• শিরোনাম

    বিশ্বব্যাপী ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী ১৫ কোটি শিশুর শিক্ষাগ্রহণ বিঘ্নিত হয় শারীরিক নির্যাতন ও কটূক্তি বা গালাগালের (বুলিং) কারণে

    বিশ্বের অর্ধেক কিশোর-কিশোরী বিদ্যালয়ে এবং এর আশপাশে সহপাঠী বা সঙ্গীদের দ্বারা সহিংসতার শিকার হয়-ইউনিসেফ

    বার্তা পরিবেশক | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৬:১৭ অপরাহ্ণ

    বিশ্বের অর্ধেক কিশোর-কিশোরী বিদ্যালয়ে এবং এর আশপাশে সহপাঠী বা সঙ্গীদের দ্বারা সহিংসতার শিকার হয়-ইউনিসেফ

    আজ ইউনিসেফ প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী অর্ধেক শিক্ষার্থী, যারা সংখ্যায় প্রায় ১৫ কোটি; বিদ্যালয়ে এবং এর আশপাশে সহপাঠী অথবা সঙ্গীদের দ্বারা সহিংসতার শিকার হয়।
    ‘অ্যান এভরিডে লেসন: #এন্ড ভায়োলেন্স ইন স্কুলস’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে, সহপাঠী অথবা সঙ্গীদের দ্বারা যারা গত এক মাসে কটূক্তি বা গালমন্দের শিকার হয়ে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছে অথবা গত এক বছরে শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে- এমন শিক্ষার্থীদের বিবেচনায় নিয়ে। এটি আসলে বিশ্বজুড়ে অল্প বয়সীদের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি অন্ধকার দিক। এই পরিস্থিতি ধনী ও দরিদ্র সবদেশেই শিশুদের শিক্ষা গ্রহণ ও ভালোভাবে বেড়ে ওঠায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
    অন্যদিকে, প্রায় ৭২ কোটি স্কুল বয়সী শিশু এমন সবদেশে বসবাস করে যেখানে শারীরিক শাস্তি এখনও পুরোপুরি নিষিদ্ধ হয়নি।
    বাংলাদেশে, ২০১৪ সালে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ৩৫ শতাংশ জানায়, বিগত ৩০ দিনের মধ্যে তারা এক বা একাধিক দিন গালমন্দ বা কটূক্তির শিকার হয়েছে এবং/অথবা গত ১২ মাসে অন্তত একবার শারীরিকভাবে হেনস্থা হয়েছে।
    ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার চাবিকাঠি হচ্ছে শিক্ষা। অথচ, বিশ্বের লাখো শিশুর জন্য বিদ্যালয় এখনও নিরাপদ স্থান নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন শিশুরা শারীরিকভাবে হেনস্থা হচ্ছে, গ্যাং-এ যোগ দিতে তাদের চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং কটূক্তি বা গালমন্দের শিকার হয়ে তারা হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছে। এছাড়া তারা সামনা সামনি এবং অনলাইনে যৌন হয়রানি ও সশস্ত্র সংঘাতের মতো বিপদের মুখোমুখি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি স্বল্পমেয়াদে তাদের শিক্ষা গ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আর দীর্ঘমেয়াদে তাদের মধ্যে বিষন্নতা ও উদ্বেগ তৈরি করে। এমনকী তাদেরকে আত্মহত্যার দিকেও ধাবিত করতে পারে। সহিংসতা আসলে চিরদিন মনে রাখার মতো একটি শিক্ষা; যা কোনো শিশুরই শেখার দরকার নেই।’
    প্রতিবেদনটিতে শ্রেণিকক্ষে এবং এর আশপাশে শিক্ষার্থীরা কতোভাবে সহিংসতার মুখোমুখি হয় তা তুলে ধরা হয়েছে। ইউনিসেফের সাম্প্রতিক উপাত্ত থেকে জানা গেছে:
    বিশ্বে ১৩ থেকে ১৫ বছরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতি ৩ জনের মধ্যে ১ জনের সামান্য বেশি কটূক্তি বা গালমন্দ এবং একই হারে শারীরিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়।
    শিল্পোন্নত ৩৯টি দেশে প্রতি ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩ জন স্বীকার করে যে, তারা সহপাঠীদের দ্বারা কটূক্তি বা গালমন্দের শিকার হয়েছে।
    ২০১৭ সালে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ৩৯৬টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত বা নিশ্চিত করা হয়। দক্ষিণ সুদানে এই সংখ্যা ২৬, সিরিয়ান আরব রিপাবলিকে ৬৭ এবং ইয়েমেনে ২০।
    কটূক্তি বা গালমন্দের শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ে সমান ঝুঁকিতে থাকলেও মেয়েদের ক্ষেত্রে মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হওয়ার প্রবণতা বেশি। আর ছেলেদের ক্ষেত্রে শারীরিক নির্যাতন ও হুমকির শিকার হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, বিদ্যালয়ে ছুরি ও বন্দুকের মতো অস্ত্রের ব্যবহারে প্রাণহানি অব্যাহত আছে। এতে আরও বলা হয়, ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল বিশ্বে একটি বোতাম চেপেই কটূক্তি বা গালমন্দের মতো সহিংস, ক্ষতিকর ও হেয় প্রতিপন্ন করার আধেয় (কনটেন্ট) অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
    ‘অ্যান এভরিডে লেসন: #এন্ড ভায়োলেন্স ইন স্কুলস’ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে ইউনিসেফের #এন্ড ভায়োলেন্স বৈশ্বিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে। এটি বিদ্যালয় ও এর আশপাশে #এন্ড ভায়োলেন্স বা সহিংসতা রোধে আলোকপাত এবং পদক্ষেপ নিতে উদ্যোগী হওয়ার বিষয়ে ইউনিসেফ, যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগ (ডিএফআইডি), ইউনেসকো, শিশুর প্রতি সহিংসতা বিলোপে গ্লোবাল পার্টনারশিপের অন্যান্য সদস্য এবং ইউএনজিইআই’র মতো সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের অংশ।
    বিদ্যালয়ে সহিংসতা বিলোপে ইউনিসেফ ও এর অংশীদাররা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে:
    বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সহিংসতা থেকে রক্ষা করতে নীতিমালা ও আইন বাস্তবায়ন করা।
    বিদ্যালয়গুলোতে প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
    শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিতে কমিউনিটি ও বিশিষ্টজনদের আহ্বান জানানো, যেন তারা সহিংসতার বিরুদ্ধে কথা বলেন এবং এ বিষয়ে কমিউনিটি ও শ্রেণিকক্ষের সংস্কৃতি বদলাতে কাজ করেন।
    শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়কে নিরাপদ রাখে- এমন পরীক্ষিত সমাধানে আরও কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগ করা।
    বিদ্যালয় ও এর আশপাশে শিশুর প্রতি সহিংসতার বিষয়ে আরও ভালোভাবে ও বিভিন্ন উপায়ে উপাত্ত সংগ্রহ করা এবং কীভাবে সহিংসতা প্রতিরোধ করা যায় তা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা।
    ইউনিসেফ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণদের উৎসাহ দিচ্ছে যাতে তারা বিদ্যালয় ও এর আশপাশে সহিংসতা রোধে স্বোচ্চার হয়। কীভাবে তারা একত্রে কাজ করছে এবং বিদ্যালয় ও এর আশপাশে চিরতরে সহিংসতা রোধে কোন ধরনের সমাধানের পথ বেছে নিয়েছে তা যেন তারা আমাদের জানায়।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ