• শিরোনাম

    টেকনাফে এসিএফ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে

    বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর ত্রাণের চাল খোলা বাজারে বিক্রি

    নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ | ২৭ জুলাই ২০১৯ | ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

    বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর ত্রাণের চাল খোলা বাজারে বিক্রি

    বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর (ডব্লিওএফপি) আওতায় রোহিঙ্গাদের জন্য বিতরণের ত্রাণের চাল খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে টেকনাফে কর্মরত এসিএফ (এ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার) এর কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬ এর আওতায় নয়াপাড়া ও লেদা এলাকায় অবস্থিত এসিএফ এর দুটি জেনারেল ফুড ডিস্ট্রিবিউশন (জিএফডি) সেন্টার থেকে দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে খোলাবাজারে লাখ লাখ টাকার চাল বিক্রি করছেন সংস্থার দূনীতিবাজ কতিপয় কর্মকর্তা। এনিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে।
    অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের ফ্রেব্রুয়ারী ও ২০১৮ সালের মার্চ মাস থেকে জেনারেল ফুড ডিস্ট্রিবিউশন ও কমপ্রেহেনসিভ নিউট্রিশন প্রজেক্টের আওতায় ক্যাম্প ২৬ এলাকা টেকনাফের নয়াপাড়া ও লেদা এলাকায় দুটি বিতরণ কেন্দ্র থেকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর আওতায় রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয় আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এসিএফকে। এর আওতায় প্রায় ৬ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারকে নিয়মিত চাল-ডাল-তৈল বিতরণ করে আসছিল সংস্থাটি।

    অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সময় সংস্থার অসাধু কর্মকর্তারা মিলেমিশে রোহিঙ্গাদের নামে ভূয়া কার্ড তৈরী করে ভূয়া মাষ্টার রোলে ভূয়া টিপসই বানিয়ে নানা কৌশল অবলম্বন করে লাখ লাখ টাকার চালসহ ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাত করে খোলাবাজারে বিক্রি করে আসছিলেন। এভাবে তারা প্রতিমাসে হাতিয়ে নিচ্ছিলেন লাখ লাখ টাকা। আর এতে জড়িত রয়েছে নয়াপাড়া বিতরণ কেন্দ্রের রাশেদুল কবির, রাফিউল, ইউছুপ, রোহিঙ্গা মাঝি হাশিম, লেদা বিতরণ কেন্দ্রের মিজানসহ একটি চক্র। তারা কখনো রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে ত্রাণ সামগ্রী উত্তোলন করে আবার কখনো সরাসরি বিতরণ কেন্দ্র হতে মিনি ট্রাকে করে এসব সামগ্রী আত্মসাত করে বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করে দেন। এভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ চক্রটি ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাত করে আসলেও গত ২৩ জুলাই ত্রাণের চাল বিতরণ কেন্দ্র হতে মিনি ট্রাক (চট্ট মেট্রো ড ১১-০৫৯২) বোঝাই করে চাল সরানোর সময় স্থানীয়দের নজরে আসে। উক্ত মিনি ট্রাকে করে বেশ কয়েক দফায় চাল গুলো সরানো হয় বলে জানান তারা।

    স্থানীয় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২৩ জুলাই একদিনেই প্রতিটি ৩০ কেজি ওজনের প্রায় ৬০০ বস্তা চাল লেদা এলাকার জাফর মার্কেটের চাল ব্যবসায়ী শামসু, গাফফার ও টাওয়ার এলাকার জাহাঙ্গীরের দোকানে চোরাই পথে সরবরাহ করা হয়। এসময় শামসুর দোকানে গিয়ে বিশ্ব খাদ্য সংস্থার শত শত বস্তা চালের অস্থিত্ব পাওয়া যায়। উক্ত ব্যবসায়ীর কর্মচারীদের তড়িগড়ি করে ৩০ কেজির সেসব চালের বস্তা খুলে ৫০ কেজির সাধারন বস্তায় ভর্তি করতে দেখা যায়। এব্যাপারে চাল ব্যবসায়ী শামসুর কাছে জানতে চাইলে তিনি রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে সেসব চাল ক্রয় করেছেন বলে জানান।

    একই এলাকার অপর এক ব্যবসায়ী জানান, এসিএফ এর এক কর্মকর্তার মাধ্যমে তিনি নিজেও বিভিন্ন সময় ত্রাণের চাল-ডাল ক্রয় করেছিলেন।
    এব্যাপারে জানতে চাইলে বিতরণ কেন্দ্রে কর্মরত এসিএফ এর কর্মকর্তারা কেউ মুখ খুলতে রাজী হননি। মিডিয়ার সাথে কথা বলার অনুমতি নেই বলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংস্থার বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ মাহদীর বরাতে জানান, এসিএফ দূর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে থাকেন। দূর্নীতিতে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ