• শিরোনাম

    বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণশীল কিন্তু গুণগতমান সন্তোষজনক নয়

    | ১৩ আগস্ট ২০১৮ | ৯:৪০ অপরাহ্ণ

    বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণশীল কিন্তু গুণগতমান সন্তোষজনক নয়

    এক বিংশ শতাব্দীর এ বিজ্ঞান বিভাসিত যুগে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। শিক্ষা বিষয়টি একটি সার্বজনীন,ব্যাপক ও বিস্তৃত প্রসঙ্গ। তাই একে কোন সংজ্ঞা বা তত্ত্ব দ্বারা সার্বিকভাবে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সাধারণত মানব সন্তান হিসেবে জম্মগ্রহণ করলেই একজন পরিপূর্ণ মানুষের সব গুণ তার মধ্যে বিকশিত হয়ে ওঠেনা। এসব গুনাবলি তাকে নিজের সাধনায় অর্জন করে নিতে হয় এটাই শিক্ষা। শিক্ষা হল  ‘the harmonious development of body mind and soul’ অর্থাৎ মানুষের মানবিক,দৈহিক ও নৈতিক প্রশিক্ষণের ধারাবাহিক পদ্ধতিই হল শিক্ষা। বাংলাদেশের সংবিধানেই বলে দেওয়া হয়েছে শিক্ষা মানুষের মৌলিখ অধিকার।কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার সন্তোষজনক চিত্র আমাদের চোখে পড়েনা।

    দূঃখজনক হলেও সত্যি যে,বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণশীল কিন্তু গুণগতমান সন্তোষজনক নয়। শিক্ষার ব্যবস্থাপনা ও মান,দুটিই এখন সংকটের মুখে। অভিজ্ঞ ও মেধা সম্পন্ন শিক্ষকের অভাব, শিক্ষকদের আদর্শচ্যুতি, শিক্ষাঙ্গনে অপরাজনীতি, সন্ত্রাস, ত্রুটিপূর্ণ পরীক্ষা পদ্ধতি, প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক পাসের বাধ্যবাদকতা, শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতির বেহাল অবস্থা ইত্যাদি কারণে শিক্ষা ব্যবস্থার আজ বেহাল দশা।

    বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান কিছু সমস্যা,যেমন, আদর্শ শিক্ষা নীতি- স্বাধীনতা লাভের পর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে আদর্শ ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়নি। দেশে প্রাথমিক,মাধ্যমিক,উচ্চমাধ্যমিক,স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এ ৫ ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে। প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হলেও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর এখনো অবহেলার পর্যায়ে। হাতেগুনা কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি হিসেবে সুযোগ সুবিধা পেলেও এখনও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান সেই সুবিধা পাচ্ছেনা। আবার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পাঠ্যপুস্তকের সাথে ইংরেজি মাধ্যম ও-লেভেল কিংবা এ-লেভেল এর সাথে বিস্তর ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়। দ্বিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা- বাংলাদেশে দুই ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে।

    একটি হল বৃটিশদের বস্তুবাদী দর্শনের ভিত্তিতে ও প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা। আর অপরটি হল পূর্ব থেকে চলে আসা মুসলমানদের ধর্মীয় তথা মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা। এই দুই শিক্ষা ব্যবস্থাই দর্শনগত অমিল রয়েছে। যার বিরুপ প্রভাব শিক্ষার্থীদের উপর পড়ে। প্র্যাকটিক্যাল,লজিক্যাল, টেকনিক্যাল ও সাইন্টিফিক শিক্ষার অভাব-আমাদের দেশে মুখস্ত বিদ্যার অনেক দাম। কিন্তু টেকনিক্যাল ও লজিক্যাল বিদ্যার কোন দাম নেই। কারণ পাঠ্য সূচীকে এমনভাবে গঠন করা হয়েছে গদবাধা মুখস্থ না করলে ভাল ফলাফল করা অসম্ভব।কিন্তু বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে এই সাইন্টিফিক এবং যৌক্তিক দিক দিয়ে। ত্রুটিপূর্ণ ভর্তি পরীক্ষা- পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিবছর সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়।

    ভর্তি পরীক্ষায় ব্যাপক ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়।অনেক অযোগ্য শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি করার নজির রয়েছে। ছাত্ররাজনীতি ও সন্ত্রাস- বর্তমানে শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি ও সন্ত্রাস অনুপ্রবেশ করায় পড়াশুনার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। রাজনীতিতে ছাত্ররা ব্যবহৃত হচ্ছে, ফলশ্রুতি বিভিন্ন আন্দোলনে শিক্ষাঙ্গন স্থবির হয়ে পড়েছে।

    শিক্ষক সম্পর্ক- বর্তমান সময়ে শিক্ষার অবনতির ফলে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানচর্চার প্রতি নিবিষ্ট নয়। সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে এখনকার ছাত্ররা যতটা বেপরোয়া এবং উন্নত জীবনযাপনের ধান্ধায় শিক্ষকরাও ততটা বৈষয়িক। এর ফলে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের মধ্যে ব্যবধান ক্রমশ বাড়ছে এবং শিক্ষাঙ্গনে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। শিক্ষক আন্দোলন- বেতন ভাতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বর্তমানে শিক্ষকরা আন্দোলনে রাস্তায় নামছে যা পড়াশুনার পরিবেশে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এছাড়াও অভিভাবকের অবহেলা, প্রশ্নপত্র ফাঁস, বৈষম্যমূলক শিক্ষাব্যবস্থা ইত্যাদি শিক্ষাতে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘঠাচ্ছে।

    শিক্ষা ব্যবস্থায় সংকট সমাধানের উপায়- দেশে শিক্ষা বিভাগ সুসংগতি ও সফল হলে অন্য সকল বিভাগ সহজেই সফল হবে।তাই সরকারের পাশাপাশি আমাদের সকলেরই নৈতিক দায়িত্ব শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমস্যামুক্ত করা। শিক্ষাব্যবস্থার সংকট সমাধান কল্পে আমাদের নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে-
    – শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, বিজ্ঞানসম্মত, কর্মমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও বাস্তবসম্মত করতে হবে।
    – শিক্ষাক্ষেত্রে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং যাবতীয় শিক্ষাবৈষম্য দূর করতে হবে।
    – প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য শিক্ষানীতি প্রণয়ন করতে হবে।
    – শিক্ষাক্ষেত্রে যাতে পূর্ণমেধার বিকাশ ঘটানো সম্ভব হয়, এজন্য মুখস্তনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন সাধন করতে হবে।
    – ইংরেজিকে শুধু বিদেশি ভাষা হিসেবে না দেখে বিশ্বায়নের জন্য অপরিহার্য ভাষা হিসেবে পরিগণিত করতে হবে।
    – বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টার, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ বন্ধ করে শিক্ষার যথাযথ মান বজায় রাখতে হবে।
    – শিক্ষকদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং শিক্ষকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
    – শিক্ষা প্রশাসনকে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে।
    – প্রশ্নপত্র ফাঁস কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
    পরিশেষে কবির ভাষায় বলতে চাই ‘এমন দেশটি কোথাও খুজে পাবে নাকো কেউ,সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি’ সেই জন্মভূমির শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আলোকিত শিক্ষাই আমাদের সকলের একমাত্র কাম্য।

    প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়
    আইন বিভাগ
    ২৫ তম ব্যাচ

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    জানার আগ্রহ ফারজানার

    ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ