বৃহস্পতিবার ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

ভিক্ষুকের কোলে রেখে যাওয়া সেই শিশুকে পিতৃ পরিচয়ে কোলে নিলেন ডিসি দম্পতি

দেশবিদেশ অনলাইন ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২০

ভিক্ষুকের কোলে রেখে যাওয়া সেই শিশুকে পিতৃ পরিচয়ে কোলে নিলেন ডিসি দম্পতি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভিক্ষুকের কোলে ফেলে যাওয়া সেই নবজাতক শিশুটিকে পিতৃ পরিচয়ে কোলে তুলে নিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ সারোয়ার মুর্শেদ চৌধুরী দম্পতি।

কেক কেটে ও মিষ্টি বিতরণসহ নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় নবজাতক শিশুটিকে কোলে তুলে নেন তারা।

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা লুবনা ফারজানার বাসভবনে এসে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ সারোয়ার মুর্শেদ চৌধুরী এবং তার সহধর্মিনী সুমনা আনোয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে নবজাতকটিকে কোলে তুলে নিলেন।

এ সময় ভৈরব সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিমাদ্রি খিসা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রিফাত জাহান ত্রপা, পিআইও জিল্লুর রহমান রাশেদ, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জলি বদন তৈয়বা, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষাকর্মকর্তা নাদিরা আক্তার রুমা ও বিভিন্ন গণ মাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নে জানান, তার এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। এ নবজাতকটিকেও তিনি নিজ সন্তান হিসেবে লালন-পালন করে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন।

তার সহধর্মিনী সুমনা আনোয়ার বলেন, আজ থেকে তার দুটি সন্তান। দুটি সন্তানকে তিনি একই মর্যাদায় লালন-পালন করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবেন।

এর আগে গত সোমবার জেলা প্রশাসক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটিকে দত্তক নিতে আবেদন জানালে ওই দিন রাতেই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ( ১নং আমলি আদালত) জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল বারী শিশুটিকে জেলা প্রশাসক মোঃ সারোয়ার মুর্শেদ চৌধুরী ও তার সহধর্মিনী সুমনা আনোয়ার দম্পতিকে দত্তক হিসেবে দিতে আদেশ জারি করেন। তবে আদেশ জারি হওয়ার পর শিশুটি ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানার হেফাজতে  নিবিড় পরিচর্যায় ছিলো।

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা জানান, শিশুটিকে ভিক্ষুকের কোলে রেখে পালিয়ে যাওয়া নারী আর ফিরে না আসায় শিশুটির শারিরিক সুস্থতার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন শিশুটি সুস্থ আছে। পরে আদালতের নির্দেশের অপেক্ষায় শিশুটিকে আমার হেফাজতে ছিল।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টয়লেটে যাবার কথা বলে এক ভিক্ষুকের কোলে দুই দিন বয়সি নবজাতক কন্যাকে রেখে পালিয়ে যান এক নারী। পরে ওই ভিক্ষুক পাশের একটি ফার্মেসির মালিক আশরাফুল আলম মুকুলকে জানান। ঘটনাটি শোনে মুকুল ইউএনওর সাথে যোগাযোগ করে ভৈরব থানায় সাধারন ডায়েরি করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অন্তত চল্লিশজন শিশুটির দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু আইন অনুযায়ী শিশুটির ঠিকানা নির্ধারনে আদালতে আবেদন করেছেন সমাজ সেবা অধিদপ্তর। পরে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক সারওয়ার মোর্শেদ চৌধুরি শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে আদালত এতে সম্মতি দেন।

দেশবিদেশ/নেছার

Comments

comments

Posted ৯:০৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২০

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com