বৃহস্পতিবার ২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

বন্দুকযুদ্ধে নিহত মুফিজ আলমদের ৭ ভাইয়ের সিঙ্গাপুর পাড়ায় সাধারণের প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ

টেকনাফ অফিস   |   বৃহস্পতিবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৮

বন্দুকযুদ্ধে নিহত মুফিজ আলমদের ৭ ভাইয়ের সিঙ্গাপুর পাড়ায় সাধারণের প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ

বুধবার ভোরে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের হ্যাচারী জোন এলাকায় তালিকাভুক্ত মাদক পাচারকারী লেদার মুফিজ আলম বন্দুকযুদ্ধে নিহতের পর তাদের ইয়াবা সা¤্রাজ্যের অজানা কাহিনী বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।
জানা যায়, পূর্ব লেদা এলাকায় যে এলাকাটিতে মুফিজ আলমদের বাড়ি, সেই পাড়াটি স্থানীয়ভাবে সিঙ্গাপুর পাড়া হিসাবে পরিচিত ছিল। পূর্ব লেদার সেই পাড়াটিতে মুফিজ আলমদের ৭ভাইয়ের ৭টি প্রাসাদের মতো বাড়ির কারণে এলাকাটি সিঙ্গাপুর পাড়া হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠে। আর সেখানে দুয়েকজন নিকটাত্মীয় বাড়ি ছাড়া অন্যদের বের করে দেওয়া হয়েছিল সেই এলাকা থেকে, যাতে তাদের ইয়াবা পাচারের গোপনীয়তা ও
নিরাপত্তা সহজে ফাঁস না হয়। আর সড়কে বসানো হয়েছিল শক্ত গেইট। সেই গেইটে দিনরাত ২৪ঘন্টা পালাক্রমে পাহাড়ায় থাকতো দুই জন। অপিরিচিত কেউ পাড়ায় ঢুকতে পারতো না। আর পরিচিত কারা আসা যাওয়া করতো তার খবর মোবাইলে তাৎক্ষনিক চলে যেতো সিঙ্গাপুর পাড়ার ৭ভাইয়ের কাছে। এছাড়া লেদা বাজার এলাকায় পাহাড়ায় থাকতো আরো দুইজন। আর তাদের প্রত্যেকের যাতায়াত ছিল নিজস্ব গাড়ি, মোটর সাইকেলে। সূত্রের মতে এই সাত ভাইয়ের মধ্যে জাফর ছিল সবচেয়ে বড় ইয়াবা কারবারী, আর তার হাত ধরে অন্যরা ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে পড়ে। বেশ কয়েক বছর আগে থেকে জাফর ঢাকায় বসবাস করে সেখান থেকে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করতো। এমনকি সিলেটে তার বাড়ি-গাড়ি থাকার তথ্য পাওয়া যায়। তার দুই স্ত্রী। তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনও ইয়াবা পাচারে জড়িত। কোটি টাকা খরচ করে সে শ্বশুড়ের বাড়ি নির্মাণ করে দেয়। তবে বর্তমানে স্ত্রীসহ ঢাকায় আটক হয়ে কারাগারে রয়েছে। তার নামে টেকনাফ সহ দেশের বিভিন্ন থানায় ডজনের বেশী মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এই জাফর সহ তাদের সাত ভাইয়ের প্রায় সবাই স্বরাস্ট্রমন্ত্রণালয়ের মাদকের তালিকায় তাদের নাম ছিল। অপর ভাই মো. আলম চট্টগ্রামে বসবাস করে ইয়াবার নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এই মো. আলম ও রবি আলমের ঘন ঘন দেশের বাইরে যাতায়াতের সূত্র ধরে অনেকে ধারনা করছেন মধ্যপ্রাচ্যেও তাদের ইয়াবার নেটওয়ার্ক থাকতে পারে। এছাড়া অপর ভাইয়েরা এলাকায় অবস্থান করে ইয়াবার কারবার চালিয়ে যাচ্ছিল। এদের মধ্যে মুফিজ আলম ও জাহাঙ্গীর অত্যন্ত দুধর্ষ হিসাবে এলাকায় সবাই তাদেরকে সমিহ করে চলতো। তাদের বড় ভাই শামসুল আলম সরাসরি ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত না থাকলেও তার তিন ছেলে চাচাদের সাথে মিলে ইয়াবার কারবারে জড়িত রয়েছে। নিহত মুফিজ আলম লেদা রোহিঙ্গা বস্তি এলাকায় মুরগীর ফার্ম এর ব্যবসার আড়ালে ইয়াবার কারবার চালাতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি তার কোটি টাকা খরচ করে অন্যান্য ভাইদের মতো আলিশান বাড়ির নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। অথচ হ্নীলা ইউনিয়নের পূর্ব লেদা এলাকার একসময়ের সাধারন কৃষক মৃত লাল মিয়ার ৭ ছেলের সবাই ছোট খাত ব্যবসা, লবণ মাঠ ও সাধারন কাজকর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু ইয়াবা পাচারের বদৌলতে পরিবর্তন হয়ে যায় তাদের আর্থিক অবস্থা থেকে সামাজিক অবস্থান সবকিছু। তবে শুরু থেকেই লাল মিয়ার পরিবারটি এলাকার কট্টর আওয়ামীলীগ সমর্থিত পরিবার হিসাবে এলাকায় পরিচিত। তাদের প্রত্যেকের আওয়ামী বিভিন্ন সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের পদ-পদবীও রয়েছে।
এদিকে বুধবার সন্ধায় পূর্ব লেদা এলাকায় মুফিজ আলমের জানাযা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ জানান, নিহত মুফিজ আলম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারী ও থানায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র-ডাকাতি-মাদক-নারী নির্যাতন ও মানব পাচার আইনে ৭টি মামলা রয়েছে। বন্দুকযুদ্ধে মুফিজ আলম নিহত, অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে ৩টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত বুধবার ভোর ৪টার দিকে মেরিন ড্রাইভের আল মনসুর হ্যাচারী সংলগ্ন এলাকায় দুই ইয়াবা কারবারী গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে মুফিজ আলম নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এছাড়া গত কয়েকদিন ধরে টেকনাফে ইয়াবা বিরুধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। টেকনাফ থানার নবাগত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ গত ১৯ অক্টোবর টেকনাফ থানায় যোগদানের পর হতে নতুন করে ইয়াবা কারবারীদের বাড়িঘরে অভিযান শুরু হয়েছে। এ অভিযানের সময় বেশ কয়েকজন আলোচিত ইয়াবা গডফাদারদের বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

Comments

comments

Posted ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৮

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com