• শিরোনাম

    সৈকতে এখনো টন টন বর্জ্য

    বৈরি আবহাওয়ায় পরিচ্ছন্নতা ব্যাহত

    দেশবিদেশ রিপোর্ট | ১৫ জুলাই ২০২০ | ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

    বৈরি আবহাওয়ায় পরিচ্ছন্নতা ব্যাহত

    কক্সবাজারের দরিয়া নগর সৈকতে স্থানীয়রা গতকাল এভাবে বস্তা বস্তা বর্জ্য সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছে

    কক্সবজাার সৈকতে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা টন টন বর্জ্য এখনো রয়ে গেছে। শহরের লাবণী পয়েন্ট থেকে দক্ষিণে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট, কলাতলী সায়মান বীচ পয়েন্ট, দরিয়া নগর এবয় হিমছড়ি পর্যন্ত অন্তত ৬ কিলোমিটার সৈকতের বালুচর জুড়ে রয়েছে বর্জ্য। গত তিন দিন ধরে স্থানীয়দের বস্তা বস্তা বর্জ্য সংগ্রহ অব্যাহত থাকা সত্বেও কোন ভাবেই শেষ হচ্ছে না। বরং সৈকতের বালুতে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য যেমনি চাপা পড়ছে তেমনি আবার জোয়ার-ভাটায় বর্জ্য সাগরে নামছে এবং চরে আটকা পড়ছেও।
    জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা বর্জ্যরে কারণে সাগর তীরবর্তী এলাকায় পরিবেশ দূষণের আশংকাও প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা। তবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন, সাগরের বৈরি আবহাওয়ায় জোয়ারের পানিতে ভেসে এসেছে বিপুল পরিমাণের বর্জ্য। পরিবেশের আশংকা মাথায় নিয়ে জেলা প্রশাসন বর্জ্য সংগ্রহে নামলেও বর্ষণজনিত কারনে তা ব্যাহত হচ্ছে।
    সমুদ্র সৈকতের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেট ইমরান জাহিদ খান জানিয়েছেন, বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করেই সৈকতে ভেসে আসা বর্জ্য অপসারণ চলছে। সৈকতের কলাতলী পয়েন্ট থেকে শুরু করে দরিয়া নগর ও হিমছড়ি সহ বিভিন্ন পয়েন্টে সোমবার থেকে এসব বর্জ্য অপসারণ শুরু হয়। সৈকত ব্যবস্থাপনা কর্মী, কয়েকটি পরিশবাদী সংগটন এবং লাকড়ি কুঁড়িয়ে লোকজন স্বেচ্ছায় বালুচর থেকে বস্তা ভর্ত্তি কওে বর্জ্য নিজেদেও প্রয়োজনে নিয়ে যাচ্ছে। তবে আজ বুধবার থেকে বৃহৎ পরিসরে বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে এই অপসারন কাজ চলবে।
    সৈকতের বর্জ্য অপসারণ সংক্রান্ত একটি সভা গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুস্টিত হয়েছে। সভায় বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগটন এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, দেশের প্রধান পর্যটন শহরের সাগর তীরের পরিবেশ অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে আজ বুধবার থেকে এক যোগে সৈকত থেকে বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী যোগ দিয়ে বর্জ্য অপসারণ করা হবে।
    এদিকে সামুদ্রিক জোয়ারে ভেসে আসা বর্জ্যে যেসব সামগ্রী রয়েছে তন্মধ্যে শতকরা ৭০ ভাগই বিদেশী পণ্য সামগ্রী এবং ৩০ ভাগের মত দেশীয় পণ্য বলে প্রাথমিক ধারণায় বলা হচ্ছে। কক্সবাজার সাগর পাড়ের দরিয়া নগরের বাসিন্দা এবং পরিবেশবাদী কর্মী আহমদ গিয়ান এ প্রসঙ্গে জানান, ভেসে আসা মদের বোতলগুলোর মধ্যে বার্মিজ মদের বোতলের হার ১০ ভাগেরও কম। বেশিরভাগ মদের বোতল ইউরোপের তৈরি। যারমধ্যে জিআর লেখা তাজ মার্কা বোতল ও রয়েল কম্পানীর মদের বোতলই বেশি।। কয়েকটি অফিসার্স চয়েস এর বোতলও পাওয়া গেছে।
    মাছ রাখার ঝুঁড়ি, জাল, ছোট ছোট বয়া, লাইটসহ কিছু আসবাবপত্রও পাওয়া গেছে, যা অবশ্যই ডিপ সী ট্রলারের। বর্জ্যের মধ্যে ক্যাপও পাওয়া গেছে। যারমধ্যে একটি ক্যাপ ছিল নৌবাহিনীর একজন লে. কমান্ডার পদমর্যাদার কর্মকর্তার। কিছু রকজাল পাওয়া গেছে, যা আমাদের দেশের ছোট ছোট বোটেও ব্যবহৃত হয়। কাঠখন্ড, বাঁশ, স্যান্ডেল, বেভারেজের বোতলসহ প্লাস্টিক-পলিথিনগুলো মোট বর্জ্যের প্রায় ২৫ ভাগ; যা দেশের নদনদী থেকে গিয়ে মিশেছে। অর্থাৎ মোট বর্জ্যের ৭৫ ভাগই সমুদ্রে বিচরণকারী ব্যক্তিদের নিক্ষিপ্ত বর্জ্য বলে পরিবেশবাদী কর্মী আহমদ গিয়াস মনে করছেন।
    তিনি আরো জানান, বিদেশি বড় বড় ফিশিং জাহাজ বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানার ভেতরে এসে মাছ আহরণ করে নেয়ার ঘটনা প্রায়শ ঘটে থাকে। এসব মাছ ধরা জাহাজ থেকেও বর্জ্য ফেলার অভিযোগ উঠে। তবে তাও কক্সবাজার উপকুল থেকে অনেক দূরে অর্থাৎ ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি অঞ্চলে এসব ঘটতে পারে। কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের (এফআরআই) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ শফিকুর রহমান কক্সবাজারের জেলেদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, সেন্টমার্টিন্স দ্বীপ থেকেও দক্ষিণে অনেক দূরে, নাই বিও (তলা বিহীন বা মাপার দড়ির চেয়েও গভীর) নামক স্থানে একটি প্লাস্টিক বর্জ্যের বিশাল এলাকা রয়েছে, যার উপর ভিত্তি করে সেখানে একটি স্বতন্ত্র ইকোসিস্টেমস তৈরি হয়েছে। সেখানে পাখি বাসা বাঁধে, সাপ বিচরণ করে, সামুদ্রিক মাছ ও কচ্ছপসহ নানা প্রাণী বাসা বাঁধে ও প্রজনন করে। সেসব বর্জ্যের গায়ে বাসা বাঁধে বার্নাকল্স নামের এক ধরনের শক্ত খোলসযুক্ত কাঁকড়াও। আর এসব বার্নাকল্স এর আকার দেখে মনে হচ্ছে, এ বর্জ্যের বয়স অন্তত এক বছরের কাছাকাছি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ