• শিরোনাম

    উখিয়া-টেকনাফে ৩ দিন ধরে অবিরাম বর্ষণ

    ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত জনজীবন, মৃত্যু ৫

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১:০৩ পূর্বাহ্ণ

    ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত জনজীবন, মৃত্যু ৫

    গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে জেলার জনজীবনে ছন্দ পতন ঘটেছে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। বর্ষণ জনিত কারনে গতকাল বুধবার ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিশুসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০ জনের অধিক। পাশাপাশি পাহাড় ধ্বসের কারণে ২ ঘন্টা বন্ধ ছিলো কক্সবাজার-মেরিন ড্রাইভ সড়কে যান চলাচল।
    নিহত ৫ জনের মধ্যে ৪ জনই টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা। ২ জন পাহাড় ধ্বসে এবং ২ জন পানিতে পড়ে মারা যায়। অন্যজন মহেশখালীতে বৃষ্টির কারণে ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ করে।

    কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে কোন লঘুচাপ নেই। আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে কোন ধরনের সংকেতও জারি করা হয়নি। আকাশে জমে থাকা মেঘের কারণে বৃষ্টি হচ্ছে।
    কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১০ টা থেকে গতকাল ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস। জেলায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে। আজও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা কেটে গেছে। মেঘ কেটে গেলে বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    এদিকে, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজার শহরে জনজীবন থমকে গেছে। এমনিতেই শহরের সড়কগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। তারউপর টানা বৃষ্টিতে সড়কগুলোর অবস্থা আরো নাজুক হয়ে পড়ছে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলি-গলির সড়কের অবস্থা এতোই খারাপ হয়ে পড়ছে যে, যানবাহন চলাচলে দেখা দিচ্ছে সমস্যা। যে কারণে শহরে যানজন দীর্ঘতর হচ্ছে।
    কক্সবাজারের টেকনাফে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত সোমবার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া তিনদিনের অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পথঘাট বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকায় উপজেলা সদরের সাথে বিভিন্ন গ্রামের সড়কে স্বাভাবিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া নি¤œাঞ্চলের গ্রাম গুলোতে বৃষ্টির পানির জলাবদ্ধতায় সাধারণ মানুষের দূর্ভোগ বেড়েছে।
    অন্যদিকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে গত মঙ্গলবার ভোরে টেকনাফ পৌরসভার পল্লান পাড়ায় দুই দফা পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। একই দিনে বিকালে টেকনাফ-কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি নামক স্থানেও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। টেকনাফে পাহাড় ধসের ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত দুই শিশু হলেন মেহেদী হাসান (৯) ও আলিফা (৫)। এ ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে পাহাড়ে বসবাসরত আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

    টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রবিউল হাসান বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাহাড়ে অবস্থানরতদের বারবার সতর্ক করা হলেও তারা নির্দেশনা অমান্য করে। পরে গত মঙ্গলবার দুুপুরে উপজেলা প্রশাসন পাহাড়ে বসবাসরত সব পরিবারের সদস্যদের বাধ্য করে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসে। তাদের খাবার,বস্ত্র ও ঔষধসহ যাবতীয় সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
    তিনি আরো জানান, অব্যাহত ভারী বর্ষণের কারণে যেসব গ্রামে মানুষ পানিবন্দী হয়ে দূর্ভোগে পড়েছে তাদের কাছে ত্রাণ সামগ্রী ও অন্যান্য সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সরকারের সংশ্লিষ্ট সব দফতরকে মানুষের কষ্ট লাঘবে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
    কক্সবাজারের আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান জানিয়েছেন গত ২৪ ঘন্টায় টেকনাফে ১৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে আরো দুইদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার সাবরাং, টেকনাফ সদর, বাহারছড়া ও হ্নীলা ইউনিয়নের ৪০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামে বৃষ্টির পানিতে পথঘাট ডুবে থাকাসহ সাধারণ মানুষের বসতঘরেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের ঘরে রান্নাবান্নাসহ যাবতীয় কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে।
    শাহপরীর দ্বীপের হাইস্কুল শিক্ষক মু. শামসুল আলম বলেন, বৃষ্টির পানিতে টেকনাফ- শাহপরীর দ্বীপ সড়কের হারিয়াখালী নামক স্থান থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত পথ বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। সেখানে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সাধারণ মানুষের কোথাও কোমর এবং কোথাও হাটু সমান পানি অতিক্রম করে সীমাহীন দূর্ভোগে যাতায়ত করতে হচ্ছে।
    দ্বীপের ঘোলার পাড়ার গৃহবধূ আমেনা খাতুন বলেন, দুই দিন ধরে চুলায় আগুন ধরাতে পারছিনা, ঘরের ভেতরে হাটু সমান পানি। পুরো গ্রামে পানি, শুকনো খাবার খেয়ে কোনমতে দিন পার করছি। কেউ বের হতে পারছিনা, খাবার যা ছিল তাও শেষ হয়ে গেছে। কেউ খোঁজ নিচ্ছেনা আমাদের।

    সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া গ্রামের গৃহবধু ইয়াছমিন আকতার বলেন, তিনদিন ধরে অবিরাম বৃষ্টির কারণে আমাদের আশেপাশের বাড়িঘর এবং পথঘাট ডুবে আছে। অনেকের বসত ঘরে বৃষ্টির পানি ঢুকে আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘরের বাসিন্দাদের দূর্ভোগ বাড়িয়েছে। বৃষ্টি কবে থামবে, কবে মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে এ আশায় রয়েছে সবাই।
    এদিকে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে উখিয়া টেকনাফের পাহাড়ে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সেখানেও পাহাড়ের নিচে কোন কোন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়া পাহাড়ের উঁচু ভূমিতে বসবাসরত রোহিঙ্গা পরিবার গুলোকে সম্ভাব্য দূর্ঘটনা এড়াতে সতর্ক থাকার জন্য এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে ক্যাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ