• শিরোনাম

    বেপরোয়া সার্ভেয়ার ফেরদৌস ও ফরিদ স্বল্প সময়ে হাতিয়ে নেন ৩ কোটি টাকা

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১:২৭ পূর্বাহ্ণ

    বেপরোয়া সার্ভেয়ার ফেরদৌস ও ফরিদ স্বল্প সময়ে হাতিয়ে নেন ৩ কোটি টাকা

    ফাইল ছবি

    কক্সবাজার জেলা ভুমি অধিগ্রহণ অফিসের দুই সার্ভেয়ারের বেপরোয়া কর্মকান্ডে অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন ছিলেন অতীষ্ট। ক্ষতিগ্রস্থদের নিকট থেকে কোন টাকা না নিতে জেলা প্রশাসনের বার বার দেয়া কঠোর নির্দ্দেশনা উপেক্ষা করেই এই দুইজন সার্ভেয়ার দেদারছে আদায় করেছেন কাড়ি কাড়ি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, সার্ভেয়ারদ্বয় মামলা-মোক্দ্দমা নথিভুক্ত না করেও টাকার চেক প্রদান করেছেন। নির্ভরযোগ্য সুত্রমতে, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো’র জমি নিয়ে পর্যন্ত বেপরোয়া সার্ভেয়ার করেছেন বেপরোয়া কারবার করেছেন। এমনকি ৭৩ নম্বর রোয়েদাদের ৬৭ নম্বর খতিয়ানের জমি নিয়ে ৪ টি মামলা থাকলেও মাত্র একটি মামলা দেখিয়েও চেক দেয়া হয়েছে। তবে ষ্পর্শকাতর এ বিষয়টি অফিস সুত্রে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

    বেপরোয়া সার্ভেয়ার ফেরদৌস দালালদের নিকট থেকে শতকরা ১৫ ভাগ এবং অপর বেপরোয়া সার্ভেয়ার ফরিদ আদায় করতেন শতকরা ১৩ ভাগ হিসাবে টাকা। যেখানে সার্ভেয়ার ফেরদৌস শতকরা ১৫ ভাগ হিসাবে একাই আদায় করেছেন দুই কোটি টাকা সেখানে দালালরা পেয়েছেন শতকরা ৩/৫ টাকা হারে মাত্র ৬৫ লাখ টাকা। বাস্তবে ক্ষতিগ্রস্থদের নিকট থেকে দালালরা শতকরা ১৮/২০ ভাগ হিসাবে চুক্তি করে অফিস থেকে চেকের টাকা আদায় করে দিতে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একজন সরকারি চাকুরিজীবী হিসাবে সার্ভেয়ার হাতিয়ে নেয় যেখানে দুই কোটি টাকা সেখানে দালালের ভাগ্যে জুটে মাত্র ৬৫ লাখ টাকা। অথচ সেই চুক্তির মধ্যে দালালদের নামে বেশী মাত্রায় বদনাম ছড়ালেও প্রকৃতপক্ষে তারা (দালাল) পায় মাত্র ৩/৫ টাকা হারে আর সার্ভেয়ার হাতিয়ে নেয় ১৫ টাকা করে।
    এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে বেপরোয়া সার্ভেয়ার ফেরদৌস মহেশখালী দ্বীপের ৪ টি রোয়েদাদ মূলে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিতরণ করেছেন। এ পরিমাণ টাকার চেক প্রদানে বেপরোয়া সার্ভেয়ার ফেরদৌস ক্ষতিগ্রস্থদের নিয়োজিত দালালের কাছ থেকে আদায় করেছেন শতকরা ১৫ ভাগ হারে। এ হিসাবে সার্ভেয়ার ফেরদৌস মাত্র কয়েকদিনেই হাতিয়ে নিয়েছেন দুই কোটি টাকারও বেশী অংকের টাকা।

    বেপরোয়া সার্ভেয়ার ফেরদৌস হোয়ানক মৌজার ১৮২ নম্বর রোয়েদাদের ৭৬৫ খতিয়ানের ২২ দশমিক ১৯ একর, কালারমারছড়া মৌজার ৫৩ রোয়েদাদের ৩৮১ খতিয়ানের ১০০.৪০ একর, অমাবশ্যাখালী মৌজার ৭৩ নম্বর ও ৭৪ নম্বর রোয়েদাদের ৬৭ ও ৬৮ নম্বর খতিয়ানের অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের টাকার চেক দিয়েছেন অত্যন্ত তাড়াহুড়োর মাধ্যমে।

    অপরদিকে বেপরোয়া সার্ভেয়ার ফরিদ সাম্প্রতিক সময়ে ১৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার চেক দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে। তিনি কালারমারছড়া মৌজার ১০১ ও ১১৬ নম্বর রোয়েদাদের আওতায় এ পরিমাণ টাকার চেক প্রদান করেছেন। সার্ভেয়ার ফেরদৌস যেখানে শতকরা হিসাবে ১৫ ভাগ করে টাকা আদায় করেছে সেখানে অপর সার্ভেয়ার ফরিদ আদায় করেছে শতকরা হিসাবে ১৩ ভাগ হারে। সার্ভেয়ার ফরিদ ১৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার চেক দিয়ে কমিশন পেয়েছেন এক কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
    তবে গতকাল র‌্যাবের অভিযানে ফরিদের বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে সবচেয়ে বেশী অর্থাৎ ৬০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অপরদিকে ফেরদৌসের বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে ২৭ লাখ টাকা। উল্লিখিত রোয়েদাদগুলো নিয়ে মশেখালীর দালাল সেলিম, মুসলিম, হোছন ও অপর একজন তদবির করেছেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ