• শিরোনাম

    উখিয়া যুবলীগের পাল্টা আয়োজন

    বদি কন্যার রাজকীয় বিয়ে-খাবার পরিবেশনে রোহিঙ্গা

    টেকনাফ অফিস | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২:০১ পূর্বাহ্ণ

    বদি কন্যার রাজকীয় বিয়ে-খাবার পরিবেশনে রোহিঙ্গা

    কক্সবাজার-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শাহীন আক্তার ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির একমাত্র মেয়ে ও বেসরকরি বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া সামিয়া রহমান সানির রাজকীয় বিয়ে মহা ধুমধামে সম্পন্ন হয়েছে।
    শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়ার বাড়িতে বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন হয়।
    এ খাবারের জন্য জবাই করা হয় প্রায় ৪০০ ছাগল, ৩২ টি গরু ও ৬ থেকে ৮টি মহিষ। সকাল ১১ থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত খাবারের আয়োজন চলে। বিয়েতে খাবারের জন্য পাঁচটি প্যান্ডেল করা হয়। প্রতি ব্যাচে প্রায় এক হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়। পুরো আয়োজনকে সিসি ক্যামরার আওতায় আনা হয়। আমন্ত্রিত ও স্থানীয় দলীয় লোকজনের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

    ওদিকে বিবাহোত্তর অনুষ্টানেও বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে কাজে লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। যে মুহূর্তে সীমান্তের রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে এক প্রকারের অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে তখনই ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটি জমকালো বিয়ের অনুষ্টান করায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
    জানা গেছে, টেকনাফের সাবেক ও বর্তমান এমপি দম্পতির কন্যার বিবাহোত্তর অনুষ্টানটির আয়োজনে ডেকোরেশন দোকানীর মালিকরা অনুষ্টানের খাবার পরিবেশনের জন্য সীমান্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকজন না পেয়ে এক পর্যায়ে পার্শ্ববর্তী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছুটে যায়।
    টেকনাফ সীমান্ত এলাকার মোঃ ছৈয়দ মোল্লা নামের একজন ডেকোরেশন দোকানী ২০০ জন রোহিঙ্গাকে খাবার পরিশেক হিসাবে ভাড়া করেন। এরপর এসব রোহিঙ্গাদের ডেকোরেশন দোকানীর নাম লেখা একই রংয়ের গেঞ্জি গায়ে পরিয়ে অনুষ্টানে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু ক্যাম্প থেকে গোপনে একই পোশাক পরিহিত রোহিঙ্গাদের বের করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে যান ডেকোরেশন দোকানী।
    রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনা সদস্যরা শুক্রবার এখবর পেয়ে অভিযান শুরু করে দেয়। কর্তব্যরত সেনা সদস্যরা তৎক্ষণাৎ আটকিয়ে দেন ভাড়া করা রোহিঙ্গার একটি বহর। ওই বহরের ৭৮ জন রোহিঙ্গাকে সেনা সদস্যরা ধরে তৎক্ষণাৎ আবার ক্যাম্পে ফিরিয়ে দেন।

    সেনা তৎপরতার খবর পেয়ে ক্যাম্পের চোরাই পথে অবশ্য ডেকোরেশন দোকানীর আরো বেশ কিছু রোহিঙ্গা আলোচিত বিয়ের অনুষ্টানটিতে নেয়া হয়। বিয়ের অনুষ্টানে যোগ দেয়া স্থানীয় অনেকেই বলেছেন, তারা একই রংয়ের গেঞ্জি পরিহিত খাবার সরবরাহকারিকে অনুষ্টানে দেখতে পেয়েছেন।
    এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর বলেছেন-‘আমিও শুনেছি অনুষ্টানে স্থানীয় পরিবেশকের বদলে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভাড়ায় নিয়ে কাজে লাগানো হবার কথা।’ এ প্রসঙ্গে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেছেন-‘ বিয়ের অনুষ্টানে আনতে ক্যাম্প থেকে ডেকোরেশন দোকানী গোপনে রোহিঙ্গাদের বের করার সময় সেনা সদস্যদের হাতে ধরা খাবার কথা শুনেছি।’অপরদিকে উখিয়া উপজেলা যুবলীগ দাওয়াত না পাওয়ায় খাবার দাবারের পাল্টা একটি প্রোগ্রামের আয়োজন করে।

    জানা যায়, রাজকীয় এ বিয়ের জন্য সপ্তাহ ধরে শুধু মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরি এবং সাজসজ্জার কাজ করা হয়। অনুষ্ঠানের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে সাজসজ্জার সরঞ্জামাদি আনা হয়। আয়োজনের তদারকি করেন সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি নিজেই। টেকনাফে এরকম ঝাঁকজমক পূর্ণ এমন বিয়ে আর হয়নি বলে জানান তারা।
    আয়োজনে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, মূল ফটক থেকে বর-কনের মঞ্চ, খাবারের প্যান্ডেল পর্যন্ত অপূর্ব কারু কাজ ছিল। আয়োজন ঘিরে টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়ার এমপি শাহীন আক্তার চৌধুরী ও আবদুর রহমান বদির বাড়ির আঙিনা অভিজাত সাজে সাজানো হয়।
    জানা গেছে, বর নেত্রকোনার জয়নগরের ঐতিহ্যবাহী পরিবারের মনোয়ারা ম্যানশনের সুরত আলী ও বেগম মনোয়ারা আক্তারের ছেলে ব্যারিস্টার রানা তাজউদ্দীন। সামিয়া রহমান সানির সঙ্গে ব্যারিস্টার রানা তাজউদ্দীনের প্রায় নয় মাস আগে আকদ সম্পন্ন হয়। আবদুর রহমান বদি ও শাহীন আক্তার চৌধুরীর মেয়ে সামিয়া রহমান সানি বর্তমানে ঢাকার লন্ডন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজে অনার্স তৃতীয় সেমিস্টারে পড়েন। এদিকে আবদুর রহমান বদির একমাত্র মেয়ের বিয়ে নিয়েও রাজনীতি করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন উখিয়া-টেকনাফ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    এদিকে আবদুর রহমান বদির একমাত্র মেয়ের বিয়ে নিয়েও রাজনীতিকরণ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন উখিয়া-টেকনাফ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, বদি মেয়ের বিয়ে নিয়েও সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি কেবল তার অনুসারী হিসেবে পরিচিতদের মেয়ের বিয়েতে দাওয়াত দিয়েছেন।
    বিয়েতে নিমন্ত্রণ না পেয়ে অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। উখিয়া উপজেলা যুবলীগ পাল্টা আয়োজন হিসেবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ভোজের আয়োজন করেছে। নেতাকর্মীরা চাঁদা তুলে এ আয়োজন করেছে বলে জানিয়েছেন উখিয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন। তার মতে, আবদুুর রহমান বদির দু’টি সংসদ সদস্য নির্বাচন ও বদিপতœী শাহীন আকতার চৌধুরীর একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনে যুবলীগের নেতাকর্মীরা জানবাজি রেখে কাজ করলেও মেয়ের বিয়েতে যুবলীগকে মূল্যায়ন করেনি।
    এ নিয়ে যুবলীগের নেতাকর্মীরা চরম ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট। দাওয়াত বঞ্চিত ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা নিজেরা চাঁদা তুলে ভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। তিনি আরো জানান, নেতাকর্মীরা নৌকার জন্য ব্যানার পোস্টার লাগিয়ে রাজপথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এমন কর্মী ওই দুই এমপির দাওয়াত বঞ্চিত করায় সত্যি দুঃখজনক। ##

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ