• শিরোনাম

    # টেকনাফে র‌্যাব ও বিজিবির অভিযান # বিদেশী অস্ত্র উদ্ধার য় সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি # অধরা আরো একাধিক স্বশস্ত্র গ্রæপ

    বন্দুকযুদ্ধে সাত রোহিঙ্গা ডাকাত এক ইয়াবাকারবারী নিহত

    জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ | ০৩ মার্চ ২০২০ | ১:৫২ পূর্বাহ্ণ

    বন্দুকযুদ্ধে সাত রোহিঙ্গা ডাকাত এক ইয়াবাকারবারী নিহত

    টেকনাফে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১৫) এর সঙ্গে গুলাগুলির ঘটনায় সাতজন শীর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন জাদিমুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নুর হোসেন ওরফে নুরাইয়া, মো. ফারুক ওরফে ডাকাত ফারুক, শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মো. ইমরান ও মোহাম্মদ আলী। নিহতদের মধ্যে বাকি তিনজনের নামপরিচয় জানা যায়নি।
    গতকাল সোমবার ভোররাত ৫ টা থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা ও শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ে অভিযানটি পরিচালনা করে র‌্যাব-১৫ এর একটি চৌকষ টিম।
    কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ বলেন, টেকনাফের শালবাগান ও জাদিমুরা সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা ডাকাত গ্রæপের উপস্থিতির গোপন সংবাদ পেয়ে র‌্যাবের একটি চৌকষ দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় র‌্যাব সদস্যরা রোহিঙ্গা ডাকাত গ্রæপের আস্তানার কাছাকাছি পৌঁছালে স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা ডাকাতরা র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি ছোড়ে। এতে চারজন র‌্যাব সদস্য আহত হয়। পরে র‌্যাব আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় চার ঘণ্টা ব্যাপী উভয়পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়ের পর ডাকাত গ্রæপের কয়েকজন সদস্য পিছু হটে। পরে র‌্যাব ঘটনাস্থল তল্লাশি করে সেখানে সাতজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিকৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    তিনি আরো বলেন, অভিযানে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে তিনটি বিদেশী পিস্তল, সাতটি ওয়ান শুটার গান, ১২ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও ১৩ রাউন্ড শর্টগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নিহত রোহিঙ্গা ডাকাত সদস্যদের মরদেহ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পৃথক তিনটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
    টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত সাত রোহিঙ্গা ডাকাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র ডাকাতদের আস্তানায় পুলিশের বড় ধরনের অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে। শিগগির সেখানে রোহিঙ্গা অপরাধীদের ধরতে অভিযান চালানো হবে।
    এদিকে র‌্যাবের অভিযানে সাতজন রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত হওয়ার খবরে ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা শীর্ষ ডাকাত জকির গ্রæপসহ অন্য স্বশস্ত্র ডাকাত গ্রæপের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরো কঠোর অবস্থানের দাবি জানিয়েছেন।
    শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা যুবক বলেন,রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক বেশ কয়েকটি ডাকাত দল ক্যাম্পের আশেপাশের পাহাড়ে সক্রিয় রয়েছে। তারা দিনদুপরে ক্যাম্পের ভেতরে বিভিন্ন সময়ে অস্ত্রবাজি করে থাকে। ক্যাম্পে তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেনা। তারা গহীন পাহাড়ে অবস্থান করায় বিভিন্ন সময়ে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর অভিযানে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। তবে এবার র‌্যাবের অভিযানে একসাথে সাতজন ডাকাত মারা যাওয়ায় আমরা কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করছি।
    জাদিমুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বয়োবৃদ্ধ রোহিঙ্গা হোছন আলী বলেন, ক্যাম্পের উঠতি বয়সের রোহিঙ্গা তরুণরা রোহিঙ্গা ডাকাত দলের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছিল। অনেক পরিবারের রোহিঙ্গা যুবকরা ডাকাত দলের সদস্য হতে পারাকে অনেকটা গৌরবের বিষয় হিসেবে দেখে তাকে। তাদের অনেকে নিজেদের ডাকাত দলের সদস্য পরিচয় দিতে পর্যন্ত দ্বিধা করেনা।

    জাদিমুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা নুর আলম বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী ও স্বশস্ত্র ডাকাতদের ধরতে র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা দরকার।
    র‌্যাব-১৫ এর টেকনাফ সিপিসি-১ এর কম্পানি কমান্ডার লেফট্যানেন্ট মির্জা শাহেদ মাহতাব কালের কণ্ঠকে বলেন, টেকনাফের জাদিমুরা, শালবাগান ও নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে একাধিক স্বশস্ত্র ডাকাত গ্রæপ সক্রিয় ছিল। এসব ডাকাত গ্রæপের সদস্যরা ক্যাম্পের ভেতরে ও বাইরে খুন, অপহরণ, মাদক কারবার সহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মকাÐে জড়িত ছিল। ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের কাছে জিম্মি ছিল। তাদের ধরতেই র‌্যাব অভিযানটি পরিচালনা করে।
    তিনি আরো বলেন, পাহাড়ে ডাকাতের আস্তানা শনাক্ত করতে ও স্বশস্ত্র ডাকাতদের ধরতে র‌্যাব এর আগে ড্রোন এবং হেলিকপ্টার দিয়েও অভিযান পরিচালনা করেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ে রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
    প্রসঙ্গত, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের একটি অংশ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মকাÐে জড়িত হয়ে পড়েছে। রোহিঙ্গা শীর্ষ ডাকাত আব্দুল হাকিম ওরফে হাকিম ডাকাত বাহিনী ছাড়াও ক্যাম্পে সক্রিয় রয়েছে একাধিক স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। তারা অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ ও মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাÐ পরিচালনা করে থাকে। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পৃথক অভিযানে এর আগে ৬২ জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছিল। তবে এখনো ক্যাম্প ভিত্তিক একাধিক স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রæপ অধরা রয়ে গেছে।
    বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১ :

    কক্সবাজারের টেকনাফে বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক ইয়াবা কারবারি নিহত হয়েছে। তবে তার পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে জানায় বিজিবি। গতকাল সোমবার ভোররাতে হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা খাল সংলগ্ন এলাকায় ইয়াবা উদ্ধার করতে গেলে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে বলে জানান ২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. ফয়সাল হাসান খান। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে দেড়লাখ পিস ইয়াবা, একটি দেশে তৈরী অস্ত্র ও দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ