• শিরোনাম

    চকরিয়া হাসপাতালে দূর্নীতি তদন্তে দুদক টিম

    ভুয়া বিল-ভাউচারে ১২ লক্ষ টাকা আত্মসাত

    নিজস্ব প্রতিবেদক/প্রতিনিধি, চকরিয়া | ২৩ মে ২০১৯ | ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ

    ভুয়া বিল-ভাউচারে ১২ লক্ষ টাকা আত্মসাত

    চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দদুক) একটি দল। হাসপাতালের অনিয়মের বিষয়ে কোন এক ব্যক্তি দুদকের নিজস্ব নম্বর ১০৬ এ ফোন করে অভিযোগ জানানোর পর গতকাল বুধবার দুপুরে সরজমিন পরিদর্শনে আসেন দুদকের ওই দলটি। এ সময় তারা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় কয়েক বছরে করা খরচের বিভিন্ন হিসেব যাচাই-বাছাই, সরকারি কোয়ার্টার পরিদর্শন করেন। এ সময় ধরা পড়ে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে করা নানা অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র।
    দুদক দলে নেতৃত্ব দেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন। তাঁর সাথে ছিলেন দুদকের আরো দুই সদস্য।
    তদন্তদল সূত্র জানায়, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরজমিন হাসপাতালে আসার পর প্রাথমিক তদন্তকালে দুদক দল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় বড় ধরণের আর্থিক অনিয়মের তথ্য হাতে পেয়েছে। তন্মধ্যে হাসপাতালের অভ্যন্তরে এবং বাইরে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, দুইবছর ধরে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটর চালু রাখার নামে ভুয়া-বিল ভাউচারের মাধ্যমে অন্তত ১২ লক্ষ টাকা আত্মসাতসহ আর্থিক নানা অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। এছাড়া হাসপাতালের স্টাফের নামে সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দ নিয়ে বাইরের লোকজনকে ভাড়া দেওয়া, হাসপাতালের চারপাশের দ-ায়মান গাছপালা কাটার পর নিলাম দেওয়াতে অনিয়ম করা, অস্থায়ীভাবে কুক মশালচি ও পোর্টার পদে নিয়োগ দেওয়া দুইজনের কাছ থেকে বেতনের অর্ধেক টাকা প্রতিমাসে কেটে রাখাসহ বড় ধরণের দুর্নীতির তথ্য পায় তদন্তদল। আর এসব অনিয়ম-দুর্নীতিতে হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ আমির হামজার হাত রয়েছে বলেও জানায় দুদকের তদন্তদল।
    তদন্তদল ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, আমির হামজা পরিসংখ্যানবিদ হলেও তিনি একাই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন ক্যাশিয়ারসহ তিন-চারটি পদের। এছাড়া দীর্ঘ একযুগেরও বেশি সময় আমির হামজা এই হাসপাতালে চাকরি করার সুবাদে তার শক্ত অবস্থান রয়েছে। মুলত তার দাপটের কাছে অনেকটা অসহায় হাসপাতালের বড় কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ছোট কর্মচারী এবং নার্সও। এ সুবাদে সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করছেন পরিসংখ্যানবিদ আমির হামজা।
    সূত্র আরো জানায়, আমির হামজা একই হাসপাতালে দীর্ঘদিন চাকরি করার সুবাদে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে বিভিন্নস্থানে তার রয়েছে অঢেল সম্পদ। দুদক আরো সবিস্তারে তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে সম্পদের তথ্য।
    উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহবাজ বলেন, ‘দুদক দল আসলে কি জানতে এসেছিলেন তা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছিনা। দাপ্তরিক কাজে আমি চট্টগ্রামে অবস্থান করায় তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ করতে পারিনি। তবে তাদেরকে সহায়তা করতে অধস্তন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি।’
    তদন্তদলে নেতৃত্ব দেওয়া দুদক চট্টগ্রাম-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘একই স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে পরিসংখ্যানবিদ হিসেবে চাকরি করার সুবাদে আমির হামজার বিরুদ্ধে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, গাছ বিক্রি, স্টাফদের নামে সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দ নিয়ে বাইরের লোকদের ভাড়া প্রদানসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক তদন্তে আসার পর আমির হামজার বিরুদ্ধে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনাসহ নানা খাতে ভুয়া-বিল ভাউচার দেখিয়ে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।’
    তিনি আরো বলেন, ‘ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে এসব বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
    তবে উপরোক্ত অভিযোগ কোনভাবেই সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন, হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ আমির হামজা। তিনি বলেন, ‘কোন ধরণের ভুয়া-বিল ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তিনি জড়িত নন।’

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ