• শিরোনাম

    কক্সবাজারের আবছার, কাজল, জাহাঙ্গীর, বাদশা,আলম, জাফর, সাঈদী রয়েছেন তালিকায়

    বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে আওয়ামী লীগ

    শহীদুল্লাহ্ কায়সার | ২২ জুলাই ২০১৯ | ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

    বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে আওয়ামী লীগ

    বিগত উপজেলা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিষয়টি এখন প্রায় চূড়ান্ত। চলতি মাসের মধ্যেই যা দৃশ্যমান হবে। এক্ষেত্রে বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচিতদেরও ছাড় দেয়া হচ্ছে না।
    এই তালিকায় রয়েছেন কক্সবাজার জেলার অন্তত ৭ নেতা। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠন যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। বিগত উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েও পাননি। পরবর্তীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে ২ জন ছাড়া ৫ নেতা নির্বাচিতও হয়েছেন।
    বহিস্কারের তালিকায় থাকা সম্ভাব্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নুরুল আবছার, রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রামু উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাফর আহমদ, মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও মহেশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান শরীফ বাদশা, পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এবং টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নুরুল আলম।
    উল্লিখিতদের মধ্যে শরীফ বাদশা, জাফর আহমদ এবং নুরুল আলম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা কারবারি। ফজলুল করিম সাঈদীর বিরুদ্ধে ভুয়া লাইসেন্স প্রদর্শন করে অস্ত্র কেনার চেষ্টায় দায়ের করা মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে এবং জাহাঙ্গীর আলম বর্তমানে কারাগারে।
    জানা গেছে, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিগত উপজেলা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের চিহ্নিত করতেই তালিকাটি প্রণয়ন করা হয়। সে জন্য কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের কাছে মতামত চাইলে, জেলা আওয়ামী লীগ একটি তালিকা কেন্দ্রে পাঠায়। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমেও বিদ্রোহীদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া হয়। বর্তমানে সেই তালিকা অনুসরণ করেই বিদ্রোহীদের বহিস্কারের দিকে এগুচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
    অদূর ভবিষ্যতে সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাময়িকভাবে বহিস্কার করে দেয়া হবে কারণ দর্শানো নোটিশ। সেই নোটিশের সদুত্তর দিতে না পারলে সংগঠন থেকে চূড়ান্তভাবে বহিস্কার করা হবে। সাময়িকভাবে বহিস্কার থেকে শুরু করে চূড়ান্ত বহিস্কার পর্যন্ত সব প্রক্রিয়াই সম্পন্ন করবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এতে জেলা আওয়ামী লীগের কোন হাত নেই। এমন তথ্যই দিলেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা।
    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, নির্বাচনকালীনই বিদ্রোহীদের নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতে আমরা আহবান জানিয়েছিলাম। যাতে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করা যায়। কিন্তু তারা সেই আহবান উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। বিষয়টি কেন্দ্রে অবহিত করেছি। সংগঠন থেকে বিদ্রোহীদের বহিস্কার করা হলে কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বরং সংগঠনে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলেও জানান তিনি।
    কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুুজিবুর রহমান দৈনিক আজকের দেশ বিদেশকে বলেন, বিএনপি-জামাত ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উপজেলা নির্বাচনে তারা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছে। বিদ্রোহীদের সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হলে সংগঠনে কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
    জানা গেছে, উল্লিখিতদের বহিস্কারের ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। সোহেল সরওয়ার কাজলকে বহিস্কারের ব্যাপারে অনঢ় রয়েছেন তাঁর অনুজ কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ-সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল। নুরুল আলমকে বহিস্কারের ব্যাপারে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন সাবেক সংসদ-সদস্য আবদুর রহমান বদি। জাহাঙ্গীর আলম এবং ফজলুল করিম সাঈদীর ব্যাপারে সংসদ-সদস্য জাফর আলমের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। তাঁদের বহিস্কার করা হলে অন্যরাও ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বহিস্কারের শিকার হবেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ