• শিরোনাম

    বেহাল সড়কে মেগা প্রকল্পের সুনাম রসাতলে

    এম.আর মাহবুব | ১৩ জানুয়ারি ২০২০ | ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

    বেহাল সড়কে মেগা প্রকল্পের সুনাম রসাতলে

    কক্সবাজার শহরতলির ঝিলংজার লিংরোড টু কক্সবাজার, মাত্র ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য প্রধান সড়ক। ভাঙ্গা-চোরা, খানা খন্দকে ভরপুর এ সড়কটিই এখন কক্সবাজারের উন্নয়নের গতি থমকে দিচ্ছে। কক্সবাজারের এক নম্বর দুঃখ খ্যাত এই সড়ক পথটিই দেশে-বিদেশে দেশীয় পর্যটনের রাজধানীর ইমেজ ভুলুণ্ঠিত করছে। ভর পর্যটন মৌসুমে মাত্র ৫ কিলোমিটার আয়তনের সড়ক পথটিই পর্যটন শিল্পে ধ্বস এনে দিয়েছে।
    শুধু কী তাই কক্সবাজারের বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পে সরকার লাখ-লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেও এই সড়ক পথটিই সরকারের সব ভাল উদ্যোগ ও উন্নয়ন কর্মকা- আড়াল করে দিয়েছে। প্রত্যহ রাস্তায় বের হওয়া সাধারণ যাত্রী সাধারণ এখন হা-পিত্যেস করে নাভিশ্বাস ছেড়ে বলছে-কোন গজবের দেশে এলামরে- রিক্সা, সিএনজি, টমটমেই পথ চলতে কোমর, মেরুদ- ভাঙ্গছে।

    কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং কক্সবাজার পৌরসভার রশি টানা টানিতে সীমাহীন কষ্টের ঘানি টানছে প্রতিদিন কক্সবাজারে আসা দেশী-বিদেশী পর্যটকসহ কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষ। স্বাভাবিক পথ চলতে কষ্টে অস্থির মানুষ এখন প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে বেছে নিয়েছে ফেসবুককে।
    সড়কের রাস্তার ছবি, তীর্যক মন্তব্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেখ হাসিনা সরকারের বারোটা বাজাচ্ছে রাজনীতি বিমূখ সাধারণ মানুষ। বর্তমান সরকারের কল্যাণে কক্সবাজার জেলায় ৭২ টি উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড এগিয়ে চলছে। অথচ মানুষের সীমাহীন কষ্টে চোখ খুলেও দিব্যি ঘুমাচ্ছে কউক, কক্সবাজার পৌরকর্তৃপক্ষ ও সওজ। তাছাড়া কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্যের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।

    সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়-লিংকরোড, কলেজ গেইট, সদর উপজেলা গেইট, কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, সাবমেরিন কেবল এলাকা, সিটি কলেজ, আলীর জাহাল, খুরুশকুল রাস্তার মাথা, কালুর দোকান, বার্মিজ মার্কেট, বাজার ঘাটা, আইবিপি রোড, ফজল মার্কেট হয়ে লালদিঘীর পাড় পর্যন্ত এখন জন প্রত্যাশার স্বাভাবিক সড়ক অস্তিত্বহীন। জন দৃশ্যমান- সড়কের পরিবর্তে খানা খন্দক, গর্ত, কাঁচা ইটের ভাঙ্গা-চোরা কংকর, মারাত্মক ধুলাবালি। যা হেলদি শহর খ্যাত কক্সবাজারের ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে- কক্সবাজার আদর্শ কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জানান-খানা-খন্দকে টমটম, সিএনজি উল্টে আমার মাদ্রাসার অনেক ছাত্রী আহত ও পঙ্গু হয়ে গেছে। যার কাজ তিনি না করলেই মানুষ কষ্ট পাবে। কক্সবাজারে সড়কের বর্তমান যে অবস্থা অতীতে কোন দিন দেখিনি।
    সু-শাসনের জন্য নাগরিক সমাজ সুজনের জেলা সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মাহবুবু রহমান জানান-কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা। অথচ সরকার দলীয় মেয়রের আমলে শহরের প্রধান সড়ক ও অলি-গলির বেহাল দশা কল্পনাই করা যায় না। পুরো শহরটাই এখন বিধ্বস্ত শহরে পরিণত হয়েছে। এতে কক্সবাজারের সমৃদ্ধি আটকে যাচ্ছে। কউক এবং পৌর কর্তৃপক্ষ সমস্যার জরুরী সমাধানে এগিয়ে না আসলে কক্সবাজারের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আটকে যাবে। সাংস্কৃতিক সংগঠক ফয়সাল সাকিব বলেন- সড়ক সমস্যায় জর্জরিত পর্যটন শহর কক্সবাজারে এখন বড্ড নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এম.পি, কউক চেয়ারম্যান, মেয়রের ঘুম না ভাঙ্গলে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে ধ্বস নামবে।

    শহরের তরুণ সিআইপি ও যুবলীগ নেতা আসাদ উল্লাহ বলেন- কউক সড়ক সমস্যা জিইয়ে রেখে শহরবাসীর প্রতি বিমাতা সূলভ আচরণ করছে। অনুমতি দিলে আমি তিনদিনেই নিজস্ব অর্থায়ণে সড়ক সমস্যার সমাধান করবো। এতে আমার মা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ইজ্জত কিছুটা হলে বাঁচবে। জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা সরওয়ার রোমন জানান-কউক, পৌরসভা-সবুকিছুতেই জেঁকে বসে আছে আওয়ামী লীগের বড় নেতারা। অথচ আমার জীবদ্দশায় কক্সবাজারের এই বেহাল দশা দেখিনি। ####

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ