বুধবার ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

৩০০ আম গাছ কেটে নিয়ে গেল বিট কর্মকর্তা: টাকা দাবির অভিযোগ

দেশবিদেশ সংবাদদাতা   |   শনিবার, ১০ জুলাই ২০২১

৩০০ আম গাছ কেটে নিয়ে গেল বিট কর্মকর্তা: টাকা দাবির অভিযোগ
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ২ একরের আম বাগান তুলেন টেকনাফ শামলাপুরের কৃষক নবী হোসেন। কৃষি কাজ করে তার সংসার চলে। কিন্তু এ বাগান সরকারি জায়গায় বলে প্রতিনিয়ত টাকা দাবি করতো বন-বিভাগের কর্মকর্তারা।
অসহায় নবী হোসেন বার বার টাকা দিলেও লকডাউনের কারণে এবার দাবিকৃত টাকা দিতে পারেনি বলে শামলাপুর বন-বিট কর্মকর্তা ফেরদৌস তুহিনের নেতৃত্বে ২ একর জমিতে রোপন করা ৩ শতাধিক আম গাছ কেটে নিলেন বলে কৃষক পরিবাবের অভিযোগ।
নবী হোসেনের বলেন, ‘বিগত ৪/৫ বছর ধরে দুই একর জমিতে গড়ে তুলি আমবাগান। এ বাগান করে আমার পুরো পরিবার চলে। গত ৪/৫ বছর ধরে বন-বিভাগের চাহিদা মতো টাকা দিতে পারলেও এবার লকডাউনের কারণে দিতে পারিনি। এছাড়া এবার এক লাখ টাকা দাবি করছে বিট কর্মকর্তা ফেরদৌস। এ নিয়ে গেল কয়েকদিন অনেক তর্কাতর্কির পর শনিবার (১০ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে আমার বাগানের সব গাছ কেটে নিয়ে গেছে। এ লকডাউনের মধ্যে গাছের সব আম বিক্রি করতেও পারিনি। এর মধ্যে সব কেটে শেষ করে দিলো তারা। একটা সুষ্ঠু বিচার চাই।’
নবী হোসেনের ছেলে মো. ইমরান বলেন, টাকা দিতে না পারায় তিন শতাধিক আমগাছ কেটে নিল তারা। আমি চার হাজার টাকা দিতে চাইছি ওরা এক লাখ টাকা দাবি করছে। কিন্তু এই কঠিন সময়ে এতো টাকা কোথায় পাবো।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজ উদ্দিন বলেন, ওখানে আরো অনেকের আম বাগান রয়েছে। কেটে নিলে সব নিতো। কিন্তু একজনের আম গাছ কেটে নিলে তো সেখানে উদ্দেশ্য রয়েছে। নবী হোসেনের কাছে টাকা চেয়েছে এটা শুনেছি। কিন্তু সবাই তো টাকা দিয়ে বাগান করছে। বিষয়টি আলোচনা করে আরো বিস্তারিত দেখি কী করা যায়।
টেকনাফ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন বলেন, ‘টাকা দিতে না পারায় এভাবে নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলা সত্যি দুঃখজনক। এ বিষয়ে জানার জন্য বিট কর্মকর্তা ফেরদৌসকে আমি ফোন দিলেও তিনি কথা বলতে চান না। শুনে আসছি কিছু লোক দিয়ে তিনি প্রত্যেক বাগান থেকে টাকা তুলেন।’
গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে কক্সবাজার দক্ষিন বন-বিভাগের হোয়াইক্যং রেঞ্জের শামলাপুর বিট কর্মকর্তা ফেরদৌস তুহিন বলেন, ‘বাগানের গাছ কেটে সেখানে সামাজিক বনায়ন করা হবে। সেজন্য গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। তবে তিনি টাকা দাবির বিষয়টি এড়িয়ে যান।’
এ ব্যাপারে কক্সবাজার দক্ষিণ বন-বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ন কবির বলেন, ‘টাকা নেয়ার বিষয়টি তদন্ত করা হবে। যদি প্রমানিত হয় তাহলে অবশ্যই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Comments

comments

Posted ৫:৪২ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১০ জুলাই ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com