বুধবার ৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

উখিয়ার অর্ধশতাধিক স্পটে পাহাড় কাটা চলছেই

ভয়াবহ দূর্যোগের আশংকা

রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া   |   বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ ২০২১

ভয়াবহ দূর্যোগের আশংকা

উখিয়ার ৫টি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক স্পটে পাহাড় কাটার মহোৎসব চলছেই। এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী তাদের লালিত শ্রমিক দিয়ে পাহাড় কেটে মাটি পাচার করছে প্রতিনিয়ত। পরিবেশ ও বনবিভাগ নিরব থাকায় বনধ্বংসের সাথে জড়িতরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এনিয়ে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে প্রচন্ড ক্ষোভ ও উত্তেজনা। নির্বিচারে পাহাড় কর্তনের ফলে জীববৈচিত্রের পাশাপাশি পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে হলদিয়াপালং ইউনিয়নের খেওয়াছড়ি এলাকা পাহাড় কাটার সময় মাটি চাপা পড়ে মোঃ আজিজ (২৮) নামের এক যুবক ঘটনাস্থলে মারা গেছে। সে পাতাবাড়ী এলাকার ইসলামের মিয়া ছেলে। এ ঘটনায় বনকর্তা ব্যক্তিরা তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে মাটি পাচারের সাথে জড়িত একটি ডাম্পার জব্দ করেছে বলে বন রেঞ্জ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
সরজমিন ঘুরে ও গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং, বাগানের পাহাড়, জামতলী, মধুরছড়া, ফলিয়াপাড়া, মাছকারিয়া, হরিণমারা, দোছরী, মাইল্ল্যারকুল, দরগাহ বিল, টাইপালং, পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী পানবাজার, টিভি টাওয়ার, গয়ালমারা, রহমতের বিল, ফারির বিল, আনজুমান পাড়া, ধামনখালী, রতœাপালং ইউনিয়নের ভালুকিয়া, পাতাবাড়ী, মধ্য রতœাপালং, তেলীপাড়া, তুলাতলী, আমতলী, হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পাতাবাড়ী, জাফর পল্লানপাড়া, বড়বিল, মৌলভীপাড়া, ধুরুংখালী, নাপিতপাড়া, সেতুনি মার পাড়া, হিন্দুপাড়া, ঘাটিপাড়া, জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাইন্যাশিয়া, লম্বরী, জালিয়াপালং, ইনানী, মোঃ শফির বিল, মাদারবনিয়া, চোয়াংখালী, ছেপটখালী, সোনারপাড়া, নিদানিয়া, মনখালীসহ অর্ধশতাধিক স্পটে পাহাড় কেটে জলাশয়, বিভিন্ন স্থাপনার জায়গা ভরাট ও ইটভাটায় মাটি বিক্রি করা হচ্ছে।
পালংখালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নুরুল আবছার চৌধুরী জানান, এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী তাদের কালো টাকায় বনভূমির জায়গা কমমূল্যে ক্রয় করে জবর দখল পূর্বক মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করছে। এ সব জায়গায় পূর্বের দখলদার বসতিরা প্রতিবাদ করলে তাদেরকে মারধর করা হচ্ছে। এনিয়ে পক্ষেবিপক্ষে থানায় ও বনবিভাগে অভিযোগ করা হলেও কোন কাজ হচ্ছে না। এছাড়াও শফিউল্লাহ কাটা ডালা নামক স্থানে পাহাড় কেটে লক্ষ লক্ষ টাকার মাটি বিক্রি করছে প্রভাবশালী চক্র। বালুখালী নবারুন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নুরুল আমিন ছিদ্দিক অভিযোগ করে জানান, বালুখালী পান বাজারের দক্ষিণে একটি এনজিও সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ বিশালাকার জলাশয় ভরাট করছে। তারা এলাকায় বনভূমির পাহাড় কেটে ডাম্পার গাড়িতে করে প্রকাশ্য দিবালোকে মাটি জলাশয় ভরাট করলেও প্রশাসন নির্বিকার। এব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে, হরিণমারা গ্রামের বদিউল আলমের বসত বাড়ি সংলগ্ন বনভুমির পাহাড় থেকে দিবারাত্রি মাটি কেটে বিভিন্ন এলাকায় মাটি পাচার করা হচ্ছে। প্রতি ট্রাক মাটি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকায়। প্রতিদিন গড়ে একটি স্পট থেকে ১৫/২০ ট্রাক মাটি কেটে দেদারছে বিক্রি করা হচ্ছে। এ হিসেবে বিভিন্ন স্পট থেকে দৈনিক ৭/৮ শত ট্রাকভর্তি মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিশ^স্ত সূত্রে জানা গেছে, বালি ও মাটি পাচারকারী সিন্ডিকেট প্রশাসনের হাত থেকে রেহায় পাওয়ার জন্য প্রায় ১৫ জন দালালকে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর সংলঘœ গেইটের বাইরে দারোয়ান হিসেবে নিযুক্ত করেছে। প্রশাসনের ধরাছোয়ার বাইরে থাকা দারোয়ান নামধারী এসব দালালচক্র কখন কোন কর্মকর্তা কোথায় যাচ্ছে তা মুঠোফোনে সংশ্লিষ্টদের খবর পৌছে দেওয়ার কারণে বালি ও মাটি পাচারে জড়িতরা পার পেয়ে যাচ্ছে।
উখিয়া সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আমিমুল এহসান খান বলেন, দাপ্তরিক কর্মকান্ডে ব্যস্ত থাকার কারণে অনেক সময় অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। তথাপিও খবর পেলে তাৎক্ষনিক ভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি ও বালি ভর্তি ডাম্পার সহ সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ মোঃ নাজমুল হুদা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে যে সমস্ত পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে তা সরেজমিন তদন্তপূর্বক সংশ্লিস্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অচিরেই এলাকা ঘুরে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী মোঃ শফিউল আলম বলেন, এলাকায় বনভূমির পাহাড় কেটে মাটি পাচার, বালু উত্তোলনকারী ও বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ভাবে প্রতিষ্ঠিত স’মিল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলার বনবিভাগীয় কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। যেহেতু বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে গেলে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিষ্ট্রেট ও পুলিশ সহ জনবলের প্রয়োজন রয়েছে।

Comments

comments

Posted ২:৪৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

(368 বার পঠিত)

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com