বুধবার ২৯শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা জনজীবন বিপর্যস্থ

শফিক আজাদ,উখিয়া   |   বৃহস্পতিবার, ০৭ মার্চ ২০১৯

বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা জনজীবন বিপর্যস্থ

টানা ২৪ ঘন্টার বৈরী আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উখিয়া-টেকনাফে শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের জনদুর্ভোগ বেড়েছে। দীর্ঘ ভারী বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা শিবিরের অনেক ঝুপড়ি ঘরে বৃষ্টি পানির ঢুকে পড়েছে। ভূমিধসের আশঙ্কাও করছেন অনেকে। রোহিঙ্গারা বলছেন, বৃষ্টি হলেই রোহিঙ্গাদের মাঝে এ করুণ পরিস্থিতির শিকার হন। তাদের কষ্টের কোন শেষ নেই বলে জানান তারা।
হঠাৎ মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিপাতের ব্যাপারে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম জানান, ‘বজ্রমেঘের ঘনঘটা বৃদ্ধির ফলে কক্সবাজারের উপকূলে ৩ নম্বর স্থানীয় সর্তক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এর প্রভাবে কক্সবাজারের ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবারও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।’
জানা গেছে, বৈরী আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারনে উখিয়া ও টেকনাফের কয়েকটি রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রিতদের জীবনযাত্রা অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বৃষ্টির ফলে অনেক ঘরের ভেতরে জমেছে কাদাপানি। পিচ্ছিল রাস্তায় হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টিতে শতাধিক ঘরের ত্রিপল উড়িয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
কুতুপালং মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নেতা আতাউল্লাহ বলেন, ভরী বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা শিবিরে অধিকাংশ ঘর পাহাড়ের ঢালুতে তাই ভারী বৃষ্টি হলে এসব ঘর গুলো ঝুকিতে থাকে। এছাড়াও ভারী বৃষ্টিতে ঘরে পানি ঢুকে পড়ে।
লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা শিবিরের মাঝি মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, ‘ভারী বৃষ্টিপাত হলে ত্রিপল পেরিয়ে ঝুপড়ি ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পরে। কেননা আমরা যে জায়গায় আশ্রয় নিয়েছি, সেটি পাহাড়ের পাদদেশ লাগোয়া। ভারী বৃষ্টিতে একটি ব্লকে ১০টির বেশি ঝুপড়ি ঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ঝুপড়ি ঘরগুলো খুবই দুর্বল। ফলে বৃষ্টির পানি সহজেই ঢুকে পড়ে। তাছাড়া শিবিরের রাস্তাগুলো মাটির হওয়ায় চলাচল করতে কষ্ট হয়।’
টেকনাফ জাদিমুড়া শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান রমিদা বেগম বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কষ্ট কখনও যায় না, কমে আর বাড়ে। ভারী বৃষ্টি হলে কষ্ট বাড়ে। ঠিক তেমনি গরম বাড়লেও কষ্ট বাড়ে। এছাড়া সামান্য বাতাসে নড়াচড়া করে এসব ঝুপড়িঘর। ওপর থেকে নিচের দিকে পানি নামলে ঘর স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়। তাই বৃষ্টি হলে রাতে না ঘুমিয়ে বসে থাকতে হয়। আমোদের রোহিঙ্গা শিবিরটি পুরো পাহাড়ের পাদদেশে। এতে ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসে প্রাণহানির শঙ্কাও থাকে।’উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘ভারী বষ্টিপাতে রোহিঙ্গা শিবিরে বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে সেব্যাপারে রোহিঙ্গা শিবিরে সরকারি বেসরকারি সংস্থা গুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর নির্যাতনের ফলে গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। পুরনোসহ উখিয়া ও টেকনাফের ৩০টি শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। উখিয়া ও টেকনাফে পাহাড় ও বন কেটে বসতি গড়েছে রোহিঙ্গারা। ফলে ভারী বৃষ্টি হলেই উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং, হাকিমপাড়া টেংখালী, মধুরছড়া, শূন্যরেখা এবং টেকনাফের পুটুবনিয়া, শালবাগান, জাদিমুড়ায় পাহাড়ের পাদদেশে বসতি রোহিঙ্গাদের মাঝে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

Comments

comments

Posted ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৭ মার্চ ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com