• শিরোনাম

    বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র

    দেশবিদেশ অনলাইন ডেস্ক | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৯:০৪ অপরাহ্ণ

    বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র

    যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্রশান্ত কৌশলগত পরিকল্পনায় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সম্পর্ক জোরদার করছে বলেও জানা গেছে। ১০ সেপ্টেম্বর দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের এক বৈঠক শেষে বিবৃতিতে জানানো হয়, এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের শক্তিশালী সম্পর্ক অপরিহার্য।

    ১০ সেপ্টেম্বর হাওয়াইয়ের হনুলুলুতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ প্রধান জেনারেল জোফেস এফ ডানফের্ড ও বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহফুজুর রহমান। ছবি:দ্য জয়েন্ট স্টাফ
    হাওয়াইয়ের হনুলুলুতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ প্রধান জেনারেল জোফেস এফ ডানফের্ড ও বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহফুজুর রহমান। বৈঠক শেষে জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুই সামরিক কর্মকর্তা উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা কীভাবে বৃদ্ধি করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

    ডানফোর্ডের অফিস থেকে জানানা হয়, ‘বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের শক্তিশালী সম্পর্ক অপরিহার্য।

    এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্রশান্ত কৌশলগত পরিকল্পনায় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করে ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনও পরিকল্পনা নিতে চায় না, যা বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশের মনে হবে তাদের বাধ্য করা হয়েছে বা সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করে।

    গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কোঅপারেশন ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট (টিকফা) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় দেশের কর্মকর্তারা বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করার ব্যাপারে অঙ্গীকার করেন। বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাংলাদেশ আমাদের কাছে কৌশলগত কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ইন্দো-প্রশান্ত পরিকল্পনায় বাংলাদেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

    ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি পুনরায় মনে করিয়ে দিয়ে ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইন্দো-প্রশান্ত কৌশলের অংশ হিসেবে আমরা আইনের ভিত্তিতে এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে কেউই দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে বা শ্রমিকের অধিকার খর্ব করে অথবা পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত না করে প্রতিযোগিতায় অন্যায় সুবিধা ভোগ করতে পারবে না।

    ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বাংলাদেশের ব্যাপারে এটাই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর খেয়াল রেখে এমন প্রকল্পের সফলতা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। তবে প্রকল্পগুলোর শর্ত যেন বাংলাদেশ নিজেই নির্বাচন করতে পারে তা নিশ্চিত করা হবে।

    এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনও পরিকল্পনা নিতে চায় না, যা বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশের মনে হবে তাদের বাধ্য করা হয়েছে বা সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

    সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠকের তিন দিন পর ১৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য মুখপাত্র মার্ক লিন্সকট ও বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সচিব সুভাশীষ বোস টিকফা বৈঠকে বসেন।

    টিকফা বৈঠককে ‘খুবই আন্তরিক ও সহযোগিতাপূর্ণ’ মন্তব্য করে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বৈঠকে তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এগুলো হলো, বাজার সুবিধা, ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন ও কারখানায় শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা।

    কারখানার নিরাপত্তা নিয়ে ‘আরও কাজ করার আছে’ বলে মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, বৈঠকে এই বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।

    ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৭২০ কোটি মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একটি ফ্যাক্ট শিট অনুযায়ী, পোশাকজাত ও টেক্সটাইল দ্রব্যে যুক্তরাষ্ট্রই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে মূলত কৃষিপণ্য ও মেশিনারি আমদানি করে বাংলাদেশ, যার পরিমাণ ১৪০ কোটি ডলার। আগের বছরের চেয়ে এটি ৬৩ শতাংশ বেশি। তবে এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৪২০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়ে গেছে বাংলাদেশের।

    বর্তমানে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় উৎস যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৭ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশে দেশটির সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ছিল ২৩ শতাংশ। মার্কিন কোম্পানি শেভরন এককভাবে সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে ৫৫ শতাংশ গ্যাস উত্তোলন করে থাকে এই কোম্পানি।

    মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানায়, এশিয়ায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পর বাংলাদেশকেই সবচেয়ে সহযোগিতা করে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ যেন খাদ্য উৎপাদন, রাস্তা নির্মাণ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও সেনা দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে সেই সহযোগিতা করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    মাতারবাড়ী ঘিরে মহাবন্দর

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ