• শিরোনাম

    * আইন শৃঙ্খলা ও রাজস্ব বিষয়ক বিশেষ সভায় ভূমি মন্ত্রী জাবেদ * অনলাইনের মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে *১৭ মার্চ, ২০২০ থেকে নামজারির জন্যে কোন ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণ করা হবেনা। *জেলায় ৬২ টি এল.এ কেসের মাধ্যমে ১৫৫২৮ একর (প্রায়) জমির অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান

    ভূমি অধিগ্রহণের টাকা নিয়ে অনিয়ম কঠোর হস্তে দমন করা হবে

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

    ভূমি অধিগ্রহণের টাকা নিয়ে অনিয়ম কঠোর হস্তে দমন করা হবে

    ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেছেন, “ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে অনিয়মের অভিযোগ আসছে যা খুবই দুঃখ জনক; সরকার এসব ব্যাপার খুব কঠোর হস্তে দমন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে”। মন্ত্রী বলেন, ইতেমধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের কাজ শুরু হয়েছে।
    মন্ত্রী আরো বলেন, অনলাইনের মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এতে অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের অর্থ আরও স্বচ্ছতার সাথে প্রদান করা যাবে।

    গতকাল রবিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ রাজস্ব সংক্রান্ত মাসিক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এমপি এসব কথা বলেন।
    ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ৮ ধারার নোটিশের পর ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করে দেওয়ার ব্যাপারে মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের আবারও নির্দেশ দেন।
    আগামী ১৭ মার্চ, থেকে নামজারির জন্যে কোন ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণ করা হবেনা। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের বছরই ভূমি অফিসে নামজারির আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করার প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধ পরিকর – দৃঢ়তার সাথে সাইফুজ্জামান চৌধুরী এ সময় উল্লেখ করেন।
    মন্ত্রী আরও বলেন ল্যান্ড জোনিং প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে। মন্ত্রী এ সময় জোড় দিয়ে বলেন, তিন ফসলী জমিতে চাষাবাদ ছাড়া অন্য কোন ধরণের কাজ করা যাবেনা। এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অনুশাসন আছে। সাইফুজ্জামান চৌধুরী জানান ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের বিভিন্ন পুরনো আইনের সংস্কার দ্রæত গতিতে এগিয়ে চলছে।

    কক্সবাজার জেলার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ রাজস্ব সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের স্থানীয় সংসদ সদস্য জাফর আলম, এমপি, আশেক উল্লাহ রফিক এমপি এবং সাইমুম সরওয়ার কমল, এমপি। কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা সহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজস্ব সভায় উপস্থিত ছিলেন। রাজস্ব সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোঃ হাবিবুর রহমান এবং কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর, সহকারী কমিশনার (ভূমি), কানুনগো এবং তহশিলদারগণ।
    উল্লেখ্য, রাজস্ব সভাতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, কক্সবাজার জেলায় মোট ৬২ টি এল.এ কেসের মাধ্যমে ১৫৫২৮ একর (প্রায়) জমির অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান। ২০১৮ সালে অতিরিক্ত ভূমি মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম হতে সর্বমোট ৫ জন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, ৭ জন অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, ১০ জন কানুনগো ও ৪৮ জন সার্ভেয়ার নিয়োগ/পদায়ন করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন অভিযোগের গৃহীত ব্যবস্থা স্বরূপ ৮ জন সার্ভেয়ার, ২ জন কানুনগো কে বদলী, নিয়মিত বদলীর আওতায় ১১ জন সার্ভেয়ার, ১ জন কানুনগো এবং পদোন্নতি জনিত কারণে ১১ জন সার্ভেয়ার বদলী হয়েছে। মামলাজনিত কারণে ১ জন গ্রেপ্তার, ২ জন পলাতক। বর্তমানে ৩ জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের অধীনে, ৩ জন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, ৫ জন অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, ৭ জন কানুনগো এবং ১৫ জন সার্ভেয়ার কমরত আছে।
    জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির বিশেষ সভা

    রাজস্ব সভার আগে ভূমিমন্ত্রী একই সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃংখলা রক্ষা কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
    আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির বিশেষ সভায় ভূমিমন্ত্রী বলেন, তাঁর কাছে অনেক অভিযোগ আসছে যে বাংলাদেশ থেকে এ দেশের মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বিদেশে অবৈধভাবে গমন করা কিছু কিছু মিয?ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে। এছাড়া, জেলখানায় বাংলাদেশি নাগরিক ও বাস্ত্যুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের আলাদা সেলে রাখার মন্ত্রী মত প্রকাশ করেন – বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা এড়ানোর জন্যে।

    কক্সবাজার জেলার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির বিশেষ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের স্থানীয় সংসদ সদস্য জাফর আলম এমপি, আশেক উল্লাহ রফিক এমপি এবং সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি। কক্সবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সভায় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের প্রতিনিধি, বিজিবি, র?্যাব, কোস্ট গার্ডের অধিনায়কবৃন্দ, কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনীর স্থানীয় প্রধান সহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ বিশেষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ