• শিরোনাম

    মতবিনিময় সভায় এসপি জিল্লুর রহমান

    বিদেশী পর্যটক থাকলে পুলিশকে জানাতে হবে

    শহীদুল্লাহ্ কায়সার | ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

    বিদেশী পর্যটক থাকলে পুলিশকে জানাতে হবে

    অস্ট্রেলিয়ান তরুণি ধর্ষণ প্রচেষ্টায় জেলার পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ওই ঘটনার পর থেকে বিদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা আর মার মেইড ইকো রিসোর্টে থাকতে স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন না। ইতোমধ্যে অনেক বিদেশি পর্যটক রিসোর্ট ত্যাগ করেছেন। যদিও ওই ঘটনার সাথে মারমেইডের কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক ছিলো না। তারপরও বিশ^ব্যাপী প্রচারিত হওয়ায় জেলার পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশের পর্যটনের স্বার্থে এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
    গতকাল ১৯ ডিসেম্বর ট্যুরিস্ট পুলিশের সাথে কক্সবাজার হোটেল , মোটেল, গেস্ট হাউজ, ট্যুর অপারেট মালিক ও প্রতিনিধিদের সাথে পর্যটকদের নিরাপত্তা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা এই কথা বলেন। তারা বলেন, দেশের স্বার্থে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে মেরিন ড্রাইভ সড়কে অনেক কটেজ গড়ে উঠেছে। যেগুলোর কোন ধরনের অনুমোদন নেই। এসব কটেজের অভ্যন্তরিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। জেলাপ্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে অনুমোদনহীন কটেজ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
    পর্যটন ব্যবসায়ীরা কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) এর কঠোর সমালোচনা বলেছেন, কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে কেউ এক গাড়ি ইট নিয়ে গেলেও কউক’র লোকজন ওই বাড়িতে যায়। কিন্তু গুডভিভে নামক একটি অবৈধ কটেজ নির্মাণ করা হলেও কউক এর বিরুদ্ধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
    মতবিনিময় সভায় ট্যুরিস্ট পুলিশের সুপার (এসপি) মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, কোন কটেজে বিদেশী নাগরিক রাতযাপন করলে পুলিশকে জানাতে হয়। কিন্তু গুডভিভেসহ অধিকাংশ কটেজই এই নিয়ম মেনে চলছে না। এসব কটেজের অভ্যন্তরিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই খারাপ। পর্যটকের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশের পাশাপাশি পর্যটন ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
    তিনি বলেন, ধর্ষণ প্রচেষ্টাস্থল হিসেবে আলোচিত গুডভিবে নামক কটেজটির কোন ধরনের অনুমোদন ছিলো না। এমনকি পুলিশও জানেনা ওই এলাকায় একটি কটেজ ছিলো। কটেজটির কথিত মালিক মারমেইড ইকো রিসোর্ট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহাগের আপন ভাই শামীম ওরফে স্যাম। সে ইন্টারনেটের সাহায্যে প্রতারণা করে কটেজে বিদেশী পর্যটক নিয়ে আসতো। দোষী প্রমাণিত হলে অবশ্যই তার শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
    এই ঘটনায় দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। ফলে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের মাধ্যমে বিদেশী অর্থ আসাও আগের তুলনায় কমে যাবে। গণমাধ্যমে প্রকাশের কারণে দেশ-বিদেশে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে প্রচার পেয়েছে।
    অদূর ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য সৈকত এলাকাকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করা হবে। ইনানী, হিমছড়ি, হোটেল-মোটেল জোন এবং সৈকতের পশ্চিম অংশে জোরদার করা হবে পুলিশি ব্যবস্থা। যাতে পর্যটকদের বিশেষ করে বিদেশী পর্যটকদের বিচরণ স্থল সুরক্ষিত থাকে। এ জন্য পুলিশের পাশাপাশি পর্যটন ব্যবসায়ীদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
    অস্ট্রেলিয়ান তরুণি ধর্ষণ প্রচেষ্টার সাথে মারমেইড ইকো রিসোর্টের কোন সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মাহফুজ আলম বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। মারমেইডের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারিও এই ঘটনার সাথে জড়িত নন। কিন্তু মারমেইড ইকো রিসোর্টের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় দেশ-বিদেশে আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণœ হয়েছে।
    শহরের লাবণি পয়েন্ট সৈকত সংলগ্ন ট্যুরিস্ট পুলিশ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গতকাল ১৯ ডিসেম্বর বিকেলে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার, মারমেইড ইকো রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মাহফুজ আলমসহ পর্যটন ব্যবসায়ীরা তাঁদের পর্যটকদের নিরাপত্তা বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এ সময় ট্যুরিস্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর পিন্টু কুমার রায়, ইন্সপেক্টর সাখাওয়াত হোসাইন, ইন্সপেক্টর শাকের আহমদ, ইন্সপেক্টর তারিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ