• শিরোনাম

    সেন্টমার্টিন উপকূলে ট্রলার জব্দ

    ভাসমান ১২২ মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গা উদ্ধার

    নুরুল করিম রাসেল/ জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ | ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

    ভাসমান ১২২ মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গা উদ্ধার

    সেন্টমার্টিন দ্বীপের অদূরে বঙ্গোপসাগর থেকে নারী-শিশুসহ ১২২ জন মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে মধ্যে ১৫ জন শিশু, ৫৯ জন নারী ও ৪৮ জন পুরুষ রয়েছে। এদের মধ্যে ট্রলারের ৪ জন রোহিঙ্গা মাঝিও রয়েছে। মালয়েশিয়াগামীরা সবাই উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা। এঘটনায় পাচারে ব্যবহৃত ট্রলারটি জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে তাদেরকে উদ্ধার করার পর সন্ধায় টেকনাফ কোস্টগার্ড স্টেশনে নিয়ে আসা হয়।

    কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লে.কমান্ডার সোহেল রানা জানান, গত ১২ নভেম্বর টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়া এলাকা হতে দালালরা তাদেরকে উক্ত ট্রলারটিতে তুলে দেয়। সেন্টমার্টিনের কাছাকাছি যাওয়ার পর তাদের ট্রলারটি বিকল হয়ে দুইদিন ধরে তারা সাগরে ভাসমান অবস্থায় ছিল। পরে জেলেদের মাধ্যমে খবর পেয়ে লে. জুসেল রানার নেতৃত্বে সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ড তাদেরকে উদ্ধার করে কূলে নিয়ে আসেন। উদ্ধার রোহিঙ্গাদের স্ব স্ব ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    সেন্ট মার্টিনস কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জোসেল রানা জানান, রোহিঙ্গাদের নিয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় সেন্ট মার্টিনসের অদূরে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলার ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসছিল। এসময় সাগরে কোস্টগার্ড টহল দল বিষয়টি দেখে আমাকে অবগত করেন। আমি আরো কয়েকটি ট্রলার যোগে দ্রুত সেখানে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ট্রলারটিতে চারজন পাচারকারী দালালসহ ১২২ জন রোহিঙ্গা নাগরিক ছিল।

    লেফটেন্যান্ট জোসেল রানা আরো জানান, উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা দালালদের খপ্পরে পড়ে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাচ্ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসায় স্বীকার করেছে। তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
    টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গা নাগরিকদের থানায় হস্তান্তর করেছে কোস্টগার্ড। তাদের প্রয়োজনীয় আইনী প্রক্রিয়া শেষে স্ব-স্ব ক্যাম্পে প্রেরণ করা হবে।
    উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা নারী উখিয়া বালুখালী ক্যাম্পের কুলসুমা আক্তার বলেন, স্বামী আগে থেকে মালয়েশিয়া থাকেন। তার কথায় আমি দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রলারে উঠেছি। এব্যাপারে দালালদের সঙ্গে আমার স্বামী কথা বলেছিল, আমাকে শুধু ট্রলারে উঠতে বলেছে।

    একই ক্যাম্পের আজিজা আক্তার নামে আরেক নারী বলেন, মালয়েশিয়াতে এক রোহিঙ্গা যুবকের সঙ্গে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। আমাদের উভয় পরিবার আমাকে স্বামীর কাছে পাঠাচ্ছে। তবে আমাদের আগে বলা হয়েছিল, বড় জাহাজে করে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু এসে দেখি একটি ট্রলারে গাদাগাদি করে সবাইকে উঠানো হয়েছে। তবে উদ্ধারকারীরা (কোস্টগার্ড) সময়মত না পৌঁছলে ট্রলারটি ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে যাচ্ছিলাম আমরা।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ