খান, নাছেরুল্লাহ খান ও ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং জামায়াত নেতা বোরহান উদ্দিন খানের অত্যাচার-নির্যাতনের কথা দ্বীপের বাসিন্দারা এখনও ভুলেননি। ফ্রিডম পার্টির ক্যাডার মৌলভী শফিক উল্লাহ খান বিএনপি আমলে আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার পাশা চৌধুরী ও এনামুল করিমকে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছিলেন। এই দুই নেতা দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন।

    আতাউল্লাহ ওরফে আতা খান ১৯৮৬-৮৭ সালে মহেশখালী আদর্শ স্কুলে পড়াকালীন সময়ে শিবিরের সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৯১ সালে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী আসনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হয়ে সংসদ নির্বাচনও করেছিলেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের সকল ভাই দ্বীপ থেকে পালিয়ে পরিচয় গোপন করে ঢাকা-চট্টগ্রামে অবস্থান নিয়ে নানা ভাবে সরকারে অনুপ্রবেশ করে সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে। তাদের দুই ভাই পাকিস্তানেও পালিয়েছিলেন। আতাউল্লাহ গনআজাদী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে এখন অনেক টাকা-পয়সার মালিক। তিনি চেয়ারম্যান-মেম্বার সহ বিশিস্ট ব্যক্তিদের পদক দেয়ার ‘কারবারেও’ জড়িত বলে জানা গেছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ